সর্বশেষ আপডেট : ৩ মিনিট ৫৮ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

গাড়ির হেলপার থেকে কোটিপতি মোদাচ্ছের

moderser320160506094035নিউজ ডেস্ক::
চাঁদের গাড়ির হেলপার থেকে কোটিপতি বনে গেছেন সন্ত্রাসী মোদাচ্ছের। রাঙ্গুনিয়ার ত্রাস শামশু বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড এবং অস্ত্রভাণ্ডার রক্ষক হিসেবেও রয়েছে তার বেশ সুখ্যাতি। বুধবার সেনাবাহিনীর হাতে অস্ত্রসহ আটকের পর বেরিয়ে আসতে শুরু করেছেন তার সব অজানা কাহিনী।

আনিসুল ইসলাম ওরফে মোদাচ্ছের (৩০) উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। এক যুগ আগে তিনি রানীরহাট সড়কের চাঁদের গাড়ির হেলপার ছিলেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, ১০-১২ বছর আগেও সন্ত্রাসী মোদাচ্ছেরের পরিবারে চুলা জ্বালাতে হিমশিম খেতে হত। সে মোদাচ্ছের এখন ইসলামপুর ইউনিয়নের পেয়ার মোহাম্মদ চৌধুরী বাড়ির ফুলতলী এলাকায় দুটি পাকা ভবনের মালিক।

জমির মালিক হয়েছেন ১০-১২ একরেরও বেশি জমির। কয়েকটি ইটভাটায় প্রায় ২ কোটি টাকার শেয়ার কিনেছেন রাতারাতি কোটিপতি বনে যাওয়া মোদাচ্ছের।

গত বুধবার ( ০৪ মে) ভোররাতে রাঙামাটি সদর জোনের সেনা সদস্যরা তাকে নিজ বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গুলিসহ আটকের পর পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। এরপর পুলিশ দিনভর তাকে নিয়ে রীতিমত শুরু করে লুকোচুরি খেলা। গণমাধ্যম কর্মীরা তার আটকের বিষয়টি নিশ্চিত হতে থানায় ফোন করলে ওসি বিষয়টি একেবারেই অস্বীকার করেন।
রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবিরের নিকট বিষয়টির সত্যতা জানতে চান। তিনি বলেন, মোদাচ্ছের নামে কোনো সন্ত্রাসীকে সেনাবাহিনী তাদের কাছে হস্তান্তর করেনি। কৌশল পাল্টিয়ে আরেক সাংবাদিককে দিয়ে ফোন করানোর পর বন্ধুত্বের খাতিরে তার কাছে বিষয়টি স্বীকার করলেও পুরো তথ্য দিতে আমতা আমতা করেন তিনি। কথোপকথনের এক পর্যায়ে স্বীকার করেন যে সরকারি দলের নেতাদের চাপে আছেন ওসি।

অভিযানের সময় সেনা সদস্যরা তার কাছ থেকে একটি বিদেশি শার্টারগান, একটি শর্টগান, একটি এলজি ও ২টি বন্দুক এবং ৫৫ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করেন। তাকে গ্রেফতারের পর এলাকায় মিষ্টি বিতরণ করেছেন শান্তিকামী ও নির্যাতিত মানুষ।

স্থানীয়রা জানান, মোদাচ্ছের এক যুগ আগেও রানীরহাট সড়কের চাঁদের গাড়ির হেলপার ছিলেন। সংরক্ষিত বনের কাঠ পাচারকারীদের কাঠ ও ইটভাটার ইট পরিবহন করতেন ভাড়ায়। যা দেখতে দেখতে শেখা। এক সময় নিজেই সংরক্ষিত বনের গাছ কেটে শুরু করে পাচার। বুঝতে পারলেন নিজের জীবনের স্বচ্ছলতা।

এক সময় ইটভাটার ইট পরিবহন বাদ দিয়ে মগ্ন হয়ে পড়েন বনের মূল্যবান কাঠ কেটে পাচারে। রাতারাতি হয়ে উঠলেন লাখপতি। বনের কাঠ পাচার করতে গিয়ে জড়িত হয়ে পড়েন অস্ত্রবাজিতে। যা নির্বিঘ্নে করতে যোগ দেন স্থানীয় সন্ত্রাসীদের সঙ্গে। পেয়ে যান অস্ত্র। শুরু হয় গডফাদারের নির্দেশে ইটভাটায় চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও অস্ত্রব্যবসা।

হাতে আসতে থাকে লাখ লাখ টাকা। এরপর শুরু করেন মদ, গাঁজা, হেরোইন, ইয়াবাসহ নানা রকম মাদকদ্রব্য পাচার। তাতে বটবৃক্ষের মতো ছায়া দিতে থাকেন গডফাদার শামসু।

এলাকাবাসীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শামসু বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড হচ্ছেন সন্ত্রাসী বখতেয়ার, এরশাদ, খোকন। তাদের সহযোগী রয়েছে আরও ১৫ থেকে ২০ জন দুধর্ষ সন্ত্রাসী। তাদের সঙ্গে অপরাধমূলক নানা কর্মকাণ্ড করতে গিয়ে যতবার পুলিশ ও র্যাবের হাতে ধরা পড়েছেন ততবারই ছাড়িয়ে আনতে সহযোগিতা করেছেন জনসম্মুখে মুখোশ পরে থাকা গডফাদার সামশু। ফলে মাত্র কয়েক বছরে কোটিপতি হয়ে উঠেন সন্ত্রাসী মোদাচ্ছের ও সামশু বাহিনীর সহযোগী সদস্যরা।

এর মধ্যে আগামী ২৮মে উপজেলার ১২ ইউনিয়নের সঙ্গে ইসলামপুর ও রাজানগর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হবে। এই দুই ইউনিয়নে নির্বাচনে ব্যবহারের জন্য সন্ত্রাসী মোদাচ্ছেরকে সম্প্রতি ৫৫ রাউন্ড গুলি কিনে দেন গডফাদার সামশু। আর এটাই কাল হয়ে দাঁড়ায় মোদাচ্ছেরের জন্য। গোপন সংবাদে খবর পেয়ে রাঙামাটি নানিয়ারচর ক্যাম্পের সেনাবাহিনী বুধবার ভোরে অভিযান চালিয়ে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে মোদাচ্ছেরকে। উদ্ধার করে অস্ত্র ও গুলি।

এলাকাবাসী জানায়, ইসলামপুর ইউনিয়নের পেয়ার মোহাম্মদ চৌধুরী বাড়ির এজলাশ মিয়ার পুত্র আনিসুল ইসলাম ওরফে মোদাচ্ছের (৩০)। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন তিনি। মোদাচ্ছের পার্শ্ববর্তি রাজানগর ইউনিয়নের অধিবাসী শামসু বাহিনীর অন্যতম ক্যাডার।

রাঙামাটি সদর জোন কমান্ডার ল্যাপটেনেন্ট কর্নেল সামশ জানান, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত সন্ত্রাসী মোদাচ্ছেরের সহযোগী সন্ত্রাসী ও গডফাদারদের নাম পাওয়া গেছে। যাদের কাছেও বিপুল পরিমাণ অস্ত্র রয়েছে বলে তথ্য রয়েছে। এসব অস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা করছে সেনাবাহিনী।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: