সর্বশেষ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ভালো নেই মৌলভীবাজারের চা শ্রমিকরা

cha sromik moulvibazar news daily sylhet 0-90 copyজালাল আহমদ::
মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন মৌলভীবাজারসহ দেশের ১৬৫টি চা বাগানের শ্রমিকরা। প্রায় ২০০ বছর ধরে মৌলভীবাজারের ৯২ টি চা বাগানে বংশপরম্পরায় কাজ করছেন চা শ্রমিকরা। তাদের শ্রমে এই শিল্পের উন্নয়ন হলেও শ্রমিকদের ভাগ্যের পরিবর্তন হচ্ছে না। দৈনিক একজন শ্রমিকের মজুরি ৮৫ টাকা। আর সেই সাথে সপ্তাহ শেষে তিন কেজি খাওয়ার অনুপযোগী আটা। তা-ও আবার ওজনে কম। মৌলিক চাহিদা পূরণে দীর্ঘদিন ধরে মজুরি বৃদ্ধি, ভূমি অধিকার, বাসস্থান ও চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়নসহ বিভিন্ন দাবি চা শ্রমিকদের। কিন্তু বাস্তবায়ন না হওয়ায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন চা শ্রমিক পরিবারের সদস্যরা। শ্রম দিয়ে চা বাগান আগলে রাখলেও তাদের শিক্ষা চিকিৎসা এখনও অনুন্নতই রয়ে গেছে।

সরকার তাদের আবাসস্থল নিজ নিজ মালিকানায় করে দিবে বললেও এখনও এর অগ্রগতি হচ্ছে না কিছুই। আর এজন্য দীর্ঘদিন ধরে ভূমি নিয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম করে আসছেন শ্রমিকরা।

শ্রীমঙ্গলের ফুলচড়া চা বাগানের মহিলা চা শ্রমিক কুমারি মুণ্ডা । সারা বছর-ই যিনি চা শ্রমিকদের আন্দোলন-সংগ্রামের সাথে কাটাচ্ছেন জীবন। মে দিবসের সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে তিনি জানান, প্রতি বছর চা বাগানের অনেক মানুষ নিয়ে আমরা মে দিবস পালন করি। আমাদের দু:খ-দুর্দশা সবার কাছে তুলে ধরি। কিন্তু আমাদের আমাদের এই আন্দোলন কে শুনবে, কি হবে আর মে দিবস পালন করে।

শ্রীমঙ্গল কালিঘাট ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও চা শ্রমিক নেতা মুক্তিযোদ্ধা পরাগ বাঁড়ই বলেন, চা শ্রমিকরা সেই ব্রিটিশ আমল থেকে এ দেশে বাস করছে। তারা ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযোদ্ধে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীনেও অংশ নিয়েছিলো। সেই চা শ্রমিকরা আজও অবহেলিত। বর্তমান শ্রমিকবান্ধব সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে দাবি জানাচ্ছি-এই অবহেলিত চা শ্রমিকদের বাসস্থানের জায়গাটুকু যাতে তাদের নিজের নামে করে দেওয়া হয়। এতে বাগান কর্তৃপক্ষ যখন-তখন তাদের ভূমি থেকে উচ্ছেদ করতে না পারে।

সকালে লবণ দিয়ে এক মগ চা আর সাথে দু’মুঠো চালভাজা খেয়ে বাগানে যেতে হয়, তার উৎপাদিত চা ও দুধ-চিনি দিয়ে খাওয়ার সামর্থও নাই এই শ্রমিকদের। সারা দিন এক পায়ে দাঁড়িয়ে, মাইলের পর মাইল হেঁটে কঠোর পরিশ্রম। যারা পাতা তোলেন, ২৩ কেজি পাতা তুললেই কেবল দিনের নিরিখ পূরণ হয়, হাজিরা হিসেবে গণ্য হয়। গাছ ছাঁটারকালে অন্তত ২৫০টা গাছ ছাঁটতে হয় দিনে। কীটনাশক ছিঁটালে ১ একর জমিতে কীটনাশক ছিঁটালেই তবে নিরিখ পূরণ। দুপুরে এক ফাঁকে মরিচ আর চা পাতার চাটনি, সাথে মাঝে মাঝে মুড়ি, চানাচুর। এই হচ্ছে শ্রমিকদের দৈনন্দিন জীবন।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরী জানান, চা শ্রমিকদের ২০ দফা দাবি মালিকপক্ষকে লিখিত দেবার পর কয়েক দফা দ্বিপক্ষীয় আলোচনা হয়েছে। তবে মালিকপক্ষ কালক্ষেপণ করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

শ্রীগোবিন্দপুর চা বাগানের মালিক মহসিন মিয়া জানান, বড় বিনিযোগে পরিচালিত চা বাগানকে টিকিয়ে রাখতে এবং শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা হবে-এমন সুষ্ঠু সমাধান প্রয়োজন।

লোকবলের অভাবে বাগানগুলোতে সঠিকভাবে শ্রম আইন বাস্তবায়ন হচ্ছে না-স্বীকার করে কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শক অধিদপ্তরের উপ-মহাপরিদর্শক আজিজুল ইসলাম জানান, শ্রমিক আইনের আওতাধীন চা শ্রমিকদের সমস্যা সমাধানে কাজ করছেন তারা।

চা শ্রমিকরা জানান, বাগানের হাসপাতালে ভালো চিকিৎসার অভাবে অনেকেই মৃত্যুমুখে পতিত হয়। ভালো করে চিকিৎসাও নিতে পারেন না তারা। বাগানে যে কয়েকটি ছোট হাসপাতাল রয়েছে তাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ঔষধ ও ডাক্তার না থাকায় চিকিৎসার জন্য রোগমুক্তিও হয় না। অকালে প্রাণ ঝরে যাচ্ছে অনেকের। তাছাড়া বাগানের কিছু কিছু ছেলেমেয়ে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হলেও চাকুরি ক্ষেত্রে বড় কোনো পদ পাচ্ছে না তারা। যারাই বাগানে কাজ করে হয় শ্রমিক, না হয় নিম্ন কোনো পদে।

চা গাছ ছেঁটে ছেঁটে ২৬ ইঞ্চির বেশি বাড়তে দোঁ হয় না। চা শ্রমিকের জীবনটিও তাই ছেঁটে দেয়া চা গাছের মতোই, লেবার লাইনের ২২২ বর্গফুটের একটা কুঁড়েঘরে বন্দী তাদের জীবন। মধ্যযুগের ভূমিদাসের মতোই চা মালিকের বাগানের সাথে বাঁধা যেনো তাদের নিয়তি। চা শিল্প বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্প। জাতীয় অর্থনীতিতে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বাংলাদেশের চা উৎপাদন করে পৃথিবীর ২৫টি দেশে রপ্তানি করা হয়।

এই চা উৎপাদনে যারা সরাসরি জড়িত তারাই চা শ্রমিক। চা শ্রমিকরা সকল নাগরিক সুবিধা ভোগের অধিকার সমভাবে প্রাপ্য হলেও তারা পারিবারিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। তাদের প্রতি সদয় আচরণ ও তাদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় সচেষ্ট হওয়া পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র এমনকি সকলের দায়িত্ব। যাদের শ্রমে অর্জিত হচ্ছে হাজার কোটি বৈদেশিক মুদ্রা তাদের অবহেলিত না রেখে তাদের অধিকার বাস্তবায়ন করা হোক-এমনটাই প্রত্যাশা করছেন দেশের চা শ্রমিক নেতারা।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: