সর্বশেষ আপডেট : ১০ মিনিট ৩৫ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বাস চালকের ছেলে থেকে লন্ডনের মেয়র

141781_1প্রবাস ডেস্ক:: লন্ডনের মেয়র নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী সবাইকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে লন্ডনের প্রথম মুসলিম মেয়র হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন লেবার পার্টির প্রার্থী সাদিক খান। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কনজারভেটিভ টোরি দলের জ্যাক গোল্ডস্মিথকে ১৩.৬ শতাংশ ভোটের ব্যবধানে হারিয়েছেন তিনি।

এমন ঐতিহাসিক জয় পাওয়া এ সাদিকের শুরুর জীবনটা মোটেও কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না। লন্ডন অভিবাসী এক পাকিস্তানী নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম হয়েছিল তার। বাস চালক বাবা আমানুল্লাহ ও দর্জি মা সেহেরুন খানের আট সন্তানের মধ্যে পঞ্চম ছিলেন তিনি।

ছোটবেলা থেকেই ওই শিশুটির মধ্যে ছিল কঠিন সব বাধা পেরিয়ে নিজের জন্য এবং নিজের কাছে গুরুত্বপূর্ণ – এমন বিষয়গুলোর জন্য সাফল্য ছিনিয়ে আনার দৃঢ় সংকল্প। এই দৃঢ়চিত্তই তাকে এনে দিয়েছে লন্ডনের মেয়র নির্বাচনে বিজয়, যেখানে তার অর্জিত ভোট যুক্তরাজ্যে একক ভোটলাভের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সংখ্যার রেকর্ড গড়েছে।

‘বাস চালকের ছেলে’ – কথাটি অসংখ্যবার ব্যবহার হয়েছে তার রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে। এমনকি তার নিজের নির্বাচনী প্রচারণা ও বক্তৃতায়ও বহুল ব্যবহৃত একটি বুলি এটি।

সাদিক খান প্রায়ই বলতেন, কর্মক্ষেত্র সম্পর্কে তার প্রাথমিক ধারণা এসেছে ট্রেড ইউনিয়ন থেকে। তার বাবা আমানুল্লাহ টানা ২৫ বছর বাস চালক থাকা অবস্থায় একটি ইউনিয়নের সদস্য ছিলেন। এজন্য তিনি ঠিকঠাক বেতন ও সুযোগ-সুবিধা পেতেন। তবে ঘরে বসে সেলাইয়ের কাজ করা মা সেহরুন খান ঠিকমতো পারিশ্রমিক পেতেন না।

ছয় ভাই, এক বোন এবং বাবা-মায়ের সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিম লন্ডনের আর্লসফিল্ডের হেনরি প্রিন্স এস্টেটে তিন বেডরুমের ছোট একটি বাড়িতে থাকতেন সাদিক খান। ২০ বছর বয়স পর্যন্ত একটি সিঙ্গেল খাট নিজের ভাইয়ের সাথে শেয়ার করে ঘুমাতেন সাদিক।

স্থানীয় আর্নেস্ট বেভিন কলেজে লেখাপড়া করেন তিনি। সেখানেই তিনি প্রথম রাজনীতির দিকে ঝুঁকে পড়েন। মাত্র ১৫ বছর বয়সে লেবার পার্টিতে যোগ দেন সাদিক।

রাজনীতিতে অংশ নেয়ার পেছনে সাদিক কৃতিত্ব দেন তার সেই স্কুলের প্রধান শিক্ষক নাজ বোখারিকে। যুক্তরাজ্যের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম প্রধান শিক্ষক এই নাজ বোখারিই সাদিককে প্রথম উপলব্ধি করিয়েছিলেন, ‘গায়ের রঙ বা পারিবারিক প্রেক্ষাপট তোমার জীবনকে গড়ে তোলার পথে বাধা নয়।’

প্রথমে দাঁতের ডাক্তার হওয়ার ইচ্ছা থাকলেও এক শিক্ষকের পরামর্শে সেই ইচ্ছা বাদ দিয়ে আইন নিয়ে পড়ার সিদ্ধান্ত নেন সাদিক। ওই শিক্ষক তাকে বলেছিলেন, ‘তুমি সারাক্ষণ তর্ক করো’।

সাদিক খান কখনো তার মুসলিম ধর্মবিশ্বাসকে লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করেননি। বরং এমপি হিসেবে দেয়া প্রথম বক্তব্যে তার বাবার শেখানো মোহাম্মদ (সা.)-এর হাদিস নিয়েও কথা বলেন।

গত বছর যখন লেবার পার্টির বাঘা বাঘা রাজনীতিকরা নিজ দল থেকে লন্ডনের মেয়র পদে নির্বাচনে দাঁড়ানোর জন্য লড়ছেন, সাদিক খান তখন সেদিক দিয়ে একজন চুনোপুঁটিই বলা যায়। মেয়র পদের ধারে কাছেও তাকে কেউ ভাবছে না। বেশিরভাগের দৃষ্টি ছিল টনি ব্লেয়ার আমলের ঝানু রাজনীতিক ব্যারোনেস জোয়েলের দিকে।

কিন্তু সাদিক খান শুধু ব্যক্তি জীবনেই নন, কর্মজীবনেও বার বার সেই পেছন থেকেই সামনে উঠে এসেছেন। মেয়র নির্বাচনেও তার ব্যতিক্রম নেই। সবার অসমর্থিত এক প্রার্থী থেকে হয়ে উঠলেন লন্ডনের মেয়র।

সূত্র: এপি

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: