সর্বশেষ আপডেট : ৩৪ মিনিট ৬ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ২৬ জুন, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ১২ আষাঢ় ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ফাঁসি বহালে আশাবাদী; ফাঁসি দেয়া যায় না

48নিউজ ডেস্ক ::
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যুদণ্ড বহাল চেয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। অপরদিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার মতো প্রমাণ নেই বলে দাবি করেছেন নিজামীর প্রধান আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন।
মঙ্গলবার মৃত্যুদণ্ডের রায় পুর্নবিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে নিজামীর করা আবেদনের রায়ের দিন ধার্যের পরে এ মন্তব্য করেন দুইপক্ষ।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, শুনানিতে আসামিপক্ষ (খন্দকার মাহবুব) বলেছেন, যে সমস্ত সাক্ষীর ভিত্তিতে নিজামীকে দণ্ড দেওয়া হয়েছে তা বিশ্বাস করা যায় না। এমনকি বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়েও তাকে অভিযুক্ত করা যায় না।
কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আমরা আদালতে বলেছি, তার (নিজামীর) যে বক্তব্য তা প্ররোচনামূলক এবং এ বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আল বদরের ওপর লেখা ৭১ সনে প্রকাশিত হয়েছিলো। এবং সেটিকে কেন্দ্র করেই বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয়েছিলো।
অ্যাটর্নি আরো বলেন, যারা এ মামলার সাক্ষী তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে-যখন একজন ডাক্তারকে ধরে নেওয়া হয়, তার স্ত্রীকে তখন আল বদররা বলেছিলো মতিউর রহমান নিজামীর নির্দেশে তারা তার স্বামীকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। এ সমস্ত বিষয় বিবেচনা করে তাকে আপিল বিভাগ মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছিলো।
তিনি বলেন, প্রত্যক্ষ সাক্ষীর সাক্ষ্যের ভিত্তিতে নিজামীর রায় হয়েছিলো।
তিনি বলেন, কাদের মোল্লা, কামারুজ্জামান সবার মামলার সময় তারা একই বক্তব্য রেখেছিলেন। যে ইন্দিরা মুজিব চুক্তির কারণে যেহেতু মুল আসামীদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, সেহেতু এদের বিচার করা যাবে না। এটি ছিলো ১৯৭৪ সনের চুক্তি। আর বিচার হচ্ছে ১৯৭৩ সনে। ৭৩ এর আইন সংশোধনী করা হয়নি। এ আইনে বিচার চলতে বাধা নেই।
অ্যাটর্নি বলেন, ওরা এ বক্তব্য আগেও দিয়েছে এখনও দিচ্ছে। ৫ জন এক সাথে হত্যাকাণ্ড ঘটালো আর চারজন পালিয়ে গেলো। তার মানে কী বাকী একজনের বিচার হবে না?
ফাঁসির রায় বহাল থাকবে কিনা এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমিতো আশাবাদী।
তিনি বলেন, যা রায় হয়েছে তা সঠিক রায়ই হয়েছে। এটার পুর্নবিবেচনার কোনো প্রয়োজন নেই। এবং কোনো অবকাশ নেই।
অপরদিক খন্দকার মাহবুব হোসেন আদালতে বলেছেন, তিনটি অভিযোগের বিরুদ্ধে আদালতে বক্তব্য রেখেছি। যে তিনটি অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা বলেছি যে তিনটি অভিযোগের পক্ষে সাক্ষ্য প্রমাণ প্রসিকিউশন থেকে দেওয়া হয়েছে তা অত্যন্ত দুর্বল। এবং এ সাক্ষ্য প্রমাণের ওপরে কাউকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া যায় না। বিশেষ করে বুদ্ধিজীবী ডা. আলীম ও আজহারের স্ত্রীর যে বক্তব্য (নিজামীর নির্দেশে ধরে নেওয়া) এ কথাটি দীর্ঘ ৪০ বছর বলেনি। এমনকি তদন্ত কর্মকর্মতাকেও বলেনি। হঠাৎ করে শিখানো কথা বলা হয়েছে। এর ওপর ভিত্তি করে চরমদণ্ড দেওয়া যায় না।
চুক্তিতে বলা হয়েছে ১৯৫ জনকে বাংলাদেশ সরকার ক্ষমা করে দিয়েছে। তারা মূল আসামী তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া পরে যারা সহযোগী আজ তাদেরকে চরম দণ্ড দেওয়া যায় না।
বাংলাদেশ সরকার লিখিতভাবে ক্ষমা করে দিয়েছে। আমরা আশা করছি ন্যায় বিচার। সর্বোচ্চ আদালত যে বিচার করবে সেটা ন্যায় বিচার। তারপর ভবিষ্যত প্রজন্ম ইতিহাস বিচার করবে এ বিচার সঠিক ছিলো কি না।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: