সর্বশেষ আপডেট : ৫৭ মিনিট ২৯ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ-তরুণী খুন : গুপ্ত দরজা দিয়ে পালায় খুনিরা

sumayaনিউজ ডেস্ক:
রাজশাহী মহানগরীতে অবস্থিত হোটেল নাইস ইন্টারন্যাশনাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধারের ৪ দিন পেরিয়ে গেলেও এই হত্যাকাণ্ডের কোনো কূলকিনারা করতে পারেনি পুলিশ।

হোটেল কর্তৃপক্ষের যোগসাজশে জোড়া খুনে জড়িতরা গুপ্ত দরজা দিয়ে পালিয়ে গেছে বলে দাবি করেছে ওই তরুণ-তরুণীর পরিবার।

ডিবি পুলিশ সূত্রে ও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হোটেলটিতে গুপ্ত কক্ষ রয়েছে। এক কক্ষ থেকে আরেক কক্ষে গোপনে নজরদারি কিংবা প্রবেশের জন্য গুপ্ত দরজারও সন্ধান পেয়েছে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। যে কেউ গোপনে অপরাধ কর্মকাণ্ড ঘটিয়ে সহজেই ওই গুপ্ত দরজা দিয়ে পালিয়ে যেতে পারবেন।

তাই এই হত্যাকাণ্ডে হোটেল নাইসের যোগসাজশ থাকতে পারে বলে ধারণা করছে ডিবি পুলিশও। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে তদন্তে ধীর গতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট অনেকেরই অভিযোগ হোটেলটিতে পুলিশ প্রশাসনের অনেকের যাতায়াত রয়েছে। সে কারণে তদন্তে গাফিলতি করা হচ্ছে।

জানা গেছে, হোটেলটিতে থাকা সিসি টিভি ক্যামেরার ফুটেজও এখনো সংগ্রহ করেনি পুলিশ। হোটেল কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণেই রয়ে গেছে ওই ভিডিও ফুটেজ। নিহতদের পরিবারের দাবি, ভিডিও ফুটেজ ইতোমধ্যে নষ্ট করা হয়ে থাকতে পারে। পুলিশ এক্ষেত্রে গাফিলতির পরিচয় দিয়েছে।

তবে রাজশাহী মহানগর পুলিশের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ রাজশাহীতেই অপর দুই পৃথক খুনের ঘটনায় পুলিশ ব্যস্ত হয়ে পড়ায় ওই ঘটনায় বিস্তর সময় দেয়া সম্ভব হয়নি। তবে তদন্ত চলছে। খুব শিগগিরই খুনিরা ধরা পড়বে।

গত শুক্রবার রাজশাহী মহানগরীর সাহেব বাজার এলাকায় অবস্থিত আবাসিক হোটেল নাইস ইন্টারন্যাশনালের ৩০৩ নম্বর কক্ষ থেকে দুই তরুণ-তরুণীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ সময় উদ্ধার করা দুটি পরিচয়পত্র থেকে জানা যায়, তরুণ মিজানুর রহমান (২৩) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। তিনি সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া এলাকার ওমেদ আলীর ছেলে।

আর তরুণী সুমাইয়া নাসরিন (২০) পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী। তার বাবা গাইবান্ধা ডিবি পুলিশে কর্মরত।

ডিবি ও থানা পুলিশ সূত্র জানায়, হোটেল মালিক খন্দকার হাসান কবীর সাংবাদিকদের কাছে ঘটনাটি আত্মহত্যা দাবি করায় নানামুখি প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। হোটেল কক্ষে মিজানের মরদেহ সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেয়া অবস্থায় ঝুলন্ত দেখা গেলেও শারীরিক প্রতিবন্ধী (বাম পা খোড়া) হওয়ায় তার পক্ষে ১২ ফুট উচুঁতে সিলিং ফ্যানে ঝুঁলা অসম্ভব।

এছাড়া ওই ঘরে সিলিং ফ্যানে ঝুঁলার জন্য ৬ ফুট উচ্চতার কোনো টেবিল বা টুল ছিলো না। সে কারণে মিজানকে হত্যার পর ঝুঁলিয়ে দেয়া হয়েছে এটি স্বাভাবিকভাবেই প্রমাণ করে। তাছাড়া মিজানের দুই হাত ছিল বাঁধা। মিজানের পড়নের প্যান্ট ছিল পা পর্যন্ত খোলা। এসব পারিপার্শিক বর্ণনা প্রমাণ করে মিজানকেও হত্যা করা হয়েছে।

নিহত সুমাইয়া নাসরিনের বড় বোন মাহবুবা তাসনীম বলেন, আমরা কেউ জানতাম না সুমাইয়া প্রেম করতো। শান্ত স্বভাবের সুমাইয়া কাউকে বিষয়টি জানায়নি।

তিনি বলেন, ‘ঘটনাক্রম যাই হোক না কেন, দুজনকেই হত্যা করা হয়েছে প্রমাণিত। কারণ সুমাইয়াকে মিজানুর খুন করতে পারে না। ডিবি পুলিশের তথ্য অনুযায়ী মিজানুর নিজেই শারীরিকভাবে ডিসঅর্ডার (প্রতিবন্ধী)। তার এক পা খাটো। খুঁড়িয়ে হাঁটতো। সুমাইয়া উচ্চতায় ৫ ফিট ৪ ইঞ্চি। শারীরিক অবয়বেও শক্তিশালী। মিজানুর তাকে সহজে বালিশ চেপে খুন করতে পারে না। যদি তাই হয়েও থাকে, তবে হাত পেছনে বাঁধা অবস্থায় মিজানুর আত্মহত্যা করবে কিভাবে? অথচ তার পেছনে হাত বাঁধা ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এতে অনুমান করা যায় যে অন্য কেউ ওই দুজনকেই খুন করেছে।

সুমাইয়ার বড় বোন আরো বলেন, ‘এখানে অবশ্যই হোটেল কর্তৃপক্ষের যোগসাজশ রয়েছে। নইলে এটা সহজ নয়। তাছাড়া ওই হোটেলে অপকর্মের নানা খবর চাউর রয়েছে।’ খুনি যারাই হোক দ্রুত তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

অন্যদিকে, নিহত মিজানুরের মামা ইউনুস আলী বলেন, মিজানুর ও ওই মেয়েকে খুন করা হয়েছে। কে বা কারা কিভাবে কেন খুন করেছে তা খতিয়ে দেখার দায়িত্ব পুলিশের। তবে ঘটনার চারদিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে না পারায় রহস্য থেকে যায়। বরং উল্টো মিজানুরকেই দায়ী করার পায়তারা করছে পুলিশ। এটা করা হলে প্রকৃত হত্যাকারীরা আড়ালে থেকে যাবে।

তিনি বলেন, হোটেল কর্তৃপক্ষ কি এতো পাওয়ারফুল যে তাকে গ্রেফতার করা হলো না, জিজ্ঞাসাবাদও করা হলো না? কেনই বা হোটেলের ভিডিও ফুটেজ ডিবি পুলিশ সংগ্রহ করে খতিয়ে দেখছে না? এসবই রহস্য তৈরি করছে এবং পুলিশি ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

হোটেল কর্তৃপক্ষ মিজানুরকে খুনি ও তার মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে ময়না তদন্তের রিপোর্ট দিতেও জোর তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ঘটনার পরদিন শনিবার বিকেলে নিহত সুমাইয়ার পিতা গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল করিম বাদী হয়ে বোয়ালিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

অন্যদিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. এনামুল হক জানান, সুমাইয়া নাসরিনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তার মাথায় ও মুখে জখমের চিহ্ন রয়েছে।

অপরদিকে মিজানুর রহমান শ্বাসরোধে কিংবা আত্মহত্যা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়। মিজানুরের ময়না তদন্ত শেষ হলে এব্যাপারে স্পষ্ট বলা যাবে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বোয়ালিয়া থানার ইন্সপেক্টর (ওসি-তদন্ত) সেলিম বাদশা জানান, এ পর্যন্ত মামলার অগ্রগতি হয়নি।

ঘটনা সম্পর্কে তিনি বলেন, নিহত মিজানুর রহমান এবং তরুণী সুমাইয়া ইয়াসমিন দু’জন গত ২০ এপ্রিল (বুধবার) সন্ধার পর হোটেলে আসেন এবং ৩০৩ নম্বর কক্ষ ভাড়া নেন। এরপর ২২ এপ্রিল (শুক্রবার) দুপুরে হোটেল কর্তৃপক্ষের দেয়া খবরে ওই কক্ষ থেকে পুলিশ তাদের মরদেহ উদ্ধার করে।

আলোচিত তরুণ-তরুণীর এই হোটেলে অবস্থানের কারণ, তাদের সঙ্গে কারা দেখা করতে এসেছিল, তারা কোথায় কোথায় গিয়েছিল, এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি। তবে দু’জনকেই যে হত্যাকরা হয়েছে এবং হত্যার আগে নিহত তরুণীর ওপর পাশবিক নির্যাতন চলেছে এ ব্যাপারে পুলিশ নিশ্চিত বলেও জানান সেলিম বাদশা।জাগো নিউজ

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: