সর্বশেষ আপডেট : ৩ ঘন্টা আগে
শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সুনামগঞ্জে কাল বৈশাখী ঝড়ে ৬ শতাধিক বাড়িঘর বিধ্বস্ত, ভাই-বোন নিহত

Sunamganj news daily sylhet 0-84 copyসুনামগঞ্জ প্রতিনিধি::
সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, জামালগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কাল বৈশাখী ঝড়ে ৬ শতাধিক বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। বিশ্বম্ভরপুরে গাছচাপায় দুই শিশু নিহত হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ৩০ জন গ্রামবাসী। ঘরের চালা উড়িয়ে নেয়ায় খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন প্রায় তিন সহস্রাধিক মানুষ। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিশ্বম্ভরপুর ও তাহিরপুর উপজেলা। এছাড়া সুনামগঞ্জ সদর ও জামালগঞ্জে ৫০টি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বিশ্বম্ভরপুর প্রতিনিধি জানান, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় কালবৈশাখির আঘাতে ব্র্যাক স্কুলের ছাত্রী তানজিনা আক্তার (১২) ঘরের ওপর গাছ উপড়ে পড়লে ঘটনাস্থলেই তার মুত্যু হয়। তার ছোটভাই সিদ্দিক মিয়া (৮) চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল বিকেলে সিলেট ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যায়। এঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২০জন। আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার দিনগত রাত ১২টায় এবং শুক্রবার ভোররাতে দুদফা কালবৈশাখীতে উপজেলার পলাশ, আলীপুর, সলুকাবাদ, চিনাকান্দ, ধনপুর, কারেন্টের বাজার, বিশ^ম্ভরপুর সদরসহ ১০টি গ্রামের উপর দিয়ে কালবৈশাখীর এ ঝড় বয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। নিহতরা জগন্নাথপুর গ্রমের ফজল মিয়ার ছেলে ও মেয়ে। তানজিনা জগন্নাথপুর ব্র্যাক স্কুলের পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিল। তার ভাই সিদ্দিক মিয়াও একই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্র।

প্রত্যক্ষ্যদর্শীরা জানান, রাতে ঝড়ে একটি বড় গাছ তানজিনাদের বসতঘরে পড়ে ঘরটি গাছের চাপে মাটিতে পড়লেও ঘরটি ভেঙ্গে গাছটি তানজিনার উপর পড়লে ঘটনাস্থলেই সে মারা যায় এবং আহত অবস্থায় তার ছোট ভাই সিদ্দিককে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে গতকাল বিকেল ৫টায় সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।

ধনপুর ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম জানান ধনপুর ইউপির মাছিমপুর. সোনাতলা, মেরুয়াখলা গ্রাম সহ ইউপির প্রায় ৩৪টি গ্রামেই ঝড়ের আঘাতে বাড়িঘর বিধ্বস্থ হয়েছে। একটি মহিষেরও মৃত্যু ঘটেছে। সলুকাবাদ ইউপি আ’লীগের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান সফর আলী, জাপা নেতা তোফায়েল হোসেন লিটন জানান, সলুকাবাদ ইউপির প্রায় সব গ্রামেই ঝড় আঘাত হেনেছে।

এ ব্যপারে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ তালুত জানান, যে পরিমান ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার জন্য ১০ লাখ টাকা ও ৩শত বান্ডিল ঢেউটিনসহ জরুরি ত্রাণ সামগ্রী চাহিদা থাকায় জেলা প্রশাসনসহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি লেখা হচ্ছে।

তাহিরপুর প্রতিনিধি জানান, তাহিরপুর সীমান্ত এলাকায় প্রলয়ঙ্কারী ঘুর্নিঝড়ে ৩ শতাধিক বাড়িঘর লন্ডভন্ড হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১২টায় প্রলয়ঙ্কারী ঘুর্ণিঝড়ে ৫টি গ্রামের আড়াই শতাধিক ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্টান ঝড়ের আঘাতে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। এতে আহত হয়েছেন আরও ১০জন।

গতকাল শুক্রবার সরেজমিনে লাউড়েরগড়,সাহিদাবাদ,পুরান লাউড়, মোকশেদ পুর গ্রাম ঘুরে শতশত ঘরবাড়ি ,স্কুল, মাদ্রাসা. ও শাহ আরেফিন (রহ:) এতিমখানা শাহ আরেফিন মোকাম , স্থানীয় বালি পাথর ব্যবসায়ী সমিতির অফিস গুড়িয়ে যাওয়া সহ খোলা আকাশের নীচে অনেক পরিবারকে দেখা যায়। সরকারী বা বেসরকারী কোন সাহায্য জুটেনি তাদের কপালে। এমন কি চুলায় আগুন ধরাবার সামর্থ নেই অনেক পরিবারের । স্থানীয় চেয়ারম্যান মেম্বাররা তালিকা করছে ক্ষতি গ্রস্থদের কিন্তু কোন প্রকার অনুদান আসেনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার গুলোর জন্য।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইকবাল হুসেন বলেন ,আমি সরেজমিনে আসছি ক্ষতি প্রস্তদের প্রয়োজনীয় সহযেগিতা করা হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল বলেন,আমার ব্যক্তিগত ও সরকারী পক্ষ থেকে যতটুকু সাহায্য সহযোগিতার প্রয়োজন সবটুকুই করা হবে।

সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মঞ্জুর মুহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, চার উপজেলায় হঠাৎ কালবৈশাখি ঝড়ে ব্যপাক ক্ষতি হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষথেকে নিহতের পরিবারকে তাতক্ষনিক সহায়তা দেয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে তালিকা করে সবাইকে সহায়তা দেয়ার জন্য প্রশাসন কাজ করছে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: