সর্বশেষ আপডেট : ১ মিনিট ৫৭ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সুনামগঞ্জে জমে উঠেছে ঘুষের হাট!

Sunamganj news daily sylhetবিশেষ প্রতিনিধি::
সুনামগঞ্জের কাজিরপয়েন্ট ও পুরাতন কোর্টে আপিল মোকদ্দমা নিষ্পত্তির নামে জমে উঠেছে ঘুষের হাট। ৩০ ধারা আপত্তি মামলা নিষ্পত্তির পরও থেমে নেই রমরমা ঘুষ বাণিজ্য। আর এ হাট পরিচালনা করছেন দুর্নীতিবাজ ৮ সহকারি সেটেলমেন্ট অফিসার, তাদের সহযোগী পেশকার, আউটসোর্সিং ও বহিরাগত দালালেরা। ফলে ভোগান্তিতে ভূমিসেবা নিতে আসা লোকজন।

সুনামগঞ্জ সদর সেটেলমেন্ট অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ৩০ ধারা আপত্তি মামলা নিষ্পত্তির পর গত ২৭ মার্চ ২০১৬ ইং তারিখে আপিল মামলা বিচার-নিষ্পত্তির জন্য সদরউপজেলাধীন বিভিন্ন এলাকার ১১৩ টি মৌজার ৩ হাজার ২ শ ৬২ মামলা পরিচালনার জন্য বরাদ্ধ দেয়া হয় ৯ জন সহকারি সেটেলমেন্ট অফিসারকে। শহরের পুরাতন কোর্টে উত্তর মল্লিকপুর, নারায়নতলা, মীরপুরসহ ১০ টি মৌজার ৩৫৫ টি আপিল মোকদ্দমা মামলা পরিচালনা করছেন সহকারি সেটেলমেন্ট অফিসার অংকজ রাখাইন ও তার সহযোগি পেশকার জাকির হোসেন।

সদর উপজেলার ৯ টি মৌজার ৩৬৭ টি মামলা পরিচালনা করছেন সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার আবুল কালাম আজাদ ও তার সহযোগী বদিউল আলম। শহরের কাজির পয়েন্টে উমরপুর, শাখাইতি, নারকিলা, হবতপুরসহ ১২ টি মৌজার ৩৬২ টি আপিল মামলা পরিচালনা করছেন সহকারি সেটেলমেন্ট অফিসার মাহবুবুর রহমান। বড়ঘাট, ধারারগাঁও, জায়ফর মৌজাসহ ১২ টি মৌজার ৩৬২ টি আপত্তি মামলা পরিচালনা করছেন সহকারি সেটেলমেন্ট অফিসার হাবিবুর রহমান।
হরিনাপাটি, পশ্চিম রামেশ্বরপুর, বনগাঁওসহ ১৪ টি মৌজার ৩৫৪ টি মামলা পরিচালনা করছেন সেটেলমেন্ট অফিসার কোরবান আলী ও তার সহযোগী পেশকার আবু তাহের। দক্ষিণ নৈনগাঁও, উত্তর নৈনগাও, বিরামপুরসহ ১০ টি মৌজার ৩৬৪ টি আপত্তি মামলা পরিচালনা করছেন সহকারি সেটেলমেন্ট অফিসার এ কে এম মাহবুবুল আলম। ১৮ টি মৌজার ৩৫৭ টি মামলা পরিচালনা করছেন উবায়দুল কাদের ওতার সহযোগী পেশকার মাখন।সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার রবিউল আউয়াল পরিচালনা করছেন ১৮ টি মৌজার ৩৫১ টি আপত্তি মামলা।

অপর এক অফিসার ফেটারগাঁও ও সৈয়দপুর মৌজার ৪০৪টি মামলা পরিচালনা করছেন। আপত্তি মামলার বাদী-বিবাদীরা অফিসে আসার পরই সেটেলমেন্ট অফিসারদের নিয়োজিত আউট সোর্সিং কাজের জন্য টেবিলে বসে থাকা লোকের কাছে হাজির বহিতে স্বাক্ষর করতে হয়। এ সময় বাদী-বিবাদী উভয়দের গুণতে ১০০ টাকা, এভাবে প্রতিদিনি কয়েক হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন দুর্নীতিবাজ ৮ সহকারি সেটেলমেন্ট অফিসার। আউটসোর্সিং হিসেবে যারা কাজ করছেন মজনু মিয়া, শহিদ, মাসুদ রানা, ইমান আলী, সুজিতসহ ৯জন। পরবর্তীতে শুরু হয় শুনানী।
শুনানী শেষে যারা ২০-৩০ হাজার টাকা উৎকোচ দিতে পারেন তাদের রায় হয়ে যায় দ্রুত, কাগজ সঠিক থাকলেও যারা টাকা গুণতে পারে না তাদের সময়ক্ষেপণের নামে নানা হয়রানির স্বীকার হতে হয়। এভাবে প্রতিদিন কয়েক লক্ষ টাকা টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা। পৈন্দা গ্রামের মমিন মিয়া জানান, আপিল মামলার বিচার-নিষ্পত্তির নামে ঘুষের কারখানা খুলছে। টাকা ছাড়া কাজ হয় না। কাগজ সঠিক থাকলেও নানা কারণ দেখিয়ে বড় অংকের টাকা দাবি করে, আমরা বড় বিপদে আছি, আপনারা কিছু লিখেন। শান্তিপুর গ্রামের শুকুর আলী জানান, ভাই কইয়া লাভ নাই, হাজিরা দিলেই বাদী-বিবাদী সকলকেই টাকা গুণতে হয়,নইলে হয়রানির স্বীকার হতে হয়।

সহকারি সেটেলমেন্ট অফিসারের হাবিবুর রহমানের কাছে অনিয়মের বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন আপত্তি মামলা কতটা নিষ্পত্তি হচ্ছে আপনাদের বলা নিয়ম নাই। অনিয়ম হয়ে থাকলে আপনারা লিখেন। আপত্তি মামলার অফিসার অংকজ রাখাইন বলেন, মামলা কতটা নিষ্পত্তি হয়েছে জানি না। অনিয়মের বিষয়ে কিছু জানতে তিনি বলেন কেউ যদি খুশি হয়ে দেয় তাহলে নেই আর কি।

এছাড়া অন্যন্য অফিসারদের সাথে আলাপকালে তারা বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো সঠিক নয়। আমরা নীতিমালা অনুযায়ী সুষ্ঠভাবে কাজ করছি। জেলা সেটেলমেন্ট অফিসার কমলেন্দু চৌধুরী বলেন, আপিল অফিসারদের অনিয়মের বিষয়টি তদন্ত করে দেখব। প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যাবস্থা নেয়া হবে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: