সর্বশেষ আপডেট : ২ মিনিট ২৭ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

আটক ৮ বাংলাদেশি সিঙ্গাপুরে কাজ করছিলেন ৩-১০ বছর

361প্রবাস ডেস্ক:
জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে সিঙ্গাপুরে আটক আট বাংলাদেশি দেশটিতে তিন থেকে ১০ বছর ধরে কাজ করছিলেন। নিজেদের ইসলামিক স্টেট অব বাংলাদেশের (আইএসবি) সদস্য দাবি করা ওই আট ব্যক্তি সিঙ্গাপুরে যাওয়ার সময় উগ্রপন্থা বা সন্ত্রাস সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না। তবে কয়েক মাস আগে তারা খোলা পার্ক বা ময়দানে মিলিত হতেন। এ সময় তাদের মধ্যে জঙ্গি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ধরনের প্রোপাগান্ডা ও ভিডিও শেয়ার করা হয়। সিঙ্গাপুরের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এ খবর দিয়েছে দ্য স্ট্রেট টাইমস। খবরে বলা হয়, এই দলটির সাংগঠনিক কাঠামো তৈরি করা হয়েছিল এবং এর মাধ্যমে একেক জনের ওপর সুনির্দিষ্ট একেকটি দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছিল। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ এই দল ও তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত ছিল এবং বিভিন্ন তথ্য দিয়েও সহায়তা করেছে। বুধবার গণমাধ্যমগুলোকে এসব তথ্য জানায় সিঙ্গাপুরের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আগেই আটক করা হয় ওই আট ব্যক্তিকে। সিঙ্গাপুর থেকে বাংলাদেশে ফিরে নাশকতা পরিচালনার পরিকল্পনা করছিল বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। সিঙ্গাপুরের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কে স্যানমুগাম এ সময় জানান, বৈশ্বিকভাবে এবং এই এলাকায় মৌলবাদীদের বিস্তারেরই প্রতীক এই আট ব্যক্তির আটকের ঘটনা।

তিনি বলেন, ‘আমরাও তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারতাম। কারণ তারা যেকোনো স্থানেই হামলার জন্য প্রস্তুত ছিল। তাদের সিঙ্গাপুরে হামলা চালানোর জন্য নির্দেশনা দেয়া হলে তারা সিঙ্গাপুরেই হামলা চালাত।’ নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব ব্যক্তিকে শনাক্ত করে পদক্ষেপ নেয়ার মাধ্যমে দক্ষতা দেখিয়েছে বলে জানান তিনি। এর আগে সিঙ্গাপুরের ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রধান চি সুন জুয়ান দেশটির ইন্টারনাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট বাতিলের দাবি জানিয়ে মন্তব্য করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, সিঙ্গাপুরে সন্ত্রাসবাদের সমস্যার মূলত অভিবাসী বিষয়ক ইস্যু। তার ওই মন্তব্যের জবাব দিয়ে স্যানমুগাম বলেন, ‘আমার মনে হয় এই সমস্যার প্রকৃতি বুঝতে অসমর্থতার প্রমাণ এই মন্তব্য। ড. চি আমাদের কী পরামর্শ দেন? তিনি কি এই পরামর্শ দেন যে আমরা সব বিদেশি শ্রমিককেই না করবো? না কি বিদেশি শ্রমিকদের মধ্যে যারা মুসলিম কেবল তাদেরই না করবো? আমার মনে হয় বিষয়টি তার স্পষ্ট করা উচিত।’ সিঙ্গাপুরে কর্মরত হাজার হাজার বাংলাদেশি কর্মীর প্রতি ইঙ্গিত করে স্যানমুগান বলেন, ‘আমরা কি তাহলে তাদের সবাইকেই ফেরত পাঠাব? তারা যে কাজগুলো করছে, সেসব কাজ কারা করবে? এবং নির্মাণ খাতে কর্মরত সবাইকে ফেরত পাঠালে কে ক্ষতিগ্রস্ত হবে? সিঙ্গাপুরের অধিবাসীরাও চাকরিচ্যুত হবে।’ এসব বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এসব বিষয়ে রাজনৈতিক ফায়দা নেয়ার চেষ্টা না করে বিষয়গুলোকে সযত্নে বিবেচনা করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে সিঙ্গাপুরের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত বছরে দেশটি থেকে যে ২৭ বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, তাদের অংশ নয় আইএসবি সদস্যরা। তবে আইএসবির কারও কারও সঙ্গে আগের দলটির কারও কারও যোগাযোগ ছিল। মন্ত্রণালয় জানায়, সিঙ্গাপুরে সন্ত্রাসবাদ সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগে আইএসএ কর্তৃক আটককৃতদের সবাই বিদেশি, এমন ঘটনা এই প্রথম। এই দলের নেতা ৩১ বছর বয়সী মিজানুর রহমান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্যও প্রকাশ করেছে মন্ত্রণালয়টি। তাতে জানানো হয়েছে, আটকের সময় মিজানুর রহমান একটি স্থানীয় নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে ড্রাফটসম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০০৭ সাল থেকেই তিনি সিঙ্গাপুরে যাওয়া-আসা করছেন। গত বছরের ডিসেম্বরে শেষবার সিঙ্গাপুর যান তিনি। ওই সময়েও তার মধ্যে উগ্রবাদ মতাদর্শ ছিল বলে কোনো তথ্য ছিল না কর্তৃপক্ষের কাছে। তদন্তে বেরিয়ে আসে, তিনি উগ্রবাদ মতাদর্শের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হতে শুরু করেন ২০১৩ সালে। ২০১৫ সালে যখন তিনি বাংলাদেশে এসেছিলেন, তখন একজন বাংলাদেশি তার সঙ্গে আইএসের প্রোপাগান্ডা শেয়ার করে। তাতে তিনি উগ্রবাদে আরও বেশি ঝুঁকে পড়েন। এ বছরের জানুয়ারিতে এসে তিনি তার দলে বাংলাদেশিদের ভেড়ানো শুরু করেন। মার্চ মাসেই গড়ে তোলেন এই দলটি। গতকাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, আটক আট জনকে মার্চের শেষের দিক থেকে শুরু করে এপ্রিলের প্রথম দিকের মধ্যেই আটক করা হয়। পরে এপ্রিলের শেষের দিকে তাদের বিরুদ্ধে দুই বছরের আটকাদেশ দেয়া হয়। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই দলের সদস্যরা একেকজন একেক এলাকায় বসবাস করতেন। তারা স্থানীয় নির্মাণ খাত ও নৌ শিল্পে কর্মরত ছিলেন। তাদের সবার বিরুদ্ধেই এখনও তদন্ত চলছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আটকের সময় এই দলের যে তহবিল ছিল তা মূলত এর সদস্যদের অনুদানেই গড়ে উঠেছিল। তবে এখনও আগ্নেয়াস্ত্র কেনার কোনো পরিকল্পনা ছিল না তাদের।

এদিকে একই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে সিঙ্গাপুরে আটক করা হয়েছে আরও পাঁচ বাংলাদেশিকে। সিঙ্গাপুরের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের কেউই আইবিএসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়। তবে জিহাদ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দ্রব্য ছিল তাদের কাছে অথবা তারা ধর্মের কারণে সহিংসতাকে সমর্থন করতেন। আট এই পাঁচ ব্যক্তি হলেন ইভান গালিব হাসান চৌধুরী, রানা মাসুদ, পাইলট মো. রানা মিয়া, তানজেমুল ইসলাম ও মো. আলমগীর। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত বছরে ২৭ বাংলাদেশি গ্রেপ্তারের পর থেকেই দেশটির জনশক্তি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করছে এবং ডরমিটরি অপারেটরগুলোতে বিশেষ নির্দেশনাও পাঠানো হয়েছে যেন তারা বিদেশি কর্মীদের নিজেদের কোয়ার্টারে রাখার ব্যবস্থা করে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘আইএসবি দলের সন্ধান একটি শক্তিশালী সংকেত যে আমরা আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত বলে মনে করতে পারি না বা নিরাপত্তায় আত্মতুষ্টিতে ভুগতে পারি না। সন্ত্রাসী হুমকির বিরুদ্ধে কড়া নজরদারির অংশ হিসেবে সিঙ্গাপুর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি করেছে যাতে সন্ত্রাসী হামলা প্রতিরোধ ও শনাক্ত করা যায় এবং এর প্রত্যুত্তর দেয়া যায়।’ এই বিষয়ে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গেও সিঙ্গাপুর কাজ করছে বলে জানায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: