সর্বশেষ আপডেট : ৫ মিনিট ৪৮ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ছাতকে বোরো কাটার ভর মৌসুমে হাওড়ে বইছে জলতরঙ্গ : তথ্য নিয়ে কৃষি বিভাগের লুকচুরি

77e68c17-3990-446c-a582-961bdfcfe7d9জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, ছাতকঃ
ছাতকের হাওড় পাড়ে চলছে ফসলহারা কৃষকদের আহাজারি। বোরো ধান কাটার ভর মৌসুমে হাওড়ে-হাওড়ে বইছে জলতরঙ্গ। পানিতে তলিয়ে যাওয়া ফসলের পঁচা গন্ধ ছড়াচ্ছে বাতাসে। চৈত্র-বৈশাখ মাসে যেখানে কিষান-কিষানীদের কর্মব্যস্ততায় হাওড় পাড় জুড়ে চলতো ধান কাটা, মাড়াই-ঝাড়াইয়ের ও গোলায় তোলার মহোৎসব। এর স্থলে হাওড়পাড়ে বইছে এখন কান্না, বিষাদ ও আহাজারি। শনিবার নোয়ারাই ইউনিয়নের নাইন্দার হাওড় ও হাওড় পাড়ের ফসলহারা কৃষকদের সাথে আলাপচারিতায় তাদের ফসলহারার বেদনা বিষাদভরে বর্ননা করেন। উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বড় হাওড় নোয়ারাই ইউনিয়নের নাইন্দার হাওড়। নোয়ারাই ইউনিয়নসহ দোয়ারাবাজার উপজেলার আরো ক’টি ইউনিয়নের মানুষের বছরের খাবার আসে নাইন্দার হাওড় থেকে।

শুস্ক মৌসুমে ধান আর বর্ষায় মাছ। চলতি বছরে হাওড়ের শতকরা ৬০ভাগ বোরো ফসল বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। পানি নিস্কাষনের ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিবছরই জলাবদ্ধতার কারনে নাইন্দার হাওড়পাড়ের কৃষকরা ফসলহারানোর তিক্ততার স্বাদ নিতে হয়। উপজেলার ছোট-বড় ৬৪টি হাওড়েরর প্রায় শতকরা ৮০ ভাগ বোরো ফসল ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। হাওড়গুলোর মধ্য ৪৭টি হাওরের ফসল কোনটির আংশিক এবং কোনটি সম্পুর্নভাবে তলিয়ে গেছে। ক্ষতির পরিমান নিয়ে স্থানীয় কৃষি অধিদপ্তরের দেয়া তথ্যের সাথে বাস্তবতার বিরাট ফারাক রয়েছে। কৃষিবিভাগের ক্ষতির পরিমান নিয়ে লুকচুরি বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্ট। উপজেলা কৃষি বিভাগের দেয়া তথ্য অনুযায়ি চলতি ২০১৫-১৬ বোরো মৌসুমে উপজেলায় ১২হাজার ৭শ ২৫হেক্টর জমিতে বোরো চাষাবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে উচ্চ ফলনশীল ১১হাজার ৬শ ১০হেক্টর, হাউব্রিড ৩শ ৩০হেক্টর ও স্থানীয় জাতের ৭শ ৮৫হেক্টর।

এখন পর্যন্ত সম্পূন্র্ বিনষ্ট হয়েছে ২৫০ হেক্টর বোরো ফসল এবং আক্রান্ত হয়েছে আরো ৯৭৫হেক্টর আধা পাকা ফসল। কিন্তু কৃষি বিভাগের হিসেবের সাথে কৃষকদের ক্ষতির পরিমানের কোন মিল নেই। চাষাবাদকৃত বোরোর শতকরা ৬০ থেকে ৬৫ভাগ ফসল ইতিমধ্যেই পানির নিচে চলে গেছে। শতকরা ২০ভাগ ফসল কাটা শেষ হয়েছে এবং আরো ২০ভাগ ফসল ডুবু-ডুবু অবস্থায় রয়েছে। কৃষককুলের দাবী অপরিকল্পিত বাঁধ ও বাঁধ নির্মানে অনিয়ম-দুর্নীতির কারনে এখানের বোরো চাষীরা তাদের ফসল হারিয়েছেন। পাকা ধান পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে দেখেও কিছুই করতে পারছেন না তারা। ফসলহারা কৃষদের আহাজারিতে হাওর পারের বাতাস এখন ভারি হয়ে ওঠেছে। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা তলিয়ে যাওয়া ফসলের দিকে চেয়ে কান্নায় ভাসছেন। ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মানে পুকুর চুরি হওয়ায় তাদের এ অফুরন্ত ক্ষতি হয়েছে বলে কৃষকরা মনে করছেন।

ফলসহানীর ক্ষতিপুরন ও বেড়ীবাঁধ নির্মানে অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের দাবীও তুলছেন ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা। নাইন্দার হাওড় পাড়ের পাটিবাগ গ্রামের কৃষক আজাদ মিয়া, আলতাবুর রহমান, আফাই মিয়া, রায়হান মিয়া ও লালু মিয়া জানান, শুধু বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে তাদের আধাপাকা ফসল এখন পানির নিচে। কিছু জমি কাটতে পারলেও সিংহভাগ ফসলই আধাপাকা থাকায় কাটা সম্ভব হয়নি। বাতিরকান্দি গ্রামের কৃষক মুজিবুর রহমান, সৈয়দ আলী, আকল মিয়া, নুর ইসলাম, রুহুল আমিন আক্ষেপ করে জানান, তাদের ক্ষতির কথা বলে কি লাভ হবে। ফসল হারিয়ে এখন তারা সর্বসান্ত। কেউ খবর নিতেও আসেনি।

বারকাপন গ্রামের কৃষক আফতাব মিয়া তালুকদার, সাজ্জাদ মিয়া, আনর মিয়া কয়েছ মিয়াসহ কৃষকরা বেড়ীবাঁধ নির্মানে অনিয়ম ও পানি নিস্কাষনের ব্যবস্থা না থাকাকে দায়ি করে জানান, এখন পর্যন্ত তারা চার ভাগের এক ভাগ ফসল কাটতে পেরেছেন। বাকী সব আধাপাকা ফসলই এখন পানির নিচে। ভবিষ্যতে বোরো ফসল চাষাবাদে কৃষকরা আগ্রহী হবেনা। সরকারের কাছ তারা ক্ষতিপুর দাবী করেছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জগলুল হায়দার জানান, প্রতিদিনই ফসলহানীর খবর আসছে। জরীপের মাধ্যমে সর্বশেষ সঠিক তথ্য লিপিবদ্ধ করা হচ্ছে। তথ্য লুকচুরির কোন সুযোগ নেই। তবে কিছুটা তারতম্য হতে পারে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: