সর্বশেষ আপডেট : ১১ মিনিট ৪ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ২ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

দেশের বৃহৎ ট্রান্সমিশন টাওয়ারের ডিজাইনার বাংলাদেশি

11998_x6ডেইলি সিলেট ডেস্ক:
বিদেশি প্রকৌশলী এবং সরঞ্জাম ছাড়াই প্রথমবারের মতো দেশে স্থাপিত হয়েছে রিভার ক্রসিং ট্রান্সমিশন লাইন টাওয়ার। বলা হচ্ছে, এটি বাংলাদেশের জাতীয় গ্রিডে এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় এবং উঁচু রিভার ক্রসিং ট্রান্সমিশন টাওয়ার। দেশের বৃহত্তম এবং ভারত উপমহাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম রিভার ক্রসিং এই ট্রান্সমিশন টাওয়ারটি মেঘনা নদীর তেতিয়া ও কানাইনগর পয়েন্টে স্থাপন করা হয়েছে। গুণগত মানের দিক থেকেও এটি এখন বাংলাদেশের শীর্ষে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। মেঘনা নদীর ওপর দিয়ে যাওয়া বিদ্যুৎ লাইনের স্প্যান প্রস্থ ৫১৫০ ফুট। ৫৭৪ ফুট উচ্চতার দুটি সাসপেনসন টাওয়ারের সঙ্গে সংযুক্ত যার প্রতিটি সাসপেনসন টাওয়ারের ওজন ১২০০ টন। এগুলো দুটো বিশ্বের উঁচু বিদ্যুৎ পাইলনগুলোর মধ্যে অন্যতম। উল্লেখ্য, বিশ্বের সব থেকে উঁচু ট্রান্সমিশন টাওয়ার চীনের দামাওশান পর্বতে অবস্থিত যার উচ্চতা ১২১৩ ফুট।

আর এই টাওয়ারটি নির্মাণকাজের দায়িত্ব ছিল বিখ্যাত কোরিয়ান কোম্পানি হ্যানবেক-এর ওপর। কোম্পানিটি এই টুইন টাওয়ার নির্মাণে বাংলাদেশি প্রকৌশলীর ডিজাইন এবং দেশীয় একটি স্বনামধন্য কোম্পানির উৎপাদিত সরঞ্জাম কাজে লাগিয়েছেন। পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের সাবেক ডেপুটি ম্যানেজার মো. আরিফুর রহমান এই জটিল টাওয়ারটির ডিজাইন করেছেন। যিনি এখন যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত ট্রান্সমিশন লাইন কনসালটেন্ট কোম্পানিতে কর্মরত রয়েছেন। এছাড়া, এই প্রকল্পে বাংলাদেশের কনফিডেন্স স্টিল কোম্পানির সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়েছে। হ্যানবেক-এর প্রেসিডেন্ট কোরিয়ার নাগরিক মি. ইউন হিউব কাজ শেষে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন বাংলাদেশিদের। বলেন, বাংলাদেশি এই প্রকৌশলীর এবং প্রকল্পে সরঞ্জাম সরবরাহকারী কোম্পানির পূর্ব কোনো অভিজ্ঞতা না থাকায় তিনি শুরু থেকে কাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত খুবই দুশ্চিন্তায় ছিলেন। কিন্তু পরে দেখা গেছে কাজটি এতো নিখুঁত হয়েছে যে, ডিজাইনের সঙ্গে নির্মিত কাজের ১ মিলিমিটারও হেরফের হয়নি।

বাংলাদেশিদের প্রশংসা করে মি. হিউন হিউব বলেন, এদেশের মানুষ এদেশের শক্তি। তারা যেখানেই যান সেখান থেকেই দেশের জন্য কাজ করেন। বাংলাদেশের মানুষ অনেক মেধাবী, আন্তরিক এবং সুন্দর মনের। তারা তাদের মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে শুধু বাংলাদেশের উন্নয়নই নয়, বিশ্বের উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্র্ণ অবদান রাখছে। একজন নির্মাণ ঠিকাদার হিসেবে এদেশে দীর্ঘ প্রায় ৬ বছর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। আমি অল্প সময়েই বুঝেছিলাম, এ দেশের মানুষকে সঠিক নেতৃত্ব দিতে পারলে তাদের দিয়ে যেকোনো কঠিন কাজকে সুন্দরভাবে সম্পন্ন করা যাবে। এই আত্মবিশ্বাস থেকে আমি মেঘনা নদীর তেতিয়া ও কানাইনগর পয়েন্টে বাংলাদেশের জাতীয় গ্রিডে এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় এবং উঁচু রিভার ক্রসিং ট্রান্সমিশন লাইন টাওয়ার স্থাপনের কাজে কোনো বিদেশি প্রকৌশলী বা বিদেশি শিল্প প্রতিষ্ঠানে উৎপাদিত পণ্য ব্যবহার করিনি। ব্যবহার করেছি, বাংলাদেশের বিখ্যাত টাওয়ার মেটারিয়ালস প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান কনফিডেন্স স্টিল লি.-এর সরঞ্জাম। আর ডিজাইন করেছেন আরিফুর রহমান। তিনি বলেন, এই প্রকল্পটি শুরু করে সঠিকভাবে শেষ করা পর্যন্ত একধরনের ভয় কাজ করেছে। কেননা, এত বড় ও উঁচু মাত্রার কারিগরি দিক সংবলিত টাওয়ারের নকশা প্রস্তুত বা নির্মাণ করার কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতাই ছিল না বাংলাদেশি এ প্রকৌশলীর অথবা কনফিডেন্স স্টিলের। কিন্তু আমার সকল শঙ্কা ভুল প্রমাণিত করে প্রকৌশলী মো. আরিফুর রহমান এবং কনফিডেন্স স্টিলের কারখানা ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. সাইদুল ইসলাম একাগ্রতা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে তাদের দায়িত্ব সম্পন্ন করেছেন। এজন্য তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। একইসঙ্গে পুরো প্রকল্পটি সুষ্ঠুভাবে সুসম্পন্ন করার জন্য প্রকল্প পরিচালক, পিজিসিবি’র সকল স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট প্রজেক্ট অফিসের সকলকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। বাংলাদেশের মেধাবী সন্তানেরা ভবিষ্যতে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে আরো দৃঢ় প্রত্যয়ে এগিয়ে যাবে এই আমার বিশ্বাস।

মাত্র ১৬ বছর বয়সে অর্থাভাবে লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায় মি. হিউব হিউন-এর। তখন থেকেই কাজ শুরু করেন বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে। কর্মজীবনে সততা, নিষ্ঠা, অধ্যবসায় আর কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে আজকে তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার সফল ব্যবসায়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। দীর্ঘ ৪৫ বছরের কর্মজীবনে তিনি কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১০ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট পদক লাভ করেন। দুই ছেলে ও এক মেয়ের জনক মি. ইউন একজন অমায়িক, বন্ধুবৎসল ও মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন মানুষ। বাংলাদেশে গরিবদের চোখের সু-চিকিৎসার জন্য তিনি ব্যক্তিগতভাবে ১০ হাজার ডলার অনুদান, বগুড়ার একটি দাতব্য শিক্ষা প্রকল্পে আর্থিক সহযোগিতা করেছেন। বাংলাদেশের দরিদ্র এক দম্পতির নবজাতক শিশুর হার্টে ব্লকসহ ফুটো থাকায় তিনি নবজাতকের পিতা-মাতাসহ নবজাতককে দ. কোরিয়ায় একটি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠিয়েছিলেন। তাদের পেছনে তিনি আনুমানিক ৫০ হাজার ডলার খরচ করেছেন। তার প্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশি কর্মী সারওয়ার কামাল এবং সম্রাট আহমেদকে দক্ষিণ কোরিয়ায় উচ্চ শিক্ষার জন্য স্পন্সর সহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেছেন।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: