সর্বশেষ আপডেট : ২৪ মিনিট ২০ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ২৬ মে, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

শ্বশুরবাড়ি থেকে ক্ষতবিক্ষত লাশ হয় ফিরলেন ছাতকের জাহাঙ্গীর

sylheteralap.com_-29ছাতক প্রতিনিধি::
শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে গিয়ে লাশ হয়ে ফিরলেন ছাতকের জাহাঙ্গীর আলম(৪০)। পাঁচ সন্তানের জনক জাহাঙ্গীর আলম কালারুকা ইউনিয়নের বোবরাপুর গ্রামের রহমত আলীর পুত্র। গত শুক্রবার স্ত্রী-সন্তানদের বাড়িতে নিয়ে আসতে কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার পানিপাড়া গ্রামে শ্বশুরালয়ে গিয়েছিলেন জাহাঙ্গীর আলম।
গত রোববার ক্ষত-বিক্ষত প্রানহীন দেহে ফিরলেন তিনি। তার সর্বাঙ্গে অসংখ্য জখমের চিহ্ন রয়েছে। কিন্তু শশুরবাড়ির লোকজন জাহাঙ্গীর আলম আত্মহত্যা করেছে বলে লাশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে। জানা যায়, চট্রগ্রামের সীমা গেটে মাটিকাটার কাজ করতো জাহাঙ্গীর আলম। গত শুক্রবার সহকর্মীদের রেখে স্ত্রী-সন্তানদের বাড়িতে নিয়ে আসার উদ্দেশ্যে চান্দিনার পানিপাড়া গ্রামের শশুর নুরুল হোসেনের বাড়িতে যায়। ওই রাতেই গলায় ফাঁস লাগিয়ে জাহাঙ্গীর আলম আত্মহত্যা করেছে বলে মোবাইল ফোনে তার পরিবারের লোকজনকে জানায় শশুরবাড়ির লোকজন। শনিবার লাশ আনতে পানিপড়া গ্রামে যায় ছোট ভাই আলমগীর।

তালতো ভাইদের কথা অনুযায়ি চান্দিনা থানায় পড়ে থাকা পলিথিনে মুড়ানো জাহাঙ্গীর আলমের লাশ নিয়ে রোববার সকালে ছাতকের নিজ বাড়িতে ফিরে সে। এখানে লাশ গোসল করানোর সময় লাশের সর্বাঙ্গে ধারালো অস্ত্রের আঘাত দেখে ছাতক থানায় বিষয়টি মৌখিকভাবে জানানো হয়। দেহ ক্ষত-বিক্ষত দেখে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাকে গত্যা করা হয়েছে বলে উপস্থিত লোকজন মন্তব্য করেছেন। লাশের পিঠের উপড়ের দিকে ডানে-বামে ও ডান হাতে বড় রকমের রক্তাক্ত আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে তার পরিবারের লোকজনের ধারনা।

এদিকে গত ৩০ এপ্রিল ছুরতহাল রিপোর্টে চান্দিনা থানার এসআই জাকির হোসেন উল্লেখ করেছেন, গলায় ৩ ইঞ্চি পরিমান কালো দাহ, বাম ও ডান কাদে কালো দাগ, ডান হাতের কনুইয়ের উপরে ও নিচে হালকা কাটা ও রক্ত বেরুচ্ছে। শশুরবাড়ি সংলগ্ন একটি গাছের ডালের সাথে পলায় ওড়না পেছিয়ে মৃত্যুবরন করেছে। কিন্তু ছুরতহাল রিপোর্টের সাথে লাশের বাস্তবতার কোন মিল পরিলক্ষিত হচ্ছে না। নিহতের ছোট ভাই আলমগীর জানান, মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে চান্দিনা থানা থেকে সে পলিথিনে মুড়ানো ভাইয়ের লাশ সংগ্রহ করে। ভাবী ও ভাতিজা-ভাতিজির সাথে কথা বলার চেষ্টা করলে শশুরবাড়ির লোকজনের বাধার মুখে তারা তার সামনে আসতে পারেনি।

স্কুল পড়ুয়া ভাতিজা-ভাতিজিদের একটি ঘরে আটকে রাখা হয়। ভাবীকে লাশের সাথে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসার অনুনয়-বিনয় করা হলে অসুস্থ বলে তার সাথেও দেখা করতে দেয়নি শশুর-শাশুরী ও শ্যালরা। তাদের মারমুখী আচরনে ভীত হয়ে নিরাপদে লাশ নিয়ে ফিরে আসেন বলে আলমগীর জানান।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল মান্নান ও সদস্যা রিনা বেগম জানান, তাকে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। পুনঃময়না তদন্তের দাবিও করেন তারা। নিহতের বৃদ্ধ পিতা রহমত আলী জানান, জাহাঙ্গীর আলমের শশুর বাড়ির লোকজন লাশ নিয়ে থানা-পুলিশ বা ঝামেলা না করার জন্য মোবাইল ফোনে হুমকি দিচ্ছে। তিনি তার পুত্র হত্যার বিচার চান।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: