সর্বশেষ আপডেট : ২ মিনিট ১ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

রক্তাক্ত ভোট, ৬ লাশ

46নিউজ ডেস্ক ::
আখাউড়ায় পুলিশের সামনেই ব্যালট বাক্স ছিনতাইআবারও রক্তাক্ত হলো ভোটের মাঠ। সংঘর্ষ, সংঘাত, হামলা, আক্রমণ আর গুলিতে ঝরে পড়লো ৬ প্রাণ। আর কেন্দ্রে কেন্দ্রে ব্যালটে সিল মারা, প্রভাবশালীদের দাপট, প্রশাসনের পক্ষপাতিত্ব ছিল প্রকাশ্যে। শেষ তিন ধাপের ধারাবাহিকতা বজায় ছিল চতুর্থ ধাপেও। সকালে ভোট শুরু হতে না হতেই কোনো কোনো কেন্দ্র দখলে নিয়ে নেয় সরকারদলীয় প্রার্থী ও তার সমর্থকরা। ভোটাররা তাদের ভোট দিতে পারেননি বহু জায়গায়। কোথাও কোথাও আগের রাতেই সিলমারা হয় ব্যালটে। এ অবস্থায় নির্বাচন বর্জন করেছে অনেক প্রার্থী। সিল মারার অভিযোগে প্রিজাইডিং অফিসার প্রত্যাহারের ঘটনাও ঘটেছে। চট্টগ্রামে ব্যালট পেপার ছিনতাই করতে গিয়ে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হয়েছে মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নূরুল আজিম রনি। লক্ষ্মীপুরে প্রকাশ্যে সিল মারার অভিযোগে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারসহ ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। ব্রাহ্মণপাড়ায় দুই মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে নিহত হয়েছে এক যুবক। রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে ২ জন। পাবনায় বিএনপির ৪ প্রার্থী ভোট বর্জন করেছেন। যেখান থেকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে এক যুবককে। নরসিংদীতে বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ঠাকুরগাঁওয়ে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন একজন। গাইবান্ধার সাদুল্ল্যাপুরের ধাপের হাটে নির্বাচনপরবর্তী সহিংসতায় রাতে মারা গেছে একজন।

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী থেকে জানান, রাজশাহীর বাগমারার আউচপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামী লীগের মনোনীত ও বিদ্রোহী প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশের গুলিতে অন্তত দুইজন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন অর্ধ শতাধিক। নিহতরা হলেনÑ সিদ্দিকুর রহমান (৩০) ও জাহিদুল ইসলাম বুলু। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল শনিবার বিকালে আউচপাড়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী সরদার জান মোহাম্মদ ও বিদ্রোহী প্রার্থী শহিদুল ইসলামের লোকজন মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলো। বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে ইউনিয়নের হাটগাঙ্গোপাড়া বাজারে দুই গ্রুপ ধারালো দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নিলে তাদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে ধাওয়া- পাল্টা ধাওয়া হয়। থানায় খবর দেয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। এ সময় আওয়ামী লীগের প্রার্থী জান মোহাম্মদের সমর্থকরা মিছিল করার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ধাওয়া দেয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ গুলি ছোড়ে। এতে আওয়ামী লীগ কর্মী সিদ্দিকুর রহমান ও বুলু ঘটনাস্থলে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। এ সময় আরও অর্ধশত ব্যক্তি আহত হন।

স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা থেকে জানান, কেন্দ্র দখল, ব্যালট বাক্স ছিনতাই, এজেন্টকে মারধর, অবাধে জাল ভোট, গুলি, ককটেল বিস্ফোরণ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মধ্য দিয়ে কুমিল্লার ৪টি উপজেলার ৪৩টি ইউনিয়নের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। ভোট চলাকালে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের উত্তর চান্দলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের বাইরে আওয়ামী লীগ সমর্থিত দুই মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের মাঝে সংঘর্ষের ঘটনায় তাপস চন্দ্র দাস (৩৪) নামের এক যুবক নিহত হয়েছে। এছাড়াও ব্যালট বাক্স ছিনতাই, কেন্দ্র দখল ও প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের সহায়তায় নৌকা প্রতীকে সিল মারার অভিযোগে চৌদ্দগ্রাম, ব্রাহ্মণপাড়ায় ২টি, চান্দিনায় ৪টি এবং মনোহরগঞ্জে ২টি ভোটকেন্দ্র স্থগিত করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, সোয়া ১০টার দিকে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের উত্তর চান্দলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের বাইরে মেম্বার প্রার্থী সুলতান আহাম্মদ ও রেজাউল করিমের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় মেম্বার প্রার্থী রেজাউলের সমর্থক তাপস চন্দ্রকে কুপিয়ে ঘটনাস্থলেই হত্যা করা হয়। নিহত তাপস চান্দলা গ্রামের কানু চন্দ্র দাসের পুত্র এবং পেশায় একজন রাজমিস্ত্রী। নিহতের পরিবার এ হত্যাকা-ের জন্য মেম্বার প্রার্থী সুলতান আহাম্মদের সমর্থকদের দায়ী করেছেন। এদিকে নৌকা প্রতীকে সিল মারায় সহায়তা করাসহ নানা অভিযোগে চৌদ্দগ্রাম, মনোহরগঞ্জ, চান্দিনা ও ব্রাহ্মণপাড়ায় ৪ প্রিজাইডিং অফিসারকে আটক করা হয়েছে। এছাড়াও ভোটকেন্দ্র দখল, এজেন্ট মারধর ও অবাধে জাল ভোটের অভিযোগে চৌদ্দগ্রামে ১২ জন এবং মনোহরগঞ্জে ৪ জন বিএনপি, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সংবাদ সম্মেলন করে ভোট বর্জন করেছেন।

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি জানান, ঠাকুরগাঁও বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার পাড়িয়া ইউনিয়নের কালডাঙ্গা দাখিল মাদ্রাসায় ভোটকেন্দ্রে পুলিশের গুলিতে মাহবুব হোসেন পল্টু (৩২) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। পল্টু ঝিগরগাছা গ্রামের আবদুুল জব্বারের ছেলে। দুপুরে ওই কেন্দ্রে দুই মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা গুলিবর্ষণ করে। ওই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করে প্রশাসন। এদিকে ঠাকুরগাঁও সদর কাজীপাড়া ইমারত উল্লাহ ফোরকানিয়া মাদ্রাসা সকাল সাড়ে ১১টায় বৃষ্টিপাত শুরু হলে মেম্বার প্রার্থীর লোকজন ব্যালট পেপার ছিনতাই করে। এ সময় অপর দুই প্রার্থীর সমর্থকরা বাধা দেয়। এ নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অন্যদিকে সকাল ১১টায় সদর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের মটড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে অতিরিক্তি পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এখানে কমপক্ষে ৭ জন আহত হয়।

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি জানান, লক্ষ্মীপুর সদর ও রায়পুর উপজেলার ৮ ইউনিয়নের ৬৮টি কেন্দ্রের বেশির ভাগ কেন্দ্রে প্রকাশ্যে সিল মারার মধ্য দিয়ে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। বিশেষ করে সদর উপজেলার শাকচর ও টুমচর এবং রায়পুর উপজেলার কেরোয়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীর নৌকা মার্কায় প্রকাশ্যে সিল মারে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এছাড়াও দলীয় ইউপি সদস্যরাও নিজেদের প্রতীকে একই ভাবে প্রকাশ্যে সিল মারতে দেখা গেছে। ছিল না প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কোনো এজেন্ট। এছাড়া সকাল ৯টার দিকে রায়পুরে উত্তর বামনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সদরে টুমচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে দুই ইউপি সদস্য প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ১১টায় সদর উপজেলার টুমচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ইউপি সদস্য কামাল উদ্দিন ও ইছমাইল হোসেনের সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়। এদিকে কেন্দ্র দখল করে প্রকাশ্যে নৌকা মার্কায় সিল মারার অভিযোগ রায়পুরের কেরোয়া ইউনিয়নের মনছুরা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোট স্থগিত করা হয়েছে। এ সময় সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারসহ ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে নৌকা মার্কায় সিল মারার ব্যালট পেপার। এছাড়া শাকচর হামিদিয়া নূরানী মাদ্রাসা কেন্দ্র প্রকাশ্যে কেন্দ্র দখল করে জাল ভোট মারার অভিযোগে হেলাল উদ্দিন, জাকির হোসেন, রুবেল, টুমচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র থেকে রিয়াজুল ইসলাম নামে নৌকা মার্কার পলিং এজেন্টকে আটক করা হয়েছে। এর আগে দক্ষিণ কালীরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র থেকে ইউপি সদস্য প্রার্থী আবু তাহেরকে আটক করা হয়।

ফেনী প্রতিনিধি জানান, ফেনী সদর ও ছাগলনাইয়া উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পুলিশের এক উপ-পরিদর্শকসহ ১১ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। কেন্দ্র দখল ও জাল ভোটের অভিযোগে সদর উপজেলার ধলিয়া ইউনিয়নে বিএনপি’র চেয়ারম্যান প্রার্থী জাকির হোসেন জসিম নির্বাচন বর্জন করেছেন। জাল ভোট ও কেন্দ্রে অবৈধ প্রবেশের দায়ে দুই ব্যক্তিকে এক মাস করে কারাদ- দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এছাড়া বিভিন্ন কেন্দ্রে জোরপূর্বক ব্যালটে সিল মারার অভিযোগে ৫ শতাধিক ব্যালট বাতিল করেছে প্রিজাইডিং কর্মকর্তারা। দুপুরে সদর উপজেলার ধলিয়া ইউনিয়নের অলিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুর্বৃত্তরা হামলা চালালে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় দুর্বৃত্তদের ছোঁড়া শট গানের গুলিতে মোহাম্মদ ইয়াছিন নামে পুলিশের এক উপ-পরিদর্শক গুলিবিদ্ধ হন। এছাড়া ছাগলনাইয়া উপজেলার মহামায়া ইউনিয়নে উত্তর সতর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুই ইউপি সদস্য প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে ৬ জন ও শুভপুর ইউনিয়নের জগন্নাথ সোনাপুর কেন্দ্রে ভোট শুরুর আগে কেন্দ্রে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ৪ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। এদিকে এই ইউনিয়নের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জাকির হোসেন জসিম সরকারি দলের বিরুদ্ধে কেন্দ্র দখল করার অভিযোগ এনে সকাল সাড়ে ১১টায় নির্বাচন বর্জন করেন। ছাগলনাইয়ার জগন্নাথ সোনাপুর কেন্দ্রে ইউপি সদস্য প্রার্থী শাহ আলম ও তার স্ত্রী হোসনে আরা বেগমকে প্রতিপক্ষ কুপিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করেছে। ছাগলনাইয়ার গোপাল ইউনিয়নের নিজকুঞ্জরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সিল মারা তিনশ’ ব্যালট জব্দ করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এই ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী আজিজুল হককে সরকার দলীয় সমর্থকরা শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করেছেন।

রায়পুরা (নরসিংদী) প্রতিনিধি জানান, নরসিংদীর রায়পুরায় নির্বাচন চলাকালে প্রতিপক্ষের টেঁটার আঘাতে হোসেন আলী (৫০) নামে একজন নিহত হয়েছেন। এ সময় বিভিন্ন ইউনিয়নে দুদলের সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ২০ জন। পাড়াতলী ইউনিয়নের মধ্যনগর উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আওয়ামী লীগর বিদ্রোহী প্রার্থী জাকির হোসেনের সমর্থকরা জোরপূর্বক ব্যালটে সিল মারতে গেলে আওয়ামী লীগ সমর্থিত নৌকার লোকজন বাধা দেয়। একপর্যায়ে টেঁটাযুুদ্ধ শুরু হয়। পরে জাকির হোসেনের সমর্থক হোসেন আলী টেঁটাবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে মধ্যনগর গ্রামের আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান মাসুর সমর্থকদের প্রায় শতাধিক বসতঘর ভাঙচুরসহ অগ্নিসংযোগ করা হয়। অপরদিকে মরজাল ইউনিয়নে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আমজাদ হোসেন রশীদ উল্লাহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ এনে ভোট বর্জন করেছেন।

স্টাফ রিপোর্টার, মুন্সীগঞ্জ থেকে জানান, ভোটকেন্দ্র দখল, গুলি, জালভোট প্রদানের মধ্য দিয়ে মুন্সীগঞ্জের সদর ও টঙ্গীবাড়ী উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। সদরের রামপাল ছিল আওয়ামী লীগ প্রার্থীর দখলে। পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, সকাল থেকেই রামপালের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র দখলে নেয় নৌকার প্রার্থী মোশারফ হোসেন মোল্লা। তার পক্ষে কেন্দ্র দখলসহ দিনভর চলে জালভোটের উৎসব। সকাল ১০টায় পানাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. বাচ্চু শেখের আনারস প্রতীকের সমর্থক মেম্বার প্রার্থী আশাদুজ্জামান বাবুলকে নৌকার সমর্থকরা পিটিয়ে ও কুপিয়ে কেন্দ্র দখল করে। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মিলকীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে মিছিল নিয়ে নৌকার সমর্থকরা ঢুকে সিল মারতে থাকে। এ সময় পুলিশ বাধা দিলে এএসআই রবিউলের মাথা ফাটিয়ে দেয় নৌকার সমর্থকরা। ছিনতাই করে নেয় পুলিশের নাইন এমএম পিস্তলের ৮ রাউন্ড গুলিসহ ম্যাগাজিন। এ সময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১০-১২ রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বিজয় কুমার সিংহ নৌকার সমর্থক সাদ্দামকে ৩ মাসের কারাদ- দেয়। বেলা সাড়ে ১০টায় রামপালের উত্তর কাজী কসবা কাজীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সেøাগান দিয়ে মিছিল নিয়ে নৌকা মার্কার সমর্থকরা কেন্দ্র দখল করে সিল মারতে থাকে। এ সময় আনারস প্রতীকের সমর্থকরা মোরগ প্রতীকের মেম্বার প্রার্থী ফুলনকে বাধা দিলে দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১৫ রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে। পরে এ কেন্দ্রে ভোট স্থগিত ঘোষণা করে দুপুর পৌনে ১২টার দিকে নির্বাচনী সরঞ্জাম সরিয়ে নেয়া হয়।

ছাগলনাইয়া (ফেনী) প্রতিনিধি জানান, ব্যালট বাক্স ছিনতাই, নির্বাচনী কর্মকর্তাদের মারধর, কেন্দ্র দখল, জালভোট, গুলি ও ব্যাপক সংর্ষের মধ্য দিয়ে গতকাল শনিবার ফেনীর ছাগলনাইয়ার পাঁচটি ইউনিয়নে নির্বাচন হয়েছে। নির্বাচনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অধিকাংশ কেন্দ্রে বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকরা দাঁড়াতেই পারেনি। সংঘর্ষে প্রার্থীসহ গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন ২৫ জন। অনেক কেন্দ্রে সকাল ১১টার আগেই ভোট শেষ হয়েছে বলে বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অভিযোগ। ধানের শীষ ও আনারস প্রতীকের কোনো এজেন্টকে পাওয়া যায়নি। শুভপুর ইউনিয়নের শুভপুর বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দেখা গেছে, নির্বাচন কর্মকর্তরা অলস সময় কাটাচ্ছেন। লাইন ও বুথে ভোটার নেই। এ কেন্দ্রেও বিএনপি প্রার্থী কামাল উদ্দিনের ধানের শীষ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মহিউদ্দিনের আনারস প্রতীকের এজেন্ট ছিল না। এ কেন্দ্র থেকে বের হয়ে আসার পথে চম্পকনগর রাস্তার মাথায় দেখা হয় প্রার্থী কামাল উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি সাংবাদিকদের জানান, বহিরাগতদের ভয়ে কেন্দ্রে ঢুকতে পারছেন না এবং বেশ কিছু কেন্দ্র থেকে তার এজেন্ট ও সমর্থকদের বের করে দেয়া হয়েছে।

নাটোর প্রতিনিধি জানান, নাটোরের নলডাঙ্গার খাজুরা ইউনিয়নের বিএনপি প্রার্থী জহুরুল ইসলাম ভুট্টু ভোট বর্জন করেছেন। শনিবার সকাল ১০টার দিকে তিনি ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন ধানের শীষের এই প্রার্থী। এছাড়া বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোট কারচুপি, ভোট প্রদানে বাধা, এজেন্টদের বের করে দেয়া, হুমকি এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে প্রতিকার না পাওয়াসহ নানা অভিযোগ ওঠে। বিএনপি প্রার্থী জহুরুল ইসলাম জানান, সকাল থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্রে তার এজেন্টদের হুমকি, প্রকাশ্যে ভোট প্রদানে বাধ্য করা এবং ব্যালট কেড়ে নিয়ে ভোট প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া ভোটকেন্দ্রে যেতেও ভোটারদের বাধা প্রদান করা হচ্ছে। বিষয়টি প্রশাসনকে জানিয়েও তেমন কোনো সমাধান মিলছে না। তাই তিনি ভোট বর্জন করছেন।

কুলিয়ারচর প্রতিনিধি জানান, কুলিয়ারচরে পুলিশ-জনতা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে মেম্বার প্রার্থীসহ ২০ জন আহত হয়েছে। ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের অভিযোগে দুই কেন্দ্রে ভোট স্থগিত করা হয়েছে। জানা যায়, ভোট শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উপজেলার রামদী ইউনিয়নের খালখাড়া কোনাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৬নং ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী মো. মতিউর রহমান ও মুহাম্মদ মজিবুর রহমানের কর্মী সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সময় ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের অভিযোগে ভোটকেন্দ্র স্থগিত করা হয়। সংঘর্ষে ৬নং ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী মুহাম্মদ মজিবুর রহমানসহ ৫ জন আহত হয়। বেলা ১টার দিকে ছয়সূতি ইউনিয়নের কলাকুপা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের অভিযোগে ওই কেন্দ্রের ভোটগ্রহণও স্থগিত করা হয়। বেলা পৌনে ৩টার দিকে ছয়সূতি ইউনিয়ন উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রকাশ্যে সিল মারা হচ্ছেÑ এমন সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা কেন্দ্র অবরোধ করে কেন্দ্রের ভিতরে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে শুরু করে। এ সময় ভৈরব-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কে কিছু সময়ের জন্য যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ইটপাটকেলের আঘাতে এএসপি মো. জামাল উদ্দিন, কুলিয়ারচর থানার ওসি (তদন্ত) আবু বক্কর ছিদ্দিকসহ ৫ পুলিশ সদস্য আহত হয়। এছাড়া ৩নং ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী মো. মিলন মিয়া আহত হয়। খবর পেয়ে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মশিউর রহমান খান এবং মিঠামইন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আজিজ হায়দার ভূঁইয়া, স্টাইকিং পুলিশ ও বিজিবি এসে উত্তেজিত জনতার ওপর লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি জানান, পার্বতীপুরে কেন্দ্র দখল করে জালভোট দেয়ায় একটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। পার্বতীপুরে ইউনিয়ন পরিষদে ভোট শুরুর কিছুক্ষণ পরই বেলাইচ-ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী কৃষিবিদ নুর মো. রাজা সদলবলে ৮নং কৈপুলকি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করে জোরপূর্বক ব্যালট পেপার নিয়ে সিল মারা শুরু করে। এ সময় নির্বাচন কর্মকর্তারা বাধা দেয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। পরে প্রশাসনের লোকজন জানতে পেয়ে কেন্দ্রের ভোটগ্রহন স্থগিত করে সবকিছু নিয়ে নির্বাচন অফিসে চলে আসে। ওই কেন্দ্রের ৮টি বুথে ২৭৮৫ জন ভোটারের ভোট গ্রহণের কথা ছিল। উল্লেখ্য, উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে ৮টি ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ করা হয়।

স্টাফ রিপোর্টার, পাবনা থেকে জানান, পাবনার সুজানগর ও আটঘরিয়া উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নে চতুর্থ পর্যায়ের নির্বাচনে চার বিএনপি প্রার্থী ও এক স্বতন্ত্র প্রার্থী ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। এছাড়া বেশকটি কেন্দ্রে সংঘর্ষে আহত হয়েছে কমপক্ষে ১০ জন। নির্বাচন বর্জন করা প্রার্থীদের দাবি, সরকারদলীয় প্রার্থীর সমর্থকরা কেন্দ্র দখলসহ জাল ভোট প্রদান, ব্যালট পেপারে আগে থেকে সিল মেরেছে। এদিকে ভোট চলাকালে দুপুরে সুজানগরের একটি কেন্দ্রের বাইরে থেকে পুলিশ আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিসহ এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশের পাবনা সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার শেখ সেলিম জানান, ভোট চলাকালে সুজানগর উপজেলার নাজিরগঞ্জ ইউনিয়নের নয়াগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের বাইরে থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও ৪ রাউন্ড গুলিসহ টিটু (৩২) নামের এক যুবককে আটক করা হয়েছে।

চাঁদপুর প্রতিনিধি জানান, মতলব দক্ষিণ ও শাহরাস্তি উপজেলার ১০ ইউনিয়নের নির্বাচনে কয়েকটি স্থানে চেয়ারম্যান ও মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে কমপক্ষে ৫০ জন আহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ৪০ রাউন্ড শটগানের ফাঁকা গুলি ছুড়েছে। সকাল ৮টা থেকে মতলব দক্ষিণ উপজেলার ৪ ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। এ সময় নারী-পুরুষ ভোটারের উপস্থিতি ছিল অনেক বেশি। কিন্তু সকাল ৯টার পর থেকে ভোটাররা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও কেন্দ্রের ভেতর জোরপূর্বক শুরু হয় ব্যালটে সিল মারা। মতলব দক্ষিণ উপজেলার বহরি উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার কামাল উদ্দিন জানান, শনিবার সকাল থেকে ভোটারদের উপস্থিতি ভালো ছিল। কিন্তু সকাল ১০টায় দুই মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার পর সব ভোটার চলে যায়। এ সময় নৌকা মার্কার সমর্থকরা সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারদের হাত থেকে ব্যালট পেপার কেড়ে নিয়ে সিল মারতে থাকে। তখন র‌্যাব-১১-এর টহল সদস্যরা এলে বহিরাগতরা কেন্দ্র ছাড়ে এবং সাময়িকভাবে ভোটগ্রহণ বন্ধ থাকে। একই ইউনিয়নের মধ্যনওগাঁও উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার কবির হোসেন ও নওগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার বোরহান উদ্দিন জানান, সকাল থেকে সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ হলেও দুপুর ১টা থেকে মেম্বার প্রার্থীদের সমর্থকদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়। নায়েরগাঁওয়ের তুষপুর ও বারোগাঁও কেন্দ্রে ব্যালট ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া শাহরাস্তি উপজেলার চিতশী ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ-বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষে আহত হয়েছে ১০ জন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ৯ রাউন্ড গুলি ছুড়েছে।

স্টাফ রিপোর্টার, মানিকগঞ্জ থেকে জানান, ভোট কারচুপি, কেন্দ্র দখল ও পোলিং এজেন্টদের মারধর করে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়ায় মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার চার ইউনিয়নে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা ভোট বয়কট করেছেন। এরা হলেনÑ ধল্ল্যা ইউনিয়নে বিএনপি প্রার্থী আব্দুল আলী, জয়মন্টপ ইউনিয়নে খান মোহাম্মদ হাবিবুল আলম, বায়রা ইউনিয়নে মো. সেলিম মিয়া ও তালেবপুর ইউনিয়নে মুন্সী সুলতান মাহমুদ। এছাড়া ধল্ল্যায় বিএনপির প্রার্থীর বাড়িতে হামলা চালিয়েছে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কর্মী সমর্থকরা। বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী আব্দুল আলী অভিযোগ, সকাল থেকে তার ইউনিয়নের ৯টি ভোটকেন্দ্রে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ও তার লোকজন দখলে নেয়। এরপর পোলিং এজেন্টদের মারধর করে কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়ে জাল ভোট দিতে থাকে। এ অবস্থায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কোনো ভাবেই সম্ভব না হওয়ায় তিনি ভোট বর্জন করেছেন বলে জানান। এছাড়া ভোট বয়কটের পরপরই প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগের প্রার্থীর লোকজন তার বাড়ি গিয়ে হামলা চালায়। এতে বিএনপির প্রার্থীর পরিবারে নারীসহ ৫ জন আহত হয়েছেন। জয়মন্টপ ইউনিয়নে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ আলী জানান, সরকার সমর্থিত প্রার্থী শাহাদাত হোসেনের লোকজন জয়মন্টপ ইউনিয়নের চর দূর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভাকুম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খানবানিয়ারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রায়দক্ষিণ কহিনূর উচ্চ বিদ্যালয়, পশ্চিম ভাকুম মাদরাসা ভোটকেন্দ্র দখল করে ব্যাপক ভোট কারচুপি করে। এছাড়া ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনী এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়। এসব বিষয়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করা হলে কোনো সমাধান না পেয়ে ভোট বর্জনের সিদ্ধান্ত নেন বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান। বায়রা ইউনিয়নের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সেলিম জানান, সকালে তার কয়েকটি ভোটকেন্দ্রে পোলিং এজেন্টদের ঢুকতে দেয়নি আওয়ামী লীগের প্রার্থীর লোকজন। এছাড়া কয়েকটি কেন্দ্রে তার পোলিং এজেন্টদের বের করে দিয়ে নৌকায় সিল মারা হয় এবং ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে ভয়ভীতি দেখানো হয়। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের জানানো হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় বাধ্য হয়ে ভোট বর্জন করা হয়েছে। এছাড়া তালেবপুর ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী মুন্সী সুলতান মাহমুদ একই অভিযোগে ভোট বর্জন করেছেন। এদিকে বিকাল ৩টার দিকে সাটুরিয়া উপজেলার দিঘুলীয় ইউনিয়নের ইনাম ফোরকানীয়া মাদরাসা ভোটকেন্দ্রে আওয়ামী লীগ ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর কর্মী সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুল ওহাব খোকনের কর্মী মুজিবর রহমান নামের একব্যক্তিসহ তিনজন আহত হয়েছেন।
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি জানান, জাল ভোট দেয়া, ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আসতে বাধা প্রদান ও পোলিং এজেন্টদের বের করে দেয়ার মধ্য দিয়ে শনিবার ঝিনাইদহ সদর ও হরিণাকু-ু উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে নির্বাচন শেষ হয়েছে। ভোটগ্রহণ চলাকালে ভোটকেন্দ্র থেকে পোলিং এজেন্টদের বের করে দেয়ার অভিযোগ করেছেন বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। তারা জানিয়েছেন, প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছে এই অভিযোগ করেও তারা কোনো প্রতিকার পাননি। তবে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা জানিয়েছেন ভোট সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবেই অনুষ্ঠিত হয়েছে। এদিকে সদর উপজেলার ফুরসন্দি ইউনিয়নের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আজিজুর রহমান ম-ল ভোটারদের হুমকি, কেন্দ্রে আসতে বাধা প্রদান ও জাল ভোট দেয়ার অভিযোগে বেলা ৩টায় নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। অপরদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জাল ভোট দেয়ার অভিযোগে মহিলাসহ চার ব্যক্তিকে কারাদ- দেয়া হয়েছে। জেলা নির্বাচন অফিসার জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, হরিণাকু-ু উপজেলার কাপাসহাটিয়া ইউনিয়নে শীতলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জাল ভোট দেয়ার অপরাধে মোতালেব জোয়াদ্দার (২৫) নামে আ’লীগ কর্মীকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদ- দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই ভাবে সদর উপজেলার কালিচরনপুর ইউনিয়নের উত্তর-কাষ্টসাগরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জাল ভোট দেয়ার সময় আল-আমিন নামের এক ব্যক্তিকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদ- দেয়া হয়।

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি জানান, কুলাউড়া টিলাগাঁও ইউনিয়নের বাগৃহাল ভোটকেন্দ্রে জালভোট দেয়ার চেষ্টাকালে আব্বাস আলী (২২) নামক একজনকে ৬ মাসের সশ্রম কারাদ- দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বাগৃহাল ভোটকেন্দ্র বেলা ২টার দিকে আব্বাস আলী ভোট দিতে যান। তখন কেন্দ্রের ভেতরে থাকা জনৈক এজেন্ট থাকে জাল ভোটার হিসেবে দাবি করে চ্যালেঞ্জ করেন। এরপর আব্বাসকে জনতা আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিলে জাল ভোটারের বিষয়টি প্রমাণিত হয়। খবর পেয়ে মৌলভীবাজারের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঈন উদ্দিন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আব্বাসের ৬ মাসের সশ্রম কারাদ- ও ৫শ টাকা জরিমানা করেন। জরিমানা অনাদায়ে আরো ১৫ দিনের সশ্রম কারাদ-ে দ-িত করেন।

জামালপুর প্রতিনিধি জানান, বকশীগঞ্জ উপজেলার সাধুরপাড়া ইউনিয়নে নির্বাচনের আগের দিন রাতে নৌকা প্রতীক ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত একজন মেম্বার প্রার্থী জাল ভোট প্রদান করে ব্যালটবাক্স ভর্তি করে রাখার অভিযোগে নজরুল ইসলাম উচ্চবিদ্যালয় ও আর্চকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট গ্রহণ স্থগিত ঘোষণা করা হয়। এ ঘটনায় কেন্দ্র দুটির প্রিজাইডিং কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান ও আকরামুজ্জামান বাদী হয়ে অজ্ঞাত ৬০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। অপরদিকে মাদারগঞ্জ উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়নে দুদিয়াগাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে জালভোট দেয়াকে কেন্দ্র করে দুই মেম্বার প্রার্থীর মধ্যে সংঘর্ষ বাধলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ৩২ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। এ সময় এক মহিলা আনসার সদস্যসহ দুজন আহত হয়। এছাড়া কড়ইচূড়া ইউনিয়নে জাল ভোট প্রদান ও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ এনে বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী আবুল হোসেন সুরুজ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: