সর্বশেষ আপডেট : ৭ ঘন্টা আগে
শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

‘আমার এ পর্যন্ত আসাটা সহজ ছিল না’

12119_x1নিউজ ডেস্ক::
বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ বলেছেন, বিএনপির নবগঠিত কমিটিতে বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে। আরো পরিবর্তন আসবে। যেটাকে আমি ইতিবাচক মনে করি। সাংবাদিকরা একেকজন একেকভাবে ব্যখ্যা দেন। এতদিন উনারা বলেছেন, বিএনপিতে পরিবর্তন আসা দরকার। এখন পরিবর্তন আসার পর সমালোচনা করা হচ্ছে। তবে যেকোনো পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই অ্যাকশনটা বোঝা যায় না। পরিবর্তনটাকে প্রথমে গ্রহণ করতে হয়। তারপর সেটা ভালো হলো না খারাপ হলো সময়ই বলে দেবে।
এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। শামা ওবায়েদ বলেন, রাজনীতিতে এবং কমিটিতে নারীদের সংখ্যা বাড়ানো উচিত। এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ পদে নারীরা আরো আসবে। আমি মনে করি নারীরা যখন কোনো কাজ করে আরো বেশি সততার সঙ্গে করে। প্রথম থেকেই দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীদের ভূমিকার কথা আমরা সবাই জানি। আমরা গণতন্ত্রের কথা বলি প্রতিদিন। কিন্তু গণতন্ত্রকে কতটা অনুধাবন করি। বর্তমান সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত ভীতিকর। ভোটারবিহীন সরকার জোর করে ক্ষমতায় থাকতে চাচ্ছে।

শামা ওবায়েদ বলেন, আমার পিতা কে এম ওবায়দুর রহমান ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক। তিনি বিএনপির মহাসচিব এবং স্থায়ী কমিটির মেম্বার ছিলেন। বাবা মারা যাওয়ার আগ থেকেই রাজনীতিতে ছিলাম। কিন্তু বাবার মৃত্যুর পর নির্বাচনী এলাকায় সক্রিয়ভাবে কাজ শুরু করি। নতুন কমিটি ঘোষণা হওয়ার আগে আমি বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলাম। একজন মেম্বার হিসেবে আমার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছি। নতুন কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়ায় চেয়ারপারসন এবং সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানাই। নতুন পদে যেন নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে পারি সেজন্য দলের নেতাকর্মীদের কাছে দোয়া চাই।

শামা ওবায়েদ বলেন, এখন বাস্তবতা হচ্ছে দেশে গণতন্ত্র অনুপস্থিতি। এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হচ্ছে দেশে আইনের শাসন না থাকা। প্রতিদিন মানুষ গুম, খুন হচ্ছে। ব্লগার, শিক্ষক সাধারণ মানুষ কেউই বাদ পড়ছেন না। ধর্ষণ, শিশুহত্যা সবকিছু বাড়ছে। এটা তো একটা অ্যালার্মিং ব্যাপার। শুধু রাজনৈতিক দলের সদস্যরা নন, সবাই ভীতসন্ত্রস্ত। এ অগণতান্ত্রিক ফ্যাসিবাদী পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের একটাই উপায় হচ্ছে জাতীয় ঐক্য। দেশে বিভিন্ন রকম রাজনৈতিক দল আছে যাদের আদর্শের মিল না থাকতে পারে, ব্যক্তির মিল না থাকতে পারে কিন্তু সবাই একটাই চাই যে দেশটা ভালো থাকুক। সবার ভোটাধিকার থাকুক নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক। এখন যে নির্বাচনই হোক না কেন সকাল ১০টার মধ্যেই ভোট শেষ। এখন সব ডিজিটাল আমার যাওয়া লাগবে না, আমি যাওয়ার আগেই আমার ভোট দেয়া হয়ে যাচ্ছে। এ সিস্টেম থেকে সবাই পরিত্রাণ পেতে চায়।

তিনি বলেন, মামলা হামলায় আমরা জর্জরিত। ঢাকায় বসে কিন্তু আমরা অনেকেই বুঝি না সারা বাংলাদেশে আমাদের নেতাকর্মীদের কি অবস্থা। সাংঘাতিক করুণ অবস্থা। অর্থকষ্টে সবাই জর্জরিত, একটি মামলা চালাতে কত টাকা খরচ হয়। তার মধ্যে যদি কারও নামে ১০-২০টা মামলা থাকে তাহলে তার পরিবারের কিছু অবশিষ্ট থাকে না। যেহেতু নেতাকর্মীরা মামলায় আছে দলটা অবশ্যই একটু বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছে। সেটাকে গুছিয়ে দলকে শক্তিশালী করে আমরা জনগণের ইস্যু নিয়ে কাজ করব। বিএনপি এখন আর শুধু পলিটিক্যাল ডিবেট, পাল্টা জবাব দেবে এমন না। তথ্য উপাত্ত ও যুক্তি দিয়ে আমরা আমাদের কথা প্রমাণ করব। গালাগালি নয়, বিএনপি তথ্যভিত্তিক রাজনীতি করতে চায়। আমরা আশাবাদী যে পজিটিভ কিছু আসবে। আওয়ামী লীগের অত্যাচারে তো আমরা আছিই শুধু আমরা না যেকোনো বিরোধী দল এবং মতকেই তারা সহ্য করতে পারছে না। ইমরান এইচ সরকারের বিরুদ্ধে লেগে গেল। অথচ ইমরান এইচ সরকারকে জন্মই দিল আওয়ামী লীগ। শুধু তাদের পক্ষে কথা বলতে হবে না হয় আপনি বিএনপি, জামায়াত, জঙ্গি।

শামা ওবায়েদ বলেন, মানুষতো রাস্তায়ই নামতে পারে না। রাস্তায় নামলে না আন্দোলন করবে। আমরা দল করি ঠিকই কিন্তু সবারতো জানের মায়া আছে। নেতাকর্মীরা মাঠে নামতে চেয়েছে কিন্তু তাদের গুমের ভয় দেখানো হয়েছে। আপনি কি জানেন আমাদের ছাত্রদল-যুবদলের কত ছেলে গুম হয়েছে, অনেকে এখনও নিখোঁজ আছে। আগে রাবার বুলেট, জলকামান, লাঠিচার্জ হতো সেটা মেনে নেয়া যায়। কিন্তু এরকম সরাসরি গুলি করা এটাতো আগে কখনও হয়নি। আপনি বাসায় বসে থাকলে সাদা পোশাকে এসে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে আপনাকে তুলে নিয়ে যাবে এটা এখন হচ্ছে। আগে অনেক কিছুই ছিল না যেগুলো এখন আওয়ামী লীগ পরিচয় করাচ্ছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের একটা প্রজেক্ট ছিল বিএনপিকে ভাঙা। যেটাতে তারা সফল হয়নি। আওয়ামী লীগের একটা ইচ্ছ সবদলকে ভেঙে দেয়া। সব ইচ্ছাতো আর পূরণ হয় না। বিএনপিকে ভাঙাতো এত সহজ না। রাজনীতিতে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমার কোন প্ল্যান-প্রোগ্রাম নেই। আমি কাজ করে যেতে চাই দেশের জন্য নির্বাচনী এলাকার জন্য। আমার এ পর্যন্ত আসাটা সহজ ছিল না। বিশেষ করে মেয়েদের জন্য রাজনীতিতে আসা সহজ ব্যাপার না। এটা আমার ভাগ্য আমি পরিবারের সহযোগিতা পেয়েছি। সে জন্য সবার কাছে আমি কৃতজ্ঞ।মানবজমিন

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: