সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

যে পুলিশ রক্তাক্ত করল তার সঙ্গেই বিয়ে

54নিউজ ডেস্ক : বিয়ের প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় দিনাজপুরের এসএসসি পরীক্ষার্থী এক কিশোরীকে যে পুলিশ সদস্য মারধর করেছিলেন, তার সঙ্গেই বিয়ে হয়েছে ওই কিশোরীর।

জেলা শহরে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার কার্যালয়ে বুধবার রাতে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ওয়্যারলেস অপারেটর মোস্তফা কামালের সঙ্গে ১৬ বছরের ওই কিশোরীর বিয়ে হয়।

এর আগে গত মঙ্গলবার ওই পুলিশ কনস্টেবলের প্রস্তাবে বিয়েতে রাজি না হওয়ায় ওই পরীক্ষার্থীকে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। দিনাজপুর শহরের ছয় রাস্তার মোড় থেকে ওই ছাত্রীকে ফকিরপাড়া এলাকায় তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

নির্যাতিত ছাত্রীর বড় বোন তখন জানান, এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে তার বোন। কনস্টেবল মোস্তফা দীর্ঘ এক বছর ধরে তার ছোট বোনকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। এ ব্যাপারে মোস্তফাকে নিষেধ করা হলে সে উল্টো তার পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে দেয় এবং তার পরিবারের সদস্যদের চামড়া ছিলে নেয়ার হুমকি দেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এরই এক পর্যায়ে ছয় রাস্তার মোড় থেকে ওই ছাত্রীকে জোর করে ফকিরপাড়া এলাকায় তুলে নিয়ে যায় মোস্তফা। সেখানে বিয়েতে রাজি না হওয়ায় ওই ছাত্রীর ওপর দুই দফায় নির্যাতন চালানো হয়। ওই ছাত্রী জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তাকে রামনগর নিজ বাসার সামনে ফেলে রেখে যায় মোস্তফা। পরে ওই ছাত্রীর পরিবারের সদস্যরা তাকে চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এই ঘটনার মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবার ওই পুলিশের সঙ্গেই ১৬ বছর বয়সী পরীক্ষার্থীর বিয়ে দেয়া হলো। যদিও বাংলাদেশে ১৮ বছরের কম বয়সী মেয়েকে বিয়ে দেওয়া/করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

মেয়েটির বাবা বৃহস্পতিবার বলেন, ওই পুলিশ সদস্যের পক্ষ থেকে বার বার বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছিল।

তিনি বলেন, মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আপসের মাধ্যমে পাঁচ লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ের ব্যবস্থা হয়েছে।
এদিকে যে পুলিশ নির্যাতন করলো আবার তারই সঙ্গে মেয়েটির বিয়ের ব্যবস্থা করে পুলিশ আরেকটি ‘অপরাধ’ করেছে বলে মনে করছেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ দিনাজপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মারুফা বেগম ফেন্সি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোতোয়ালি থানার ওসি এ কে এম খালেকুজ্জামান দাবি করেন, বিয়েতে পুলিশের কোনো ভূমিকা ছিল না। দুই পরিবারের অভিভাবকরা নিজেরা সিদ্ধান্ত নিয়ে বিয়ে দিয়েছে।

ওই পুলিশ সদস্যকে আগেই প্রত্যাহার করা হয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, ভিকটিমের পরিবার মামলা করলে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে প্রস্তুত ছিল।

বাল্যবিয়ের এ ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন করলে দিনাজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুর রহমান বলেন, আগে খবর পেলে বাল্যবিয়ে বন্ধের ব্যবস্থা নেওয়া যেত। এখন যেহেতু বিয়ে হয়ে গেছে, করার আর কী আছে?

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: