সর্বশেষ আপডেট : ৩ মিনিট ৩৩ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ওরা টোকাই ছিল, এখন ডাকাত

ctg_held_bg20160427093938নিউজ ডেস্ক : চট্টগ্রাম নগরীর সদরঘাট এলাকার পাঁচ টোকাই। রেলস্টেশন, মাজার, বাজার, মাছের ঘাটে ছিল তাদের অবাধ বিচরণ। তাদের বয়স এখন ১৮ ছুঁয়েছে। এখন তারা কর্ণফুলীতে আসা নৌকা থেকে মাছ বোঝাই করে ঘাটে নেয়ার কাজ করে। মাছ বোঝাইয়ের কাজ করতে গিয়ে পাঁচ টোকাই জড়িয়ে পড়েছে দুর্ধর্ষ ডাকাত চক্রে। টোকাই থেকে তারা হয়ে গেল ডাকাত।

মঙ্গলবার (২৬ এপ্রিল) রাত তিনটার দিকে নগরীর আকবর শাহ থানার উত্তর কাট্টলী বেড়িবাঁধ এলাকায় ডাকাতি করতে গিয়ে পুলিশ ও জনতার হাতে ধরা পড়েছে এই পাঁচ টোকাই ডাকাত। এসময় গণপিটুনিতে তাদরে দলের তিন নেতা নিহত হয়েছে।

পাঁচ ডাকাত হল, রুবেল (১৮), আলাউদ্দিন (১৭), মনির হোসেন (১৮), মো.রানা (১৮) এবং মো.রুবেল (১৮)।

আকবর শাহ থানার ওসি সদীপ কুমার দাশ বলেন, আটক পাঁচজন একসময় টোকাই ছিল। বিভিন্ন ধরনের ছোটখাট অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল। একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের নেতারা তাদের শনাক্ত করে নিজেদের দলে নিয়ে নেয়। এই চক্রটিই বেশ কয়েকদিন ধরে কাট্টলীর বিভিন্ন এলাকায় নিম্ন আয়ের লোকজনের বাসাবাড়ি, দোকানপাটে ডাকাতি করছিল।

আকবর শাহ থানায় গিয়ে কথা হয় পাঁচ ডাকাতের সঙ্গে। বাড়ি দেশের বিভিন্ন জায়গায় হলেও তাদের সবার জন্ম নগরীর সদরঘাট থানা এলাকায়। মাঝিরঘাট, বাংলোপাড়, আপেল মাঝির কলোনি, পুরাতন কাস্টমস এসব এলাকাতেই তাদের বসবাস।

মনির, রানা, আলাউদ্দিন ও রুবেল নগরীর সদরঘাট থানার কর্ণফুলী ঘাটে সাম্পান থেকে মাছ বোঝাইয়ের কাজ করে। মো.রুবেল মাছ বোঝাইয়ের কাজের পাশাপাশি রিক্সাও চালায় বলে জানিয়েছে।

মো.রুবেল জানান, গণপিটুনিতে নিহত সাগর ও রাসেলের সঙ্গে তাদের পরিচয় কর্ণফুলী ঘাটে। তারাও মাছ বোঝাইয়ের কাজ করত।

মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে রুবেল রিক্সা কোতয়ালি মোড়ে রেখে বলিখেলা উপলক্ষে যে মেলা চলছে সেখানে ঢুকে। মেলার ভেতর তার সঙ্গে রাসেলের দেখা হয়। পরে সাগরের সঙ্গেও তাদের দেখা হয়। দুজন তাকে কাট্টলী এলাকায় একটি কাজ আছে বলে সিএনজি অটোরিক্সায় তুলে নেয়।

অটোরিক্সা অলংকার মোড়ে যাবার পর বাকি চারজন তাদের সঙ্গে আরেকটি অটোরিক্সায় করে যোগ দেয়। বেড়িবাঁধের উপর উঠে গণপিটুনিতে নিহত অজ্ঞাতপরিচয় ডাকাতসহ ৭-৮ জনের সঙ্গে তাদের দেখা হয়।

মনির বলেন, আমরা বেড়িবাঁধ এলাকায় যাবার পরই আমাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোনগুলো কেড়ে নেয়া হয়। তারপর তারা একটি বাড়ি দেখিয়ে বলে, আমরা ওই বাড়িতে ডাকাতি করব। আমাদের রাস্তায় অপেক্ষা করে লোকজন দেখলে খবর দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।

‘আমরা জড়ো হওয়ার পরপর একদল লোক অন্ধকারের মধ্যে আমাদের ঘিরে ফেলে। তবে অন্ধকার থাকায় আমরা বুঝতে পারিনি। একপর্যায়ে তারা আমাদের দিকে টর্চের আলো ফেলে। এসময় আমরা ভয়ে দৌঁড়াতে থাকলে লোকজন আমাদের ধরে ফেলে।’ বলেন মনির।

মো.রানা বলেন, আমরা টোকাই ছিলাম। বড় কোন অপরাধ কখনও করিনি। এই প্রথম ডাকাতি করার জন্য তারা আমাদের নিয়ে গিয়েছিল। প্রথমবারই ধরা পড়ে গেলাম।

তবে তাদের দাবি সত্য নয় বলে জানিয়েছেন আকবর শাহ থানার ওসি সদীপ কুমার দাশ।

তিনি বলেন, প্রায় এক মাস ধরে কাট্টলীর বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতি হচ্ছে। এর সঙ্গে এরা জড়িত ছিল। কম বয়সী ছেলেদের ডাকাতদলে রাখা দলের নেতাদের একটা কৌশল। ধরা পড়লেও যাতে বয়সের অজুহাতে পার পেয়ে যায় সেজন্য তারা কিশোর-তরুণদের বেছে নেয়।

অভিযানে আকবর শাহ থানা পুলিশের সঙ্গে পাহাড়তলী থানা পুলিশের একটি টিমও অংশ নেয় বলে জানিয়েছেন পাহাড়তলী থানার ওসি রনজিত কুমার বড়ুয়া।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: