সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ছাতকে ৪৭টি হাওরের সহস্রাধিক হেক্টর বোরো ফসল পানির নিচে

chhatak daily sylhet 0-86 copyজাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, ছাতকঃ
গত কয়েক দিনের বর্ষন ও উজান থেকে নেমে আসা পানিতে ছাতকের ৬৪টি হাওরের মধ্যে ৪৭টি হাওরের বোরো ফসল ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এর মধ্যে কোন কোন হাওর আংশিক ও সম্পূর্ন তলিয়ে গেছে বৃষ্টির পানিতে। অপরিকল্পিত বাঁধ ও বাঁধ নির্মানে অনিয়ম-দুর্নীতির কারনে এখানের কৃষককুল তাদের বোরো ফসল হারিয়েছেন। পাকা ধান ঘরে তোলার স্বপ্নে যখন কৃষরা বিভোর সেই মুহুর্তে তাদের পরিশ্রমের ফসল পানিতে তলিয়ে যাওয়া তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। চোখের সামনে পাকা-আধাপাকা ফসল পানিতে তলিয়ে যাওয়ার দৃশ্য তাদের গেখতে হয়েছে। বোরো ধান কাটার আগ মুহুর্তে কায়িত পরিশ্রমের ফসল হারিয়ে ফসল হারা কৃষষদের আহাজারিতে হাওর পারের বাতাস এখন ভারি হয়ে ওঠেছে। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা তলিয়ে যাওয়া ফসলের দিকে চেয়ে কান্নায় ভাসছেন। ক্ষতি পুষিয়ে উঠার কোন পথও তারা খুঁজে পাচ্ছেন না।

ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মানে পুকুর চুরি হওয়ার কারনে তাদের এ অফুরন্ত ক্ষতি হয়েছে বলে কৃষকরা মনে করছেন। ফলসহানীর ক্ষতিপুরন ও বেড়ীবাঁধ নির্মানে অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের দাবীও তুলছেন ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা। বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতায় ও বেড়ি বাঁধ নির্মানে অনিয়নের কারনে এখানের শতকরা প্রায় ৪০ভাগ বোরো ফসল ক্ষতি সাধিত হয়েছে। উপজেলার নোয়ারাই ইউনিয়নের বড় নাইন্দা, ছোট নইন্দা, কুইয়াদল, ইসলামপুর ইউনিয়নের শিলুয়াকুড়ি, গোয়া-বাকুড়া, কালারুকা ইউনিয়নের ঝাওয়াবিল, উত্তর খুরমা ইউনিয়নের গয়ার-রুকুর হাওর, বিলছড়া, চরমহল্লা ইউনিয়নের ডিমকা, বাড়–কা হাওর, জাউয়া ইউনিয়নের রাঙ্গাডিঙ্গা, জাউয়া, ছাতক সদর ইউনিয়নের তেরাবিলসহ বেশ ক’টি হাওরের পাকা ও আধা-পাকা বোরো ফসল তলিয়ে গেছে। এ ছাড়া কাটার হাওর, মুতিয়া, হাতির বিল, মূতরা হাওর, গোয়ালমই, টিলাগাও, উরাবিল, চাতল হাওর, চান্দাই হাওর, বিশনাই হাওর, ঝাই হাওর, বড়বাড়ি হাওর, দেখার হাওর, জলার হাওর, চাউলীর হাওর, জুলিয়া হাওর, বড় হাওর, রাখা হাওর, পাতবার হাওর, চৌলার হাওর, বাত্তাপলি, ডাইনাকান্দি, বাঘাছেরা, বুড়াইগিরি, ডিঙ্গা হাওর, মৌআলু হাওর, গজ্জার হাওর, দ্বারিকান্দি, গেয়ালী, জালিয়া, কুঁড়িবিল, সুড়িগাঁও, ইন্দুয়ার হাওর, রাবারপাড়, পনাগড়, দশবিলা, চাতলবিল, বলে হাওর, পাকনার হাওর, পাঁচবিল, খঞ্চনপুর, হিলিকুড়ি, বাড়ানি ও কমলকাটা হাওরের বোরো ফসল আংশিক তলিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। পারি না কমলে এসব হাওরের ফসল সম্পূর্ন নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশংকা করছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেয়া তথ্য অনুযায়ী চলতি ২০১৫-১৬ বোরো মৌসুমে উপজেলায় ১২হাজার ৭শ ২৫হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে উচ্চ ফলনশীল ১১হাজার ৬শ ১০হেক্টর, হাউব্রিড ৩শ ৩০হেক্টর ও স্থানীয় জাতের ৭শ ৮৫হেক্টর। এখন পর্যন্ত সম্পূন্র্ বিনষ্ট হয়েছে ২৫০ হেক্টর বোরো ফসল এবং আক্রান্ত হয়েছে আরো ৯৭৫হেক্টর আধা পাকা ফসল। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জগলুল হায়দার ও উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আব্দুল হামিদ জানান, বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে উপজেলার সবচেয়ে বড় হাওর নাইন্দা হাওরের বোরো তলিয়ে গেছে। অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মানের জন্য প্রতিবছর সরকারের ৬লক্ষ টাকা গচ্ছা যাচ্ছে। নাইন্দার হাওর রক্ষায় সুরমা নদীর লক্ষীবাউল খাল মুখে ছোট একটি সুইচ গেটের দাবী উঠে আসছে দীর্ঘদিন ধরে।

এ খার মুখে ১০-১৫লক্ষ টাকা ব্যয়ে একটি সুইস গেট নির্মান করা হলে নাইন্দার হাওরের ফসল স্থায়িভাবে রক্ষা পাবে। এ দিকে কোম্পানীগঞ্জের ইছাকলস ইউনিয়নের হারিকাটা, এলাকাইছনা, ইলারখাল, পাথর চাউলী, তিনপিরা, হাল চাপড়া, আঠালী, হালুক কুঁড়ি, উকিল উড়া, বলাউড়াসহ আরো কয়েকটি হাওরের অধিকাংশ বোরো জমির মালিক ছাতকের কৃষকরা।

ইউনিয়নের পারকুল ও বাঘাইরডহর বেড়ী বাঁধ ভেঙ্গে কয়েকটি হাওরের ৬ শতাধিক হেক্টর বোরো ফসল তলিয়ে গেছে। গত শুক্রবার এলাকার দেড় শতাধিক কৃষক স্বেচ্ছাশ্রমে পারকুল ও বাঘাইরডহর বেড়ী বাঁধ নির্মানে দিবা-রাত্রী চেষ্টা করেও তাদের ফসল রক্ষা করতে পারেনি। ফলে এখানের বোরো চাষিরা ফসল হারিয়ে অফুরন্ত ক্ষতির কবলে পড়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: