সর্বশেষ আপডেট : ২৭ মিনিট ৬ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সিলেটে বাড়ছে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম

hr2বিশেষ প্রতিনিধি::
রাজন আহমদ। বয়স ১১ বছর। প্রতিদিন রাজন সিলেটের প্রবেশধার বলে খ্যাত কিনব্রিজের ওপর তাকে প্রতিদিনই পাওয়া যায়। শুধু রাজন নয়, তার মতো আরও ১০ থেকে ১৫ জন শিশুর ঝটলা তাকে। কারণ একটাই তারা ঢালু থেকে ব্রিজে উঠতে পেছন থেকে তারা রিকশা ঠেলে ওপরে তোলার কাজ করে। ২০০ মিটার রিকশা ঠেলার বিনিময় রাজনরা পায় ২ টাকা। হাড় ভাঙা এই শ্রমের বিনিময়ে আবার কেউ কেউ ৫ টাকাও দেন।

মে দিবসের সকালেও রাজনকে রিকশা ঠেলতে দেখা যায়। কথা হয় রাজনের সঙ্গে। রাজন জানালো, তারা তিনভাই একবোনের মধ্যে সে দ্বিতীয়। বড় দুই ভাই বিয়ে করে চলে গেছে অন্যত্র। রাজন ও ছোটবোনকে নিয়ে তার মায়ের সংসার। মা অন্যের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করেন। তা দিয়ে দু’জনের সংসার চলে যেত। বাধ সাধে মায়ের অসুস্থতা। রাজন বাধ্য হয়েই কিনব্রিজে রিকশা ঠেলার কাজ নেয়।

প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টা কাজ করে কোনো দিন ১০০ টাকা, আবার কোনোদিন দেড়শ টাকা রোজগার করে রাজন। মায়ের ওযুধ ক্রয় করতে প্রতিদিন খরচ হয় ৩০ টাকা বাকি টাকা দিয়ে চাল-ডাল খেয়ে চলে রাজনদের সংসার।

রাজন স্কুলে যায় কি-না প্রশ্ন করলে থমকে দাঁড়ায়! জানায়, গরিবের আর লেখাপড়া! সরকার প্রাথমিক শিক্ষা অবতৈনিক করে দিয়েছে জানালে বলে, তা আমাদের জন্য নয়। স্কুলে গেলে ভাত দেবে কে পাল্টা প্রশ্ন করে রাজন।

শুধু রাজন নয়, রাজনের চেয়ে দু’বছরের বড় মাছুম আলী। সিলেট নগরের ঘাসিটুলা এলাকার একটি ভাড়াটে কোলোনিতে থাকে সে। রাজনের মতো এই কিনব্রিজে মাছুমও রিকশা ঠেলার কাজ করে। সে জানায়, তার ৬ বছর বয়সে বাবা আরেকটি বিয়ে করে অন্যত্র চলে গেলে তাদের তিনজনের সংসারে নেমে আসে অভাব। বাধ্য হয়ে সংসারে হাল ধরতে সে উপার্জনে নামে।

প্রথমে একটি ওয়ার্কশপে কাজ করলেও পরে সে জীবিকার জন্য তিন চক্রের যান রিকশা বেছে নেয়। সে জানায়, ছোট বলে অনেক সময় অনেক যাত্রী তার সঙ্গে ব্যঙ্গ আচরণ করেন। আবার অনেকেই রিকশায় উঠতে চান না। তাই এখন বাধ্য হয়ে মাসুম কিনব্রিজে রিকশা ঠেলার কাজ নেয়।

নয়াসড়ক এলাকায় একটি ওয়েল্ডিংয়ের ওয়ার্কশপে কাজ করে শিশু রায়হান। সকাল ৯টায় এসে ওয়ার্কশপ খুলে সে। এরপর ১০টায় আসেন অন্য মেকানিকরা। সারাদিন তাদের সঙ্গে কাজ করে রাত আটটায় ছুটি পায় রায়হান। ১০ ঘণ্টা ঝুঁকিপূর্ণ এই খাটুনি শেষে রায়হান মাস শেষে পায় ২ হাজার টাকা। তবে তার চেয়ে বড় শ্রমিকরা এখানে রায়হানের চেয়ে ৫ গুন বেশি মজুরি পান।

জীবিকার তাগিদে রাজন ও মাছুম আলী ও রায়হানদের মতো অসংখ্য শিশু সিলেট নগরে বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে নিয়োজিত। যে বয়সে তাদের বইখাতা নিয়ে স্কুলে যাওয়ার কথা, সেই বয়সে তারা টাকা রোজগারের জন্য কাজ করছে।

বাংলাদেশের ও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী শ্রমিকের কাজের সময়সীমা আট ঘণ্টা। কিন্তু শিশু শ্রমিকদের ক্ষেত্রে এই আইন লঙ্ঘন করা হয়। শিশুদের দিয়ে ১০-১২ ঘণ্টা কাজও করানো হয়ে থাকে।

শিশুরা মোটরগাড়ি, সাইকেল-রিকশা সারাইয়ের গ্যারেজ, ওয়েল্ডিংয়ের ওয়ার্কশপ, ইটভাটা, চায়ের দোকানসহ বিভিন্ন দোকান, হোটেল, রেস্তোরাঁ ও বাসাবাড়িতে কাজ করে জীবন-জীবিকার পথ খোঁজে। অনেক শিশু রাজমিস্ত্রির সাহায্যকারী হিসেবে কাজ করে।

এ ছাড়া সিলেটে অনেক শিশু বাস, টেম্পো, ইজিবাইক প্রভৃতি যানবাহনে সাহায্যকারী হিসেবে কাজ করে। আবার অনেক শিশুকে নগরীর কিন ব্রিজের নিচে রিকশা ঠেলেও জীবিকা উপার্জন করে থাকে। শিশুদের অল্প পারিশ্রমিক দিয়ে বেশি কাজ করে নেওয়া যায় বলে মালিকেরাও তাদের নিয়োগ করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রেস্তুরা মালিক জানান, শিশু শ্রমিকই ভালা। যা মজুরি দেই, বাড়াবাড়ি করে না। কাজও ভালা করে। আর তারারও তো টেকার দরকার। দু’পক্ষেরই লাভ। লোকসান নাই।

সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট এমাদউল্লাহ শহিদুল ইসলাম শাহিন বলেন, আইনে শিশুশ্রম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। শিশুশ্রম বন্ধ করতে আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ হওয়া দরকার। আইনের সঠিক প্রয়োগ হচ্ছে কি না, এটি পর্যবেক্ষণ করতে হবে। এ জন্য আরও বাজেট ও জনবল বাড়াতে হবে বলে মনে করেন তিনি।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: