সর্বশেষ আপডেট : ২ মিনিট ৪০ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

খালেদা-তারেকের অবর্তমানে কে ধরবেন বিএনপির হাল?

1456928882নিউজ ডেস্ক:
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে যদি সাজা প্রাপ্ত হয়ে কারাবরন করতে হয়, সেই সময়ে দল পরিচালনার করতে পরিকল্পনা ও নেতৃত্ব খুঁজছে বিএনপি।

বিএনপি সূত্র জানায় , খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মামলার প্রক্রিয়া নিম্ন ও বিশেষ আদালতে দ্রুত এগিয়ে যাওয়ায় খালেদা জিয়া বিএনপির শীর্ষ স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বেশ কয়েক দফা আলাপ আলোচনা করেছেন। এবং তাদের অনুপস্থিতে দল পরিচালনার ব্যাপারে নেতৃবৃন্দেও মতামত শুনেছেন।

বিএনপির একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, খালেদা জিয়া ইতোমধ্যেই ঠিক করে রেখেছেন যে তিনি এবং তার বড় ছেড়ে তারেক রহমান কারাবরন করলে কিভাবে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং আন্দোলন কর্মসূচি পরিচালিত হবে।

সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ছোট-বড় মিলিয়ে ১৭টি মামলা হওয়ায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়েছে দলের ভেতর। এর মধ্যে জিয়ার নামে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলা রয়েছে পাঁচটি। এছাড়া আছে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন থানায় করা সহিংসতা, নাশকতা, রাষ্ট্রদ্রোহ ও মানহানির মামলা। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আদালতে হাজিরা দিয়ে যাচ্ছেন।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে থাকা এসব মামলায় ‘সাজা’ আতঙ্কও বিরাজ করছে তাঁদের ভেতর। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে চলমান জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চেরিট্যাবল ট্রাস্ট সংক্রান্ত দুটি দুর্নীতির মামলার কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে। অপরদিকে লন্ডনে অবস্থানরত দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধেও রয়েছে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র্র রায় বলেন, সরকার ক্ষমতায় টিকে সব ধরনের চেষ্টাই করবে। বিএনপি চেয়ারপারসন সহ দলের শীর্ষ নেতাদের নির্বাচনের বাইরে রেখে ২০১৯ সালের আগেই যেন তেন একটা নির্বাচন করতে যা যা করা দরকার তা সবই করবে। এই নির্বাচন হবে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনের চেয়েও নিৎকৃষ্ট জঘন্য।

দলীয় নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গ্রেপ্তারকে আমলে নিচ্ছেন না। সরকারের গ্রেফতারের পরিকল্পনা নিয়ে খালেদা জিয়া মোটেও চিন্তিত নন; বরং তাকে গ্রেফতার করা হলে সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং আন্দোলন কিভাবে এগোবে তা খালেদা জিয়া নির্ধারণ করে রেখেছেন। বিএনপির রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ একে রেখেছেন দলটির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। দলকে বাঁচাতে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানকে ঘিরেই খালেদা জিয়ার এই সমীকরণ। সরকার বিভিন্ন সময়ে বলে আসছে পরবর্তী নির্বাচনে খালেদা জিয়া অংশ নিতে পারবেন না। এ বক্তব্য দেওয়ার পর নতুন করে এই পরিকল্পনার কথা করেছেন বেগম জিয়া। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আপাতত জোবাইদাকে তুরুপের তাস হিসেবে ব্যবহার করবেন তিনি। গত বছর সৌদি আরবে গিয়ে তারেক রহমান ও জোবাইদা রহমানের সঙ্গে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছেন খালেদা জিয়া ।

বিএনপির এক নেতা জানান, জোবায়দা রহমানকে নিয়ে ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) অনেক আগে থেকেই চিন্তা-ভাবনা শুরু করেছেন। পরবর্তীতে সরকার বিএনপিকে যাতে ফাঁকা মাঠে গোল দিতে না পারে তাই খালেদা জিয়া এই নয়া পরিকল্পনা করেছেন।

বিএনপি সূত্র জানায়, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি একতরফা নির্বাচনের মতো মধ্যবর্তী নির্বাচনেও বিজয় সুনিশ্চিত করতে বিএনপিকে বিভক্ত ও শীর্ষ নেতাদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করার ফন্দি আটছেন ক্ষমতাসীনরা। এজন্য বাড়তি সতর্কতা থাকলেও আতঙ্কিত নয় বিএনপির নীতি নির্ধারকরা। দীর্ঘ আন্দোলনে ব্যর্থতা, বর্তমান বিএনপিকে দিয়ে কিছু হবে না এমন প্রচারণা, শীর্ষ নেতাদের সাজা হওয়ার আশঙ্কা সম্প্রতি দলের ভাঙনের বিষয়টি গণমাধ্যমে উঠে আসে। এসব বিষয় নিয়ে শীর্ষ নেতারা বৈঠক করেছেন হাইকমান্ডের সঙ্গে।

বিএনপি সূত্র মতে, মামলায় খালেদা জিয়া দন্ডিত কিংবা কারান্তরীণ হলে বিএনপির ঐক্য ধরে রাখতে তুরুপের তাস হিসেবে মেধাবী চিকিৎসক জোবাইদার রাজনীতিতে দ্রুত অভিষেক ঘটবে। সে ধরনের প্র¯‘তিই নিতে বলা হয়েছে তাকে। দলের দুঃসময় ও রাজনৈতিক সংকটময় এ পরিস্থিতিতে অনেক চিন্তা ভাবনা করে জোবাইদা রহমানের ক্লিন ইমেজকে কাজে লাগাতে চায় বিএনপি।

বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে জানা গেছে, ভাঙন নিয়ে তারা এখনো খুব একটা ভাবছেন না। কারণ, এ পর্যন্ত দলের প্রভাবশালী অনেক নেতাই দল ছেড়ে গিয়ে সুবিধা করতে পারেনি। ১/১১ প্রেক্ষাপটে মান্নান ভুঁইয়ার নেতৃত্বে দলের একটি বিশাল অংশ খালেদা জিয়াকে মাইনাস করার ষড়যন্ত্র করেও শেষ পর্যন্ত দল থেকে নিজেরাই মাইনাস হয়েছেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে বানানো, হয়রানীমূলক মিথ্যা মামলায় দিয়ে হয়রানী করা হচ্ছে। সেভাবে আবার ঘণঘণ তারিখ দিয়ে হয়রানী করা হচ্ছে। এসব মিথ্যা মামলায় সাজা দেয়ার চেষ্টা করা হলে পরবর্তীতে যে আন্দোলন করা হবে তার জন্য সরকারকে প্রস্তুত থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ম্যাডামকে (খালেদা জিয়া) কারাগারে নেয়ার দু:সাহস সরকার দেখাবে না। তারপরেও যদি তাকে কারাগারে নেয়া হয় তাৎক্ষনিক পদক্ষেপ নেয়া হবে।-পূর্বপশ্চিম

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: