সর্বশেষ আপডেট : ২১ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বড়লেখায় পল্লী জীবিকায়ন প্রকল্পের টাকায় চলে দাদন ব্যবসা : দুর্নীতির সাথে জড়িত সংবাদকর্মীও

daily sylhet Barlekha newsজালাল আহমদ::
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় জাল স্বাক্ষরে পল্লী জীবিকায়ন প্রকল্পের (পজীপ) উপজেলা ব্যবস্থা কমিটি গঠনের অভিযোগে সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ব্যাংক একাউন্ট ফ্রিজ করে দিয়েছে। ভুয়া সমিতি ও ব্যক্তির নামে টাকা বরাদ্দ দেয়াসহ ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে প্রায় কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে পজীপ’র বিরুদ্ধে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের অভিষ্ট জনগোষ্ঠির কৃষি ও অকৃষি খাতে টেকসই আয়বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দারিদ্র বিমোচনের লক্ষ্যে সরকার ১৯৯৮ সালে রুরাল লাইবলীহুড প্রজেক্ট (আরএলপি) বা পল্লী জীবিকায়ন প্রকল্পটি চালু করলেও কর্মকর্তা-কর্মচারীর দুর্নীতির কারণে এর মূল লক্ষ্য ভেস্তে যাচ্ছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলায় পজীপ প্রায় কোটি টাকা ভুয়া সমিতির নাম ব্যবহার করে লুটে নিয়েছে। ভুয়া ছবি, নাম, ঠিকানা ও জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে নামসর্বস্ব সমিতি ও ব্যক্তির নামে এসব ঋণ প্রদান করা হয়েছে। এর সবই ঘটেছে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও মাঠকর্মীর সহযোগিতায়। ঋণগ্রহীতাদের অধিকাংশ এসব টাকায় দাদন ব্যবসা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কাগজে-কলমে সমিতির নাম দেখিয়ে ঋণ বিতরণ করলেও বাস্তবে এসবের অস্তিত্ব-ই নাই। ফলে সরকারি বিপুল পরিমাণ টাকার লভ্যাংশসহ সমুদয় টাকাই জলে যাচ্ছে।

বিভিন্ন সমিতির কাছে প্রায় অর্ধকোটি টাকা পাওনা রয়েছে বলে জানিয়েছে পজীপ। বিভিন্ন মাধ্যম পুরুষ ও মহিলার ছবি সংগ্রহ করে ভুয়া নাম-ঠিকানা দিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করা হয়। এরপর সে ছবি ও ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র ঋণ গ্রহণে ব্যবহার করা হয়।

অনেক সংবাদকর্মীও জড়িত পজীপ’র এসব দুর্নীতির সাথে। একটি সমিতি স্থানীয় জনৈক সংবাদকর্মীর ছবি ব্যবহার করে ভুয়া নাম, ঠিকানা ও জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে ঋণ গ্রহণ করে। ওই সংবাদকর্মী পরে ভাগ-বাটোয়ারা না পেয়ে বিদ্রোহে নামেন।

নামসর্বস্ব এসব সমিতির সভাপতি/সম্পাদকদের সাথে যোগসাজসের মাধ্যমে অফিসের কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন থেকে ভুয়া সদস্য সৃষ্টি করে ঋণ প্রদান করছে। এতে মাঠে প্রায় অর্ধকোটি টাকা অনাদায়ী রয়েছে। বিভিন্ন ব্যক্তির নামে বিতরণ দেখিয়ে মুষ্টিমেয় কয়েকজন দ্বারা ঋণ গ্রহণ ভুয়া ঋণ বিতরণের-ই শামিল।

ব্যাংক একাউন্ট থেকে উপজেলা ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও প্রকল্প কর্মকর্তার স্বাক্ষরে ঋণ বিতরণের টাকা, স্টাফ বেতনসহ সব ধরণের ব্যয় উত্তোলনের নিয়ম রয়েছে। প্রকল্প কর্মকর্তা পছন্দের ব্যক্তিকেই সভাপতি নির্বাচিত করে নামে-বেনামে ঋণ বিতরণ ও ভুয়া বিল ভাউচারে টাকা উত্তোলন করেন। এসবের সিংহভাগই আত্মসাত করা হয়ে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বর্তমান কমিটির সভাপতি তাজির উদ্দিন, সহ-সভাপতি সমছ উদ্দিন, খোদেজা বেগম, রাজিয়া বেগমসহ কমিটির অপর সদস্যদের জাল স্বাক্ষরে সদস্য সচিব পজীপ’র উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা মনোয়ারা বেগম নাসির উদ্দিনকে সভাপতি নির্বাচিত দেখিয়ে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ব্যাংকে রেজুলশন প্রেরণ করেন। গত ১৯ এপ্রিল ভুক্তভোগীমহল সোনালী ব্যাংক বড়লেখা শাখায় জাল স্বাক্ষরে কমিটি গঠনের অভিযোগ দিলে ২০ এপ্রিল ব্যাংক কর্তৃপক্ষ পজীপ’র ৩৩০০২৯০৫ নম্বরের চলতি হিসাবটি ফ্রিজ করে দেয়।

সোনালী ব্যাংক বড়লেখা শাখা ব্যবস্থাপক আবাদ হোসেন ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতিসহ অন্যান্যদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পজীপ’র ব্যাংক একাউন্ট ফ্রিজ করার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

পজীপ’র প্রকল্প কর্মকর্তা মনোয়ারা বেগম জানান, ব্যাংক একাউন্ট ফ্রিজ করায় তার কাহিল অবস্থা চলছে। ঋণ গ্রহণকারী ব্যক্তিকে সমিতির সভাপতি/সম্পাদক সনাক্ত করার নিয়ম থাকায় তার কিছু করার থাকে না।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: