সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

‘সিঙ্গাপুরে আটক আলমগীর জঙ্গী হতে পারে না’

Meherpur-1-696x228নিউজ ডেস্ক::
বাংলাদেশ সরকারকে উৎখাত ও ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনায় সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশি আট জঙ্গীকে আটক করে ওইদেশের সরকার। তারা সিঙ্গাপুরে ইসলামিক স্টেট ইন বাংলাদেশ (আইএসবি) নামে একটি গোষ্ঠী গড়ে তুলেছিল এমন অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। সিঙ্গাপুরে আটক ৮ বাংলাদেশীদের মধ্যে মঙ্গলবার ৫ জনকে ফেরৎ পাঠালে বাংলাদেশ পুলিশ ওই ৫ জনকে আটক করে। এদের একজন আলমগীর হোসেন।

মেহেরপুর জেলা শহর থেকে ৩৫ কিলোমিটার উত্তরপূর্বে গাংনী উপজেলার কাজীপুর গোলামবাজার এলাকার নিহাজ উদ্দিন ও সানোয়ারা বেগমের একমাত্র পুত্র সন্তান তিনি। সংসারের অভাবকে দুর করতে ২০১২ সালে আলমগীর হোসেন পাড়ি জমিয়েছিল সিঙ্গাপুরে।

খোঁজ পেয়ে বৃহস্পতিবার বিকালে সরেজমিনে কাজীপুর গ্রামে গিয়ে এলাকাবাসী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যাক্তিবর্গ. শিক্ষকসহ আলমগীরের প্রতিবেশীদের কথা বলে জঙ্গী বা উগ্রপন্থী কোনো সংগঠনের সাথে আলমগীর জড়িত থাকতে পারে তার কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি।

আলমগীরের দূ:সম্পর্কের চাচা কামরুজ্জামান বলেন, অভাবের সংসারে একটু হাসি ফোটানোর জন্য আলমগীরের বাবা নিহাজউদ্দিন ২০০০ সালে সৌদি আরবে যান প্রবাস খাটতে। দীর্ঘ আট বছর প্রবাস খেটে বাড়ি ফিরেন তিনি। এর মধ্যে একমাত্র ছেলে আলমগীর হোসেন ২০০৭ সালে স্থানীয় সাহেবনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে ফেল করলে লেখাপড়া বন্ধ করে দেয়। বিদেশ থেকে অর্জিত টাকা দিয়ে তিন রুম বিশিষ্ট ছোট বাড়ি তৈরি করেন নিহাজ। পরে ছেলে আর লেখাপড়া করতে না পারায় তাকে বিদেশ পাঠানোর জন্য প্রস্তুতি নেয় তারা বাবা । অবশেষে ২০১২ সালে সঞ্চিত জমিজমা বিক্রি করে ছেলে আলমগীরকে সিঙ্গাপুরে পাঠান।

কামরুজ্জামান বলেন, এক বছর পর তার ওয়ার্ক পারমিট শেষ হলে আলমগীর আবারও দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফিরে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার গরুরা গ্রামের সিপার উদ্দিনের মেয়ে সিমা খাতুনকে বিয়ে করেন। বিয়ের কয়েকদিনের মাথায় সে আবারও ওয়ার্ক পারমিট পেলে সিঙ্গাপুরে চলে যান। বর্তমানে সে সিঙ্গাপুরের এ্যাবসোল্যুয়ট কাইনেটিকস কনসালটেন্সি প্রা. লি: নামের একটি ফার্মে গাছ কাটা শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলো।

এর মধ্যে গত মঙ্গলবার বিভিন্ন টেলিভিশনের খবরে তার ছেলের চেহারা দেখে নির্বাক হয়ে পড়েন আলমগীর মা সানোয়ার খাতুন ও তারা বাবা নিহাজ উদ্দিন। নিজের চোখকে বিশ্বাসই করতে পারছেন না তারা। কিভাবে কি হয়ে গেল ? কথা গুলো বলতে গিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে আলমগীরের চাচা কামরুজ্জামান।

আলমগীরের মা সানোয়ারা বেগম অশ্রুসিক্ত কন্ঠে বলেন, আমি বিশ্বাস করি না আমার ছেলে জঙ্গী হতে পারে। সে দেশ বিরোধী কাজ করতে পারে। তাাকে চক্রান্ত করে ফাঁসানো হয়েছে বলে তিনি কেঁদে ফেলেন। কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, ছেলে ভালো বা খারাপ যাই করুক না কেন মা ঠিকই বুঝতে পারে। আমার ছেলে দেশবিরোধী কোনো কাজ করতে পারেনা।

আলমগীরের বাল্যবন্ধু জিয়ারুল ইসলাম বলেন, ছোট বেলা থেকে একসাথে বড় হয়েছি । আলমগীর এ ধরনের কাজ করতেই পারে না। কোথাও মনে হয় কোনো ভুল হয়ে গেছে।

স্থানীয় কাজীপুর ডিগ্রি কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মোকাদ্দেসুর রহমান বলেন, শুধু আলমগীরই না তার পুরো পরিবারের লোকজন নিরীহ ভালো মানুষ। তাদের মত সহজ সরল পরিবার এলাকায় খুব কম আছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ও গাংনী উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি রেজাউল হক বলেন, এ ঘটনা জানার পর থেকে আমি হতবাক হয়ে গেছি। শান্ত, সহজ সরল একটি ছেলে এ ধরনের কাজ করতে পারেনা। তাকে ছোট থেকে দেখে আসছি। কোনো মতে কিছু টাকা পয়সা পাঠায় তাই দিয়ে তাদের বাবা মায়ের সংসার চলে। এমনকি তার বিদেশ যাওয়া সময় বিক্রি করার জমি এখন কিনতে পারেনি তারা।

আলমগীর বাবা নিহাজ উদ্দিন বছর দুয়েক আগে ব্রেনস্ট্রোত করে এখন কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় চলাচল করছে। ছেলেকে কবে বিদেশ পাঠিয়েছে সঠিকভাবে বলতে পারেন তিনি। এক প্রশ্নের জবাবে ভাঙ্গা ভাঙ্গা গলায় তিনি বলেন, দু এক মাস পরপর তার ছেলে ১৫/২০ হাজার করে টাকা পাঠাত। সবশেষ মাস দুয়েক আগে ৩৭ হাজার টাকা পাঠিয়েছে।

আলমগীরের প্রতিবেশীরা সাংবাদিক পরিচয় জানতে পেরে ঘিরে ফেলে এ প্রতিবেদককে বলেন, এ ধরনের ভালো একটি ছেলেকে বাঁচান। খবরটি পাওয়ার পর থেকে পুরো এলাকায় একধরণের নিরব শোক চলছে বলে তারা জানায়।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: