সর্বশেষ আপডেট : ৩ ঘন্টা আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

কিলোমিটারে বাস ভাড়া কত?

2016_05_03_23_11_20_SuIdVj01Mt7SGcExN6VVF1ebcBqkwj_originalনিউজ ডেস্ক::বাসভাড়া কমেছে কিলোমিটারে ৩ পয়সা। কার্যকর হবে ১৫ মে থেকে। কাগজে-কলমে দূরপাল্লায় ভাড়া কমার এ খবর দিয়েছে সব গণমাধ্যম। সিঙ্গাপুরে আট বাংলাদেশিকে জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগে আটকসহ দেশ-বিদেশের নানা খবরের মধ্যেও গণমাধ্যমে গুরুত্ব পেয়েছে বাসভাড়া। জনস্বার্থ বিবেচনা থেকে গণমাধ্যম তা করেছে।

তিন পয়সা কমানো নিয়ে মালিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে ক’দিন ধরে বিআরটিএ ভাড়া নির্ধারণ কমিটির প্রতিনিধিদের দেন-দরবার চলছিল। মানছিলেন না মালিক প্রতিনিধিরা। কিলোমিটারে ২ পয়সার বেশি কমাতে কোনভাবেই রাজি ছিলেন না তারা। বিআরটিএ এবং মালিক প্রতিনিধিদের ভাড়া কমানোর হার নিয়ে বিরোধ ১ পয়সার। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ পড়ে বাসের একজন যাত্রী হিসেবে আমার মনে হয়েছে, এ দূরত্ব যেন যোজন যোজন!

বিআরটিএ প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে মালিকপক্ষ বোঝানোর চেষ্টা করছিলেন ২ পয়সার বেশি কমালে তাদের ক্ষতি হয়ে যাবে অনেক। সত্যি তো, ব্যবসা আর পুর্বপুরুষের ভিটে-মাটি বিক্রি করে সম্ভব নয়। ঘাটের কিংবা ব্যাংক থেকে ঋণের টাকায় বাস কিনে তো দাদা হাতেম তাই হওয়া চলবে না।

বাস মালিকদের প্রতিনিধিদের দু’একজন প্রশ্ন তুলেছেন পেট্রোল, অকটেনের দাম কমানো হলো লিটারে ১০ টাকা। ডিজেল কেন কমানো হলো ৩ টাকা? সে প্রশ্নের উত্তর বিআরটিএ’র ভাড়া নির্ধারণ কমিটির কাছে নেই। এর উত্তর জানেন শুধু অর্থমন্ত্রী কিংবা সরকারের নীতিনির্ধারকরা।

বিশ্লেষকদের কারো কারো মতে, ডিজেলের দাম বেশি কমালে ভাড়া কমাতে হবে বেশি। এতে ক্ষতি বহুমাত্রিক। পরিবহন খাত থেকে প্রতিদিনের ‘উপরি’ আয় কমে যাবে। মালিক, শ্রমিক, রাস্তাসহ হরেক রকমের সমিতির নামে উঠানো হয় টাকা। একটি বাস সড়কে নামলে প্রতিদিন নির্দিষ্ট হারে টাকা দিতে হয় এসব জানা, অজানা সমিতির তহবিলে।

এতে পোয়াবারো পরিবহন মালিকদেরও। খোদ ঢাকা মহানগরীতে সবার চোখের সামনে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার বেশি দিতে যাত্রীদের বাধ্য করা হচ্ছে। বলার কিংবা অভিযোগ জানানোর কেউ নেই। মহানগরীর কোথাও নেই গুলিস্তানের জিরো পয়েন্ট থেকে মিরপুর ১০ নম্বর কিংবা মিরপুর ১ নম্বরের দূরত্ব কত কিলোমিটার। আরো মজার বিষয় সরকারের সামনে বিশেষ সার্ভিস নামে শহরে কোন রুটে গণপরিবহন নেই। কিন্তু সবার সামনে দিয়েই ‘সিটিং সার্ভিস’-এর অনিয়ম চলছে। গুলিস্তান থেকে মিরপুরে যাত্রীপ্রতি ২৫ থেকে ২৮ টাকা নেয়া হচ্ছে। অথচ সরকার নির্ধারিত ভাড়ায় তা হওয়া উচিত সার্বোচ্চ ১৮ টাকা। গুলিস্তান থেকে মোহাম্মদপুর, গাবতলী, সাভার, বিমানবন্দর, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, ডেমরাসহ সব সড়কে। কথনও সিটিং, কথনও লোকাল যেভাবেই হোক ভাড়া দিতে তাদের হিসেবে। এ নিয়ে কেউ প্রতিবাদ করলে ঘাড়ধাক্কা খাওয়ার কথা যাত্রী হিসেবে আমাদের অজানা নয়।

এ দফা ভাড়া কমায় অবশ্য নগর গনপরিবহনের ভাড়া কমবে না। কারণ শহরে, নগরে গণপরিবহন চলছে গ্যাস দিয়ে। যেগুলোয় কমবে বলে ধরা হয়েছে তা বাস্তবায়ন করতে পারবে তো বিআরটিএ। অভিজ্ঞতা তা বলছে না। সর্বশেষ গ্যাসের দাম বাড়ানো হলো ৫ টাকা। গণপরিবহনে ভাড়া বাড়লো হলো কিলোমিটারে ১০ পয়সা। কী মূল্যায়নে এটা হলো এর সঠিক কোন ব্যাখ্যা নেই বিআরটিএর কাছে। অযৌক্তিক এ ভাড়ার হারও মানছেন না পরিবহন মালিকরা। কিছু করতেও পারেনি বিআরটিএ। স্বয়ং সেতুমন্ত্রী নামলেন সড়কে। বেশি ভাড়া নেয়ার জেলে দিলেন বাসের এক কর্মীকে। অজানা কারণে ওই বাসকর্মীকে ছাড়লেন, ভাড়া নিয়ে আর কোন কথাও বললেন না। ফলে যা হবার তাই হচ্ছে।

এটা বললাম এ কারণে যে, দূরপাল্লার বাসে এখনও নির্ধারিত ভাড়ার বেশি আদায় করা হচ্ছে। সেটি ঠিক করা যাচ্ছে না। কত কিলোমিটারে কত ভাড়া তার তালিকা বাস টার্মিনালে ঝুলিয়ে দেয়া এবং তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ কেউ নেয়নি। শহরে সর্বশেষ ভাড়া বাড়ানোর পর বিআরটিএ চেয়ারম্যান দূরত্ব এবং ভাড়ার হার ঝুলিয়ে দাবি জানালেন ‘ওয়েসাইটে আছে’, এই বলে দায়িত্ব এড়ালেন তিনি। তাহলে বিআরটিএ’র দায়িত্বটা কি তা পরিষ্কার নয়।

ভাড়া কমানোয় বহুমাত্রিক ক্ষতির আরো হিসাব আছে। ঢাকা থেকে বিভিন্ন জেলাশহরগামী বিলাসবহুল সব পরিবহন পরিচালনার সঙ্গে নানাভাবে সম্পৃক্ত রাজনীতিকরা। ক্ষমতাসীনরা সামনে থাকলেও বিরোধীরাও আছেন। ব্যবসায়িক সেকারণে সেখানে সবার মধ্যে সখ্য আছে। সেকারণে রেলের ভাড়া ৫০ শতাংশ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়ে নেয়া ৮০ শতাংশ। সময়সূচি ঠিক থাকে না। সকালের ট্রেন কমলাপুর ছাড়ে বিকেলে। এ নিয়ে কোথাও হিসাব-নিকাশের বিষয়ও আছে। এমন ধারণা অনেকের।

পর্যবেক্ষদের মতে, ঢাকা-চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা, রাজশাহী কিংবা রংপুরে বাস ভাড়ার চেয়ে ট্রেনে ভাড়া বেশি। ফলে যাত্রীরা সহজের সড়ক পথকে বেছে নিচ্ছে। টিকিট পাওয়া নিয়ে ঝক্কি-ঝামেলা, ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা এসব ট্রেন যাত্রার অংশ হয়ে আছে বহুদিন ধরে। ভাড়া বাড়লেও এসবে উন্নতি নেই। দিনে দিনে বিশ্বজুড়ে আরামদায়ক এ পথ বাংলাদেশে বন্ধের পাঁয়তারা বহুদিন থেকে চলে আসছে।

ব্রিটিশ আমলের রেলপথ উন্নয়নে উদ্যোগ নেই, করা হচ্ছে চার লেনের সড়ক পথ। পণ্য আনা নেয়ার সুবিধার কথা বলে এ করা হচ্ছে। সঙ্গে অবশ্য এবার জুড়ে দেয়া হয়েছে রেলওয়ের নতুন প্রকল্প। ট্রেনে দু’ঘণ্টায় যাওয়া যাবে চট্টগ্রামে। ব্যয়ের কথা উল্লেখ নাই বা করলাম। অথচ বিদ্যমান রেলপথে আরেকটি লাইন সংযোজন হচ্ছে না বহু বছর ধরে। বলা হয় বারবার কিন্তু করা হয় না। অবশ্য বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত উদ্যোগে সে কাজটি ধীরে হলেও বাস্তাবয়ন হচ্ছে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: