সর্বশেষ আপডেট : ১৪ মিনিট ১২ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সিলেট নির্মাণ শ্রমিক খুন: ভাইয়ের উপর হামলার প্রতিবাদের প্রতিশোধ! ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

khun-newsnext-copyস্টাফ রিপোর্টার::
নগরীর বাঘবাড়ির শামীমাবাদ এলাকায় ছোট ভাইয়ের উপর হামলার প্রতিবাদ করায় নির্মাণশ্রমিক বড় ভাইকে চাকু দিয়ে কুপিয়ে খুন করেছে দুর্বৃত্তরা। গত রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ৭ নম্বর রোডের ৬ নম্বর গলির সামনে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম ইসলাম উদ্দিন (৩৫)। তিনি শামীমাবাদ আবাসিক এলাকার ১২৬ নম্বর বাসার তোতা মিয়ার পুত্র। তাদের গ্রামের বাড়ি বালাগঞ্জ উপজেলায়। তিন ভাইয়ের মধ্যে ইসলাম উদ্দিন ছিলেন বড়।

এ ঘটনায় নিহতের পিতা তোতা মিয়া বাদি হয়ে কোতোয়ালী থানায় ৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো ৬/৭ জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজাহারনামীয় আসামীরা হচ্ছে, সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার শাহারপাড়া মুরাদাবাদ এলাকার ইসমত উল্লার পুত্র জামাল উদ্দিন (২৫), একই উপজেলার শাহারপাড়া সৈয়দপুর গ্রামের আব্দুল জলিলের পুত্র লিটন আহমদ হরফে ছইলা লিটন (৩০), কোতোয়ালী থানার বাসিন্দা আগুরা বেগমের পুত্র রুহেল আহমদ (৩২), জগন্নাথপুর থানার তেগরী গ্রামের এখলাছ মিয়ার পুত্র মুরছালিন (৩৫), একই গ্রামের আব্দুল হাই’র পুত্র শাহিনুর (২৯) ও বালাগঞ্জ উপজেলার তালতলা গ্রামের বাসিন্দা মো. কামাল ওরফে দা কামাল (৩০)।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, আর্থিক লেনদেন দিয়ে ইসলাম উদ্দিনের ছোট ভাই আরমানের উপর গত পরশু হামলা চালায় জামাল আহমদ নামের স্থানীয় এক যুবক। ইসলাম এই হামলার প্রতিবাদ করেন। গত রোববার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে ৬/৭ জন যুবক ইসলাম উদ্দিনের বাসায় গিয়ে তাকে খোঁজে। তাদের মধ্যে তিনজন নিজেদেরকে জামাল, কবির ও নূর মেম্বারের ছেলে রানা বলে পরিচয় দেয়। এসময় ইসলাম বাসায় নেই বলে জানালে তারা ফিরে যায়। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শামীমাবাদ এলাকার ৭নং রোডের ৬নং গলির লেচু মিয়ার বাসার সামনে ইসলাম উদ্দিনকে পেয়ে তার উপর হামলা চালায় জামাল, কবির ও রানাসহ ৬/৭ জন। তাদের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত ইসলামকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ওইদিন রাত ৮টার দিকে তিনি মারা যান। হাসপাতালে ইসলাম উদ্দিনের হলে ওসি সুহেল আহমদের নেতৃত্বে কোতোয়ালি থানা পুলিশ শামীমাবাদ এলাকায় অভিযান চালায়। তবে দীর্ঘ সময় ধরে অভিযান চালানো হলেও হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত কাউকেই গ্রেফতার করতে পারেনি।

নিহতের ভাই আরমান জানান, গত ২৮ এপ্রিল নগরীর জিন্দাবাজার মহিলা কলেজের সামনে জামাল ও কবির একটি ছিনতাই করে। আর এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে সাক্ষী দেন আমার ছোট ভাই আসাদ। এতে ক্ষুব্ধ হয় জামাল ও কবির। তাছাড়া জামাল ও কবির প্রায় সময় ইসলাম উদ্দিনের কাছে চাঁদা দাবি করতো বলেও জানান আরমান। আর এসব ঘটনার জের ধরেই তারা এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে জানান তিনি।

তোতা অভিযোগ করে বলেন, জামাল এলাকায় বখাটে হিসেবে পরিচিত। সে বাসায় গিয়ে ডেকে নিয়ে আমার ছেলেকে হত্যা করেছে।

লামাবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই বেণু চন্দ্র দেব জানান, গতকাল সোমবার দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে ইসলাম উদ্দিনের ময়না তদন্ত শেষে নিহতের লাশ তার আত্মীয় স্বজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহতের নাভির নিচে শুধু একটিই ধারালো চাকুর আঘাত ছিল। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলছে।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুহেল আহমদ জানান, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। জড়িতদের গ্রেফতার করতে অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: