সর্বশেষ আপডেট : ১০ মিনিট ৩০ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ২৫ জুন, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ১১ আষাঢ় ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বাসর ঘরে নববধূ স্বামীর ফোন রিসিভ করেন : অত:পর …

47নিউজ ডেস্ক :: বাড়িময় বিয়ের আমেজ। বরযাত্রীরাও উপস্থিত। কাজী এসে বিয়ে পড়িয়ে দিলেন। খাওয়া-দাওয়া আর ইষ্টি কুটুম্বদের খুনশুটিতে গোটা বিয়ে বাড়িতেই আনন্দের উত্তাপ। বরের বাড়ি অনেক দুরে। তাই বাসরের ব্যবস্থা হয় কনে বাড়িতেই। বাসর ঘরে হঠাৎ বরের মোবাইল ফোন বেজে ওঠে। ফোন ওঠান নববধু।

ও প্রান্ত থেকে মেয়ে কণ্ঠের আওয়াজ। প্রশ্ন ‘কোথায় তুমি?’ এলোমেলো হয়ে যায় সবকিছু। সময় অতিবাহিতের সাথে সাথে ফাঁস হতে থাকে বরের যতসব কুকৃত্তি। পরদিন গ্রামবাসীরা বর ও ঘটককে গণধোলাই দিয়ে মাথা ন্যাড়া করে গ্রাম ঘুরিয়ে বিদায় করে দেয়। এমনই ঘটনা ঘটেছে রৌমারী উপজেলার চর ফুলবাড়ী গ্রামে।

গেল মঙ্গলবার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে জানা গেল বর আতোয়ার রহমানের বাড়ি জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার ডাংধরা ইউনিয়নের পূর্বপাড়া গ্রামে। পেশায় সে ছিচকে চোর। এ পর্যন্ত বিয়ে করেছে ৪টি। এটা তার ৫ম বিয়ে। স্ত্রীরা তার কর্মকান্ডে অতিষ্ট হয়ে কেউ তালাক দিয়েছে আবার কেউ তালাক না দিয়েই চলে গেছে। এর মধ্যে রোজিনা খাতুন নামের তৃতীয় স্ত্রীর সঙ্গে প্রায় ২ বছর সংসার হয় তার। সেদিক থেকে একটি দেড় বছরের ছেলে রয়েছে।

চতুর্থ স্ত্রী চলে যাওয়ার পর আতোয়ার রহমান ঢাকায় পাড়ি জমায়। সেখানে বছরখানেক থেকে এলাকায় আসে ভাল মানুষ সেজে। নিজ এলাকায় কোন কনে না পাওয়ায় দুরের কোন এলাকায় বউ খুঁজতে রফিক নামের এক ঘটকের সহযোগিতা নেয়।

একই উপজেলার ডাটিয়ার চর গ্রামে তার বাড়ি। রফিক ঘটক ঘটকালি সুত্রে পরিচয় হয় রৌমারী উপজেলার ফকিরপাড়া গ্রামের বক্তজামানের সাথে। ঘটক বক্তজামান বিয়ে করে একই উপজেলার চরফুলবাড়ি গামে। শ্বশুর বাড়ি এলাকায় সে বউ হিসেবে খুঁজে পায় শাহজামালের ষোড়শি কন্যা শাহাজাদিকে।

এদিকে শাহজামাল মিয়া ওই গ্রামের একজন প্রান্তিক কৃষক। জমিজমা না থাকলেও বর্গা চাষ করে কোন রকমে ৫ সন্তানসহ ৭ সদস্যের সংসার চালান। দু মেয়ের বিয়ে হয়েছে। এই মেয়ের বিয়ে হলে কন্যাদায় থেকে মুক্তি পান তিনি। তাই আগুপিছু না ভেবেই চাটুকার ঘটকের কথায় কন্যাদান সম্পন্ন করেন।

কিন্তু পরদিন সকল খবরাখবর জানাজানি হলে সবার মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ে। গ্রামের মাতব্বর, ইউপি চেয়ারম্যান ও আবালবৃদ্ধ বনিতাদের হাট বসে যেন বাড়িতে। কেউ বলছেন এই প্রতারককে পুলিশে দাও।

কেউবা বলছেন গাছের সঙ্গে বেধে আচ্ছা করে পিটুনি দাও। আবার কেউ কেউ হাতে যা আছে তাই দিয়ে সামান্য উত্তম-মধ্যম দিয়ে জামাই আদর শুরু করেন। পরে ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক কাজী এনে মেয়ের দ্বারা ডিভোর্স করিয়ে ঘটক ও বরের মাথা ন্যাড়া করে গ্রাম ঘুরিয়ে বিদায় করে দেন।

প্রতারকদের শাস্তি তো হলো কিন্তু কাল বিয়ে হলো আর আজ ভেঙ্গে গেলো এই শাহাজাদির কি হবে এখন?

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: