সর্বশেষ আপডেট : ৪ মিনিট ৩২ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

‘গলি থেকে রাজপথে’

12194_s3খেলাধুলা ডেস্ক:
রিয়াদ মাহরেজ। বর্তমানে ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগের অন্যতম পরিচিত মুখ। ২৫ বছর বয়সী লেস্টার সিটির খেলোয়াড় চলতি বছরে ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগের সেরা ফুটবলার নির্বাচিত হয়েছেন। তার নৈপুণ্যে লেস্টার সিটিকে প্রথমবারের মতো প্রিমিয়ার লীগে শিরোপা জয়ের পথে। কিন্তু তার জীবনের লড়াইটা মোটেই সহজ ছিল না। ছোটবেলা থেকেই অনেক কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে তাকে যেতে হয়েছে। নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে আজ এই সাফল্যের মঞ্চে। রিয়াদের বাবা একজন আলজেরিয়ান। কিন্তু তার মা মরক্কোর।

জীবিকার তাগিদে তার বাবা-মা ফ্রান্সে পাড়ি জমান। ফ্রান্সের অন্যতম গরিব ও ভয়ানক অঞ্চল সারসেলাসে জন্মগ্রহণ করেন রিয়াদ। দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছোট ছিলেন। বড় ভাইয়ের নাম ওয়াহিদ মাহরেজ। আর মা সালেহা। রিয়াদ মাহরেজ ছোট থাকতে তার বাবা-মায়ের মধ্যে বিবাহ-বিচ্ছেদ ঘটে যায়। এরপর মাত্র ১৫ বছরে তিনি বাবাকে হারান। হার্টঅ্যাটাকে মারা যান আহমেদ মাহরেজ। হঠাৎ বাবাকে হারিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েন রিয়াদ। বাবাই ছিলেন রিয়াদের নায়ক। ফুটবলে হাতেখড়ি বাবার কাছ থেকে। আহমেদ মাহরেজ ছিলেন ফুটবলপ্রেমী। নিজেও আলজেরিয়ার আঞ্চলিক ফুটবল দলে খেলেন। নিজে জাতীয় দলে খেলতে না পেরে পুত্রকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতেন তিনি। ছোট্ট রিয়াদ মাহরেজকে ফ্রান্সের একটি স্থানীয় ক্লাবে ভর্তি করে দেন। বাবাই তাকে মাঠে নিয়ে যেতেন এবং আনতেন।

অনুশীলনে নানাভাবে সন্তানকে উৎসাহ দিতেন তিনি। কিন্তু রিয়াদের পরিবারে ছিল অভাব। নিজেদের ভালো বাড়ি ছিল না। শহরের বড় একটি বাড়ির পেছনে যে খালি জায়গা পড়ে ছিল সেখানে তারা মাথা গোঁজার জায়গা করে নেন। রিয়াদের বাবা মারা যান ৫৪ বছর বয়সে। তখন তার বয়স ছিল ১৫ বছর। বাবা মারা যাওয়ার পর তারা আবার ফিরে যান আলজেরিয়ায়। বড় ভাই ওয়াহিদ মাহরেজ জীবন চালানোর জন্য বিভিন্ন জায়গায় কাজ করতেন। আর রিয়াদ ঘুরে বেড়াতেন ক্লাবের দ্বারে দ্বারে। ওই সময় তার শরীর ছিল হালকা-পাতলা ও লিকলিকে। এতে তাকে কোনো ক্লাব নিতে চাইতো না। প্রতিটি মুহূর্ত কাটাতে হয়েছে চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে।

ট্রায়ালের সুযোগ পাওয়ার জন্য অনেক বার বলা সত্ত্বেও তাকে কেউ গ্রাহ্য করতো না। এমন তিক্ত অতীতের কথা রিয়াদের মা সালেহা জানালেন ‘ডেইলি মেইল’-এর কাছে। সেই উপেক্ষিত, দারিদ্র্যতার কষাঘাতে জর্জরিত মাহরেজ এখন প্রতিষ্ঠিত বিশ্ব নন্দিত ফুটবলার। জীবন সংগ্রামে মাঠ ও মাঠের বাইরে সব লড়াইয়ে জয়ী হয়েছেন আহমেদ মাহরেজের ছোট ছেলে। ফ্রান্সের যে অঞ্চলে তিনি থাকতেন সেখানে এখন এমন কেউ নেই, যে সপ্তাহে ৫৫০০০ হাজার ডলার আয় করে। কিন্তু রিয়াদ মাহরেজ করেন। খেলার ফাঁকে ছুটি পেলে তিনি ছুটে যান মায়ের কাছে আলজেরিয়ায়। আর বাবাকে ভুলবেন কিভাবে? প্রিমিয়ার লীগের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার গ্রহণ করতে গিয়ে দর্শক সারিতে চোখ ঘুরছিল রিয়াদের। বাবা আহমেদ মাহরেজকেই সেদিন তার চোখ খুঁজছিল কি-না।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: