সর্বশেষ আপডেট : ৪ ঘন্টা আগে
রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ওলামালীগ তুমি কার ‘বঙ্গবন্ধুর না আ’লীগের’?

13164401_1698286037088894_6228264175726848114_nডেইলি সিলেট ডেস্ক::
ছাত্রলীগের মতই বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া সংগঠন ওলামা লীগ। এমনটাই দাবি সংগঠনটির। যদিও এই দাবির পক্ষে যথেষ্ট যৌক্তিকতারয়েছে। দীর্ঘ ২৪ বছর ক্ষমতাবিহীন আওয়ামী লীগের সময়ে নানা চড়াই উৎড়ায়ে নেতৃত্বশূন্যতায় নিস্তেজ থাকা ওলামালীগ, ৯৬’এবঙ্গবন্ধু কন্যার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের উত্থানে মাথা উচু করে দাঁড়ায়।

২০০১ এ ক্ষমতাহীন আওয়ামী লীগের দুর্দিনে পাশে ছিল সংগঠনটি। যা ইতিহাসেই প্রমাণিত। বর্তমানে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগের বিষ ফোঁড়া হয়ে গেল ওলামা লীগ! দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে ওলামা লীগ আওয়ামী লীগের কোন অঙ্গসহযোগী সংগঠন নয়।

গত ১৩ এপ্রিল পহেলা বৈশাখের আগের দিন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুব আলম হানিফ বলছেন, ‘ওলামা লীগ বাটপারদের সংগঠন। আওয়ামী লীগের সঙ্গে ওলামা লীগ নামের এই সংগঠনের কোনও সম্পর্ক নেই’। কিছু দিন আগেও ওলামা লীগের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন, দলটির অনেক প্রভাবশালী নেতা ও মন্ত্রী। নগর আওয়ামী লীগসহ কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের অনেক নেতাই ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউর কার্যালয়ের ৪র্থ তলায় ওলামা লীগের অনেক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন। বিপ্লবী বক্তব্যও রেখেছেন।

সম্প্রতি বিএনপি-জামায়াতের হরতাল অবরোধে নগর আওয়ামী লীগের সাথেই বঙ্গবন্ধু স্টডিয়ামের সামনে হরতাল বিরোধী সমাবেশ ও মানবন্ধন করতে দেখা গেছে সংগঠনটিকে। এমনকি মতিঝিলে হেফাজতে ইসলাম এর অবস্থান কালেও সংগঠনটিকে কাজে লাগিয়েছে আওয়ামী লীগ। এমন দাবিও করেছেন সংগঠনটির একাংশের সভাপতি মাওলানা মুহম্মদ আখতার হুসাইন বুখারী।

আর এখন ইসলাম নিয়ে কথা বলায় সাম্প্রদায়িক সংগঠন হিসেবে আখ্যা দেয় দেশের কিছু প্রভাবশালী গণমাধ্যম। তারপর থেকেই নানা সমালচনার মুখে, ‘ওলামা লীগ’ আওয়ামী লীগের কেউ না বলে ঘোষণা দেয় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। তাই এখন প্রশ্ন উঠাই স্বাভাবিক ওলামা লীগ তুমি কার ‘বঙ্গবন্ধুর না আওয়ামী লীগের’।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালবাসা দিবসে হুমায়ুন আযাদ পুত্রের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রকাশ্যে চুমু খাওয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় ওলামা লীগ। ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখে ইসলামী মূল্যবোধের বিপরীত অনেক অপসংস্কৃতি বিরুদ্ধে কথা বলেছে। ইসলাম মূল্যবোধকে ওলামা লীগ ব্যক্ত করেছে মাত্র। কিন্তু পহেলা বৈশাখ পালন করার ক্ষেত্রে কোনো বাধ্যবাধকতা আরোপ করেনি। ওলামা লীগের অবস্থান হচ্ছে ইসলাম অবমাননার বিরুদ্ধে বলেও জানানো হয় সংগঠনটির পক্ষ থেকে। এটাই কি সাম্প্রদায়িক আচরণ?

গত ১১ এপ্রিল তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, ‘ইসলাম নানা ধরনের উৎসবকে উৎসাহিত করায় পহেলা বৈশাখ পালনে ‘মুসলমানিত্ব’ যায় না এবং ঈমান যায় না’। তাহলে এসব বক্তব্য কতটা যৌক্তিক? এসবই কি সাম্প্রদায়িকতাকে উস্কে দিচ্ছে না? কিন্তু দেশের কিছু প্রভাবশালী গণমাধ্যম সাম্প্রদায়িকতার দোহাই দিয়ে একটি ধর্মকে বিশ্বরে বুকে ছোট করছে, অপরদিকে সেই উস্কানি মূলক আচরণ কে পরোক্ষ ভাবে প্রশ্রয় দিচ্ছে।

এদিকে ২৬ এপ্রিল এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির একাংশ দাবি করে ‘কোরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন পাস হবে না’ বর্তমান সরকারের এই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি আরেকটি প্রতিশ্রুতি ছিল, ‘ইসলামী শিক্ষা ও মূল্যবোধ উজ্জীবিত করা হবে।’ দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমাতায় আসার পর ক্ষমতাসীন দল জনগনকে দেওয়া সেই প্রতিশ্রুতি ভুলে যায়। যেটা বরাবরের মতই সরকারকে স্বরণ করাতে চায় তারা। তাই মানবন্ধনে রাষ্ট্রধর্মের বিষয়ে কথা বলে ওলামা লীগ। এমনটাই দাবি ছিল সংগঠনটির।

১৯৯৮ সালে আওয়ামী ওলামা লীগের সর্বশেষ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। ২০০১ সালে ক্ষমতার পালা বদলের পর নেতাদের অভ্যন্তরীণ টানাপড়েনের একপর্যায়ে দল ভেঙে যায়। এরপর টাঙ্গাইলের মাওলানা আখতার হোসেন বোখারী সভাপতি, বরিশালের মাওলানা ইসমাইলহোসাইন, এবং ডেমরার মাওলানা ইলিয়াস হোসাইন বিন হেলালীর নেতৃত্বে তিনভাগে চলতে থাকে আওয়ামী ওলামা লীগ।

একটি দেশের চেতনা স্বাধীনতার চেতনায় উজ্জীবিত হবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু যখন সাম্প্রদায়িকতা ও চেতনাকে এক সাথে গুলিয়ে ফেলা হয় তখনই সমস্যার সূত্রপাত হয়।

লেখক: এম এস আজীম,  সাংবাদিক।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: