সর্বশেষ আপডেট : ২ মিনিট ৪৩ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

দেশের ৬৮ কারাগারে চিকিৎসক মাত্র সাতজন

health20150615211453ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::
১৩টি কেন্দ্রীয় কারাগারসহ সারাদেশে মোট কারাগারের সংখ্যা ৬৮টি। এসব কারাগারে বন্দী আছে ৭০ হাজারেরও বেশী মানুষ। তাদের অধিকাংশই কারা অভ্যন্তরে পাচ্ছেন না ভাল চিকিৎসা সেবা।

কাগজে কলমে প্রতিটি কারাগারে একটি করে হাসপাতাল থাকলেও দেশের ৬৩টি কারাগারেই চিকিৎসক নেই। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারসহ পাঁচটি কারা হাসপাতালে চিকিৎসক আছেন মাত্র ৭ জন। অথচ অনুমোদিত চিকিৎসকের মোট সংখ্যা ১৪২ জন। জাগো নিউজের অনুসন্ধানে কারা চিকিৎসা সেবার এ করুণ চিত্র বেরিয়ে এসেছে।

জানা গেছে, বর্তমানে যে পাঁচটি কারা হাসপাতালে ৭ চিকিৎসক রয়েছেন তার মধ্যে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে দুইজন, কাশিমপুরে দুইজন, কুমিল্লায় একজন, পাবনায় একজন ও সিলেটে একজন। অনুসন্ধানে জানা গেছে ৭ চিকিৎসকের মধ্যে পাঁচজনই মেডিকেল অফিসার। কাশিমপুর কারাগারে মাত্র দুইজন বিশেষজ্ঞ (জুনিয়র কনসালটেন্ট পদবির) চিকিৎসক রয়েছেন। ফলে কারা হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা চলছে নামকাওয়াস্তে।

রাজধানীসহ সারাদেশের কারা হাসপাতালগুলোতে বিভিন্ন বয়সী (৭০ বছরের বৃদ্ধ থেকে ৫ বছরের শিশু) বন্দী রয়েছে। অধিকাংশ কারাগারে ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত বন্দী থাকায় তাদেরকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে গাদাগাদি করে থাকতে হয়।

সম্প্রতি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া কয়েকজন বন্দী জানান, বিভিন্ন কক্ষের ভিতরের বাথরুমে প্রসাব-পায়খানা উপচে পড়ে থাকে। প্রস্রাব-পায়খানা করা তো দূরের কথা, বাথরুমের কাছে গেলেও বমি আসে।

ধারণ ক্ষমতার চেয়ে বন্দীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় অধিকাংশ কক্ষেই লোকজনকে গাদাগাদি করে থাকতে হয়। এ কারণে জেলখানায় চর্ম রোগ বেশী হয়। এছাড়া বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম ও বিনাশ্রম দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে হৃদরোগ, কিডনি, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্তরাও রয়েছেন।

অধিকাংশ কারা হাসপাতালে চলছে ফার্মাসিস্ট নির্ভর চিকিৎসা। সেবা বলতে প্যারাসিটামল, হিস্টাসিনসহ ছোটখাট ওষুধই ভরসা। চিকিৎসকের ভয়াবহ সংকট থাকায় কোন বন্দী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে কারাগারভেদে মেডিকেল কলেজ ও জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

তবে ভুক্তভোগীরা বলছেন, বেশীরভাগ সময়ে প্রিজন ভ্যান বা অন্য কোন যানবাহন না পাওয়ায় চিকিৎসা শুরু হতে বিলম্ব হয়।

সাবেক এমপি ও ছাত্রদল সভাপতি নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টু ২০১৫ সালের ৩ মে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে মারা যান। যথাসময়ে চিকিৎসা না পেয়ে তার মৃত্যু হয় বলে তখন পরিবার দাবি করেছিল।

এআইজি প্রিজনস (প্রশাসন) মুহাম্মদ আল মামুন বলেন, সংকট থাকলেও গুরুতর অসুস্থ বন্দীদের তারা বিশেষ ব্যবস্থায় বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ ও জেলা হাসপাতালে পাঠিয়ে চিকিৎসা করান।

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে অনুমোদিত চিকিৎসকের মোট শূন্যপদ রয়েছে ১৩৫টি। পদ পূরণের ব্যাপারে তারা কারা অধিদফতরের মাধ্যমে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছেন।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: