সর্বশেষ আপডেট : ৬ মিনিট ৪৮ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

কেন আত্মহত্যা করলেন সুবর্ণা, নানা জল্পনা

2016_04_28_21_58_16_9omblC7Xh3xY1g5cFnP3dACiRuV7XN_originalস্টাফ রিপোর্টার::
নগরীর খাজাঞ্চিবাড়ি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের শিক্ষিকা ও নৃত্যশিল্পী সুবর্ণা সাহার (৩০) মৃত্যু নিয়ে নগরীতে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে ধারনা করা হচ্ছে, সুবর্ণা নিজের জীবন নিয়ে হতাশায় ভোগে অবশেষে নিজেই সবার অজান্তে ঘরের সিলিং ফ্যানের সাথে গলায় ওড়না পিচিয়ে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন।

বান্ধবী ও পরিবার সূত্র জানিয়েছে, গত কয়েক দিন ধরে সুবর্ণা নিজের জীবন নিয়ে অতিষ্ঠ ছিলেন। বন্ধুদের জানিয়েছিলেন এ জীবন তার ভালো লাগে না। এ নিয়ে কিছুটা হতাশায় ভুগছিলেন তিনি। তবে এটি যে মৃত্যুর পর্যায়ে চলে যাবে সেটি তারা কল্পনা করতে পারেননি।

একটি কলেজ সূত্র জানায়, সুবর্ণার প্রেম ছিল তার কলেজ জীবনের এক সহপাঠীর সঙ্গে। ওই সহপাঠীও সিলেটের একটি বিদ্যাপীঠের শিক্ষক। সম্প্রতি ওই যুবক সরকারি চাকরি পেয়েছেন। এরপর থেকে তিনি সুবর্ণাকে এড়িয়ে চলছিলেন। এসব বিষয় নিয়ে সুবর্ণা কিছুটা বিপর্যস্ত ছিলেন। তবে পরিবারের কাছে সুবর্ণা এসব বিষয় জানাননি।

সূত্র জানায়, সুবর্ণার কেন এই পরিণতি তা নিয়ে জল্পনার অন্ত নেই সিলেটে। সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। আড়ালে কোনো ঘটনা আছে কিনা সেটিও অজানা। পরিবারের সবাই শোকাহত। সুবর্ণা সাহার বয়স ত্রিশের কাছাকাছি। ব্যক্তিগত জীবনে অনেকখানি সফল তিনি। সংস্কৃতি অঙ্গণের পরিচিত মুখ। সিলেটের নৃত্যশৈলী সংগঠনের একজন সংগঠক। এই সংগঠনকে অনেকটা এগিয়ে নিয়েছেন নিজের দক্ষতার গুণে। পাশাপাশি সুবর্ণা ছিলেন সিলেটের খাজাঞ্চিবাড়ি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের শিক্ষিকা। এর আগে সুবর্ণা সাহা সিলেটের পুলিশ লাইন উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। মা মমতা সাহাও পেশায় শিক্ষক। তিনি সিলেটের দাড়িপাড়াস্থ রসময় উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন। এখন অবসরে আছেন। বাবা সুধাকর সাহা কয়েক বছর আগে মারা গেছেন। এরপর থেকে মাকে নিয়েই ছিল সুবর্ণার সংসার। তাদের বাড়ি নগরীর কাজলশাহর ৫২/৩ নম্বর বাসা। দুই বোনের মধ্যে সুবর্ণা সাহা ছোট। বড় বোন সুবনা সাহার বিয়ে হয়ে গেছে। গত বুধবার সন্ধ্যায় মা মমতা হঠাৎ দেখেন ঘরের ভেতরে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে সুবর্ণার লাশ ঝুলছে।

বড় বোন সুমনা সাহা জানান, গত বুধবার বিকেলে সে মাকে নিয়ে নগরীর ক্লিনিকে ডাক্তার দেখাতে গিয়েছিল। সেখানে তিনি মা’কে ডাক্তার দেখানোর পর নিজেও ডাক্তার দেখান। এ সময় মাকে চেম্বারের বাহিরে বসিয়ে রেখে তিনি একা ডাক্তারের কক্ষে প্রবেশ করেন। ডাক্তারের কাছ থেকে ফেরার পথে মাকে আমার বাসায় রেখে সুবর্ণা বাসায় ফিরেন। পরে মা বাসায় ফিরে তার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান। এছাড়াও সুবর্ণার কক্ষে স্বাক্ষর করা একটি ব্যাংক চেক পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।

লামাবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই বেণু চন্দ্র দেব জানান, মরদেহের আলামতে প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে প্রতীয়মাণ হয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর পুরো বিষয়টি নির্ণয় করা যাবে এটা হত্যা না আত্মহত্যা।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: