সর্বশেষ আপডেট : ১০ মিনিট ২৭ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

‘আমার বাবা-ভাই-বোন, সবকিছু জনগণ’

12240_leadনিউজ ডেস্ক::
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘আমার বাবা নেই, ভাই নেই, বোন নেই, আমার একমাত্র ভরসা আপনারাই, জনগণ। আপনারা আমার বাবা, ভাই, বোন, সবকিছু।’

রবিবার বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহান মে দিবস উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল আয়োজিত এক শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমি বাংলাদেশ থেকে কোথাও যাব না। কিন্তু তারা (আওয়ামী লীগ) চেষ্টা করেছে আমাকে দেশের বাহিরে যেতে। বলেছে, তুমি না গেলে তোমার ছেলেকে ধরে নেয়া হবে, মামলা দেয়া হবে। আমার ছেলেরাও বলেছে, বাংলাদেশ থেকে কোথাও যাব না আমরা।’

উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘আপনারা আমাকে সহযোগিতা করবেন না? অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াবেন না? গুম-খুনের বিরুদ্ধে দাঁড়াবেন না।’ এসময় নেতাকর্মীরা হ্যাঁ বলে খালেদা জিয়ার প্রশ্নের উত্তর দেন।

খালেদা জিয়া বলেন, ‘আজকে বাংলাদেশে কারো অধিকার নেই। এরা দেশের মানুষকে মানুষ মনে করে না। তাই নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য এদের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে, আন্দোলন করতে হবে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের টাকা চুরি নিয়ে তিনি বলেন, ‘আজ পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক লুট হয় নাই। স্বাধীনতার ৪২ বছরে এমন লুট হয় নাই। এর জবাব অর্থমন্ত্রী এবং হাসিনাকে দিতে হবে।’

সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয় বলে দাবি করে তিনি বলেন, ‘এরা জবর দখলকারী। নতুন নতুন আইন তৈরি করছে তারা যাতে আজীবন ক্ষমতায় থাকতে পারে। এজন্য প্রতিনিয়ত সংবিধানে নানারকম পরিবর্তন করছে।’

আওয়ামী লীগকে কোনোভাবেই দেশের মানুষ বিশ্বাস করে না মন্তব্য করে তিনবারের সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাই তারা ক্ষমতায় থেকে নির্বাচন করতে চায়। কিন্তু ক্ষমতায় থেকে নির্বাচন হলে সাংবাদিকসহ সবাই দেখেছে কিভাবে সব কিছুতেই এখন জবর দখল করে। মানুষকে ভোট কেন্দ্রে আসতে না দিয়ে নিজেরা বাক্সভরে নিজেরা ফলাফল ঘোষণা করে।’

নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন এ অপকর্মের সাক্ষী। প্রতিনিয়ত নির্বাচন কমিশনকে অভিযোগ করা হয় কিন্তু আজ পর্যন্ত তারা কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে নাই। হাসিনা যেরকম নির্বাচন কমিশনও তেমন।’
সরকার উন্নয়নের যত কথা বলে তার থেকে বেশী চুরি করে মন্তব্য করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থেকে ৭ বছরে ৩০ হাজার কোটি টাকা পাচার করেছে। এ আওয়ামী লীগ যতদিন থাকবে এ দেশটাকে তারা শেষ করে দিবে।’

‘বিএনপি শেষ হয়ে গেছে’ এ মন্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিএনপি শেষ হয়নি, রাজপথেই আছে, মানুষের সঙ্গেই আছে।’
নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘এখন আমাদের শুধু মাত্র শ্লোগান দিলে চলবে না। দেশে কি হচ্ছে না হচ্ছে তার খবর রাখতে হবে।’
সাংবাদিক শফিক রেহমানকে গ্রেফতার নিয়ে তিনি বলেন, ‘এ লোকটাতো রাজনীতি করে না। তাহলে এ লোকটাকে হঠাৎ বাড়ি থেকে ধরে নিল কেন? তাও আবার সাংবাদিক পরিচয়ে। পুলিশ পরিচয় দিতে ভয় পায়। তার দোষটা ছিল জয় বাংলাদেশী টাকায় আড়াই হাজার কোটি টাকা নিয়ে ওখানে আয়েস করছেন সাংবাদিক হিসেবে তিনি এগুলো সংগ্রহ করেছেন।’

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আপনার ছেলে জয়কে আইনের আওতায় নেয়া দরকার, তাকে জিজ্ঞেস করা দরকার।’
সরকারের মদদে এসব গুম, খুন হচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘হাসিনা বলে বিএনপি ক্ষমতায় না আসতে পেরে গুপ্ত হত্যা করছে। কিন্তু ক্ষমতায় আসার সুযোগ কোথায়? নির্বাচন কি হয়েছে? আমরা চোরাপথে ক্ষমতায় আসতে চাই না। আমরা দাবি করছি গণতন্ত্রের জন্য।’

তিনি বলেন, ‘মে দিবস শুধু কথা শোনার জন্য আর আনন্দ করার জন্য জন্য। এটা একটা শোকের দিন। গণতন্ত্রের জন্য বাংলাদেশে অনেক মানুষ জীবন দিয়েছে কিন্তু গণতন্ত্র আজও বাংলাদেশ আসেনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কি অবদান মুক্তিযুদ্ধে? সত্যিকারের মুক্তিযুদ্ধের দল হল বিএনপি। অনেকের অনেক ঠিকানা আছে, তবে বিএনপির ঠিকানা বাংলাদেশ। সেজন্য বিএনপি এত অত্যাচার সহ্য করেও টিকে আছে।’

বিকেল সোয়া ৪টায় সমাবেশস্থলে উপস্থিত হন সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী। সমাবেশকে কেন্দ্র করে কানায়-কানায় পূর্ণ হয়ে যায় ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্দ্যান।
শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ. স. ম. হান্নান শাহ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, ডঃ মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, আব্দুল্লাহ আল নোমান, সিনিয়র যুগ্ন মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, যুগ্ন মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, মজিবুর রহমান সরোয়ার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সালাম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুল, কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম খান নাসিম, ছাত্রদল সভাপতি রাজীব আহসান ও সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান প্রমুখ।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: