সর্বশেষ আপডেট : ৩ ঘন্টা আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

‘এই শহরে’…

full_1575388132_1462038133ব্যাপারটা নতুন না। এলাকার নাম যা বানান করে লেখা হয় তা প্রায়শ:ই মুখে বলা হয় না। আমার এলাকার নাম লেখা হয় ‌‌‘সরিষাবাড়ি’। কিন্তু স্থানীয়রা এই নামে ডাকেনা। বলে ’সইষ্যাবাড়ী। লেখা হবে ’ময়মনসিংহ’। বলা হবে ’মমেনসিং’। ইন্ডিয়াতে দেখেছি ‘আহমেদাবাদ’কে মুখে মুখে বলা হয় ‘আমদাবাদ’। কলিকাতাকে ‘কোলকাতা’।

বাংলাদেশ থেকে শহরের নাম জেনে এলাম ‘টরেন্টো’। এখানে এসে দেখলাম অনেক বাঙ্গালীই এটাকে ইংরেজি বানানের (Toronto) মতো করে ‘টরন্টো’ বলে। এরপর আদি শহরবাসীদের সংগে মিশে বিস্ময় নিয়ে শুনলাম তারা দুটোর একটাও বলছেনা। খুব দ্রুত উচ্চারণে যা বলছে তা অনেকটা শোনাচ্ছে ‘ট্র-ওনা’(Trawna)!

বাংলদেশে কবে থেকে ব্যাপারটা শুরু হলো ঠিক মনে নেই। বছর দশেক হতে পারে। হঠাৎ করেই ‘এ যুগের’ ছেলে-মেয়েরা ইংরেজী “So..So” ছাড়া বাংলায় কথা বলতেই পারছে না! আগে So, পিছে So, মাঝখানে So।

কানাডার নতুন প্রজন্ম So..So বলে না। বলে Like… Like। আগে Like, পিছে Like, মাঝখানে Like।

আমরা শিখে এসেছি ইংরেজী ‘LIKE’ এর দুই অর্থ:
Similarity (সাদৃশ্য) – “This tastes like chicken.”
Enjoyment (পছন্দ) – “I like this movie.”

কিন্তু এই ‘ট্র-ওনা’ শহরে ঠান্ডার পর যে জিনিসটা সবচেয়ে কমন তা হচ্ছে তরুণদের মুখে ‘লাইক’ শব্দ! কোনো গ্রামার না মেনেই।

কিছু উদাহরণ দিচ্ছি:
“He was, like, so tall.”
“She’s, like, really happy with her new job.”
“Are you like, serious?”,

সকালে সাবওয়েতে অফিসে যাওয়ার সময় চোখ বন্ধ করে ঘুমানোর চেষ্টা করি। কোনো কোনো দিন পাশে বসে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তরুন-তরুনী। তারা কলকল করে কথা বলে। শুনতে খারাপ লাগে না। শুধু যদি সেকেন্ডে সেকেন্ডে Like বলাটা একটু কমাতে পারতো….!

এক সময় সাভার ক্যান্টনমেন্টে থেকেছি। নবীনগর থেকে কালিয়াকৈর যাওয়ার জন্য ছিলো বিখ্যাত মুড়ির টিন বাস! আকার-আকৃতি পুরাই রঙ্গিন নকশা করা মুড়ির টিনের মতো। চলতো গদাই চালে। আমি নিজের চোখে সাইকেলকে এই বাসের আগে চলে যেতে দেখেছি।

টরন্টো শহরে এসে পেলাম RT মুড়ির টিন। আমার বাসা থেকে সাবওয়েতে উঠার আগে কিছুটা সময় এই RTতে যেতে হয়। RT মানে Rapid Transit। নামেই Rapid। পাঁচ-ছয় বগীর ছোটো টয় ট্রেন। মাটির উপর দিয়ে চলে। বিকট আওয়াজ। মনে হয় ভেঙ্গে-চুড়ে যাচ্ছে। আসলে গতি বেশি নাই। চলে আর কি!

টরন্টোতে এখন ঠান্ডা কমে এসেছে। লোকজন হাল্কা জ্যাকেট গায়ে বাইরে বেরুতে শুরু করেছে। দিন বড় হয়ে গেছে। অফিস থেকে ফেরার সময় দিনের আলো পাই।

সাবওয়ে শেষে বাড়ী ফেরার পথে এই RT ট্রেনে উঠে ভীড় ঠেলে-ঠুলে ডান পাশের একটা জানালার সামনে দাড়াতে শুরু করেছি আমিও। ঠিক Lawrence East ষ্টেশনের আগে আগে পড়বে জায়গাটা। কয়েকটা দালান, একটা মাঠ। তার পাশেই ছোট্ট একটা জলাশয়। ঠিক বাংলাদেশের পুকুরের মতো! আশে পাশে গাছপালা। ঝোপ-ঝাড়। সেই জলাশয়ে গোটা দশেক হাঁস! হেটে বেড়াচ্ছে। পানিতে ভাসছে। শেষ বেলার রোদ…কখনো মরা আলো…আমার সারা দিনের ক্লান্তি….ভাবনা…হাজার মাইল দূরে ফেলে আসা আমার নিজের দেশ…ঘর-বাড়ী..তার জন্য দীর্ঘ শ্বাস… জীবনানন্দ ছাড়া আর কেউ বলতে পারেনি এখনো।

“যদি আমি ঝরে যাই একদিন কার্তিকের নীল কুয়াশায়;
যখন ঝরিছে ধান বাংলার ক্ষেতে-ক্ষেতে ম্লান চোখ বুজে,
যখন চড়াই পাখি কাঁঠালীচাপাঁর নীড়ে ঠোঁট আছে গুজে,
যখন হলুদ পাতা মিশিতেছে খয়েরি পাতায়,
যখন পুকুরে হাঁস সোঁদা জলে শিশিরের গন্ধ শুধু পায়”
সালাহ উদ্দিন শৈবাল, টরন্টো, কানাডা

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: