সর্বশেষ আপডেট : ৫২ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

কবে হুইসেল দেবে লাতুর ট্রেন

kulaura news daily sylhetডেইলি সিলেট ডেস্ক::
একযুগেরও বেশি সময় বন্ধ লাতুর ট্রেন। এতে কয়েক হাজার যাত্রী দুর্ভোগের শিকার। আর দীর্ঘদিন থেকে অরক্ষিত থাকায় বেহাত হচ্ছে রেলওয়ের কোটি কোটি টাকার সম্পদ। এ নিয়ে আন্দোলন কম হয়নি। স্থানীয় সংসদ সদস্যরাও বন্ধ রেলপথ চালুর জন্য একাধিকবার দাবি তুলেছেন সংসদে। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী রেলপথটি চালুর ব্যাপারে আশ্বস্ত করেছেন। বার বার চালুর ব্যাপারে উদ্যোগী হয় সরকার। আশান্বিত হন স্থানীয় উপকারভোগী লোকজন। কিন্তু কিছু দূর এগিয়ে যাওয়ার পর এই উদ্যোগ বন্ধ হয়ে যায়। প্রশ্ন জাগে, চালু হবে কী বন্ধ এ রেলপথ। এ অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী ‘লাতুর ট্রেন’ ফের চালু হবে কি!

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকা কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেলপথ চালুর লক্ষ্যে ২০১৫ সালে একনেকের বৈঠকে ৬৭৮ কোটি ৫১ লাখ টাকা অনুমোদন পায়। এমন খবরে মৌলভীবাজারের বড়লেখা, জুড়ী, কুলাউড়া ও সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার মানুষ অনিশ্চিত হয়ে ওঠে। আনন্দ মিছিল করেন বড়লেখা, জুড়ী ও কুলাউড়ার মানুষ। কিন্তু কিছু দিন যেতে না যেতেই তাদের আনন্দ ফিকে হতে থাকে। একনেকে বিল পাস হওয়ার প্রায় ১১ মাস অতিবাহিত হলেও বন্ধ রেলপথটি চালুর ব্যাপারে এখনও কোনো পদক্ষেপ নেই। অন্যদিকে অরক্ষিত এই রেলপথটির ভূসম্পত্তি ও নানা জিনিসপত্রসহ কোটি কোটি টাকার সম্পদ হরিলুট হয়ে যাচ্ছে। এমনটি অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। সূত্র জানায়, কুলাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশন থেকে শাহবাজপুর পর্যন্ত ৪২ দশমিক ৩৯ কিলোমিটার দীর্ঘ লাইনে চলাচলকারী ট্রেনের নাম ছিল ‘লাতুর ট্রেন’। এক সময় এ রেলপথ দিয়ে ভারতের করিমগঞ্জ পর্যন্ত মালামাল বহন করা হতো। এ রেললাইনে শাহবাজপুর, মুড়াউল, বড়লেখা, কাঁঠালতলী, দক্ষিণভাগ, জুড়ী ও কুলাউড়া স্টেশন ছিল। এ স্টেশনগুলোকে কেন্দ্র করে সরব ছিল ব্যবসা-বাণিজ্য। ১৮৯৬ সালের ৪ঠা ডিসেম্বর ট্রেন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয় এই পথ। সে সময়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আন্ত:দেশীয় ট্রাফিক চলাচলে এ সেকশনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

পরবর্তীতে ১৯৫৮-১৯৬০ সালের পূর্বে ব্যবহৃত (সেকেন্ড হ্যান্ড) ৬০ পাউন্ড রেল, কাঠের ও স্টিলের স্লিপার দিয়ে ওই সেকশনের রেলপথ পুনর্বাসন করা হয়। কিন্তু সময়ের আবর্তে ব্যবহার অযোগ্য স্লিপারের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং অপর্যাপ্ত ব্যালাস্টের কারণে সেকশনটি ইঞ্জিন ও রেলগাড়ির ভার বহনে অক্ষম হয়ে পড়ে। সে সময় ট্রেনের গতিবেগ ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটার নামিয়ে আনা হয়। তারপরও ঘন ঘন ট্রেন দুর্ঘটনা, কাঠের স্লিপার, সেতুসহ অন্যান্য যন্ত্রাংশ সংস্কারের অভাব, লোকসান এবং ১৮৯৬ সালে নির্মিত স্টেশন ভবনগুলোও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়া সহ নানা কারণ দেখিয়ে ২০০২ সালের ৭ই জুলাই সরকার লাতুর ট্রেনটি বন্ধ করে দেয়। ফলে স্থানীয় ২টি জেলার ৪টি উপজেলার প্রায় ১০ লাখ উপকার ভোগী ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ পড়েন চরম বিপাকে। অপরদিকে, দীর্ঘদিন থেকে অরক্ষিত থাকায় বেহাত হয়ে যায় রেলওয়ের ভূমি ও রেলপাত, ক্লিপ, নাট-বল্টু, পাথরসহ কোটি কোটি টাকার সম্পদ। এরপর রেলপথটির সংস্কারসহ ট্রেন চলাচল চালুর দাবিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন বিভিন্ন আন্দোলন কর্মসূচি পালন করেন। ২০০৯ সালে স্থানীয়দের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ঠনক নড়ে সংশ্লিষ্টদের। তখন রোডটি চালুর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে রেলওয়ে বিভাগ আন্তরিক হয় এবং তা চালুর সম্ভাব্যতা নিয়ে যাচাই বাছাইয়ের জন্য উদ্যোগী হয়। ভারতীয় পরামর্শক দল ইরকনের সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে পজেটিভ পরামর্শ পাওয়ায় রোডটি চালুর সম্ভাবনা দেখা দেয়। স্থানীয় দুইজন সংসদ সদস্য রেলপথটি চালুর বিষয় নিয়ে সংসদে আলোচনা করেন।

যোগাযোগমন্ত্রীও তাদেরকে আশ্বস্ত করেন। কিন্তু তারপরও থেমে থাকে এর কার্যক্রম। ২০১৩ সালের ৯ই নভেম্বর বড়লেখায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রেললাইন চালুর ঘোষণা দেন। গেল বছরের ২৬শে মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেকের বৈঠকে রেললাইন চালুর জন্য ৬৭৮ কোটি ৫১ লাখ টাকার অনুমোদন দেয়া হয়। রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, এ প্রকল্পের আওতায় মূল কার্যক্রম ছিল কুলাউড়া-শাহবাজপুর সেকশনের ৪২ দশমিক ৩৯ কিলোমিটার রেললাইন পুনর্বাসন। এর মধ্যে ৩৯ দশমিক ৪ কিলোমিটার রুটলাইন এবং ৩ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার লুপ লাইন রয়েছে। ৬টি স্টেশন ভবন পুনঃনির্মাণ। ২০টি সেতু মেরামত অথবা পুনঃনির্মাণ এবং ১৩টি সেতু নির্মাণ। রেলক্রসিং নির্মাণ। প্রয়োজনীয় ভবন নির্মাণ। ৪টি বি ক্লাস স্টেশন নন-ইন্টারলকড কালার লাইট সিগন্যাল সিস্টেম এবং আধুনিক টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য আনুষঙ্গিক যন্ত্র ও যন্ত্রাংশগুলোও আধুনিকায়ন করার। যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের রেলপথ বিভাগের একটি সূত্র জানায়, এশিয়া ও ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে এসকাপ কর্তৃক ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ে নেটওয়ার্ক স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। বাংলদেশ সরকার ও ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ে নেটওয়ার্ক ও আঞ্চলিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগও নিয়েছিল সরকার। রেলওয়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, এরকম সাতটি প্রকল্পের মধ্যে ৪টির ঋণ অনুমোদন দিয়েছে এক্সিম ব্যাংক অব ইন্ডিয়া। যে ৩টির ঋণের অনুমোদন হয়নি এর মধ্যে রয়েছে কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেলপথ উন্নয়নের এই প্রকল্পটি।

তবে প্রক্রিয়া চলছে খুব শিগগিরই এই ঋণটি অনুমোদন পেলে কাজের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেয়া হবে। আর শর্তসাপেক্ষে এই কাজ করবে ইন্ডিয়ান একটি কোম্পানি। এ বিষয়ে কুলাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার হরিপদ সরকার বলেন- এই প্রকল্পের কাজ কবে চালু হবে এ বিষয়ে আমাদের জানা নেই। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের মতো আমরাও আশাবাদী এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ফের চালু হবে লাতুর ট্রেন। কবে দেবে হুইসেল? আলহাজ মো. শাহাব উদ্দিন বলেন- দু’দেশের প্রধানমন্ত্রী এই প্রকল্প উদ্বোধন করেছেন, সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ পর্যায়ে। শিগগিরই কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেলপথের উন্নয়ন কাজ শুরু হবে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: