সর্বশেষ আপডেট : ২৪ মিনিট ১ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

জীবনানন্দ ‘এই বাংলায়’ ফিরতে চাইতেন না!

22‘আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে- এই বাংলায়/ হয়তো মানুষ নয়- হয়তো বা শংখচিল শালিখের বেশে’। বাংলার রূপে মুগ্ধ হয়ে কবি জীবনানন্দ দাশ বার বার এই বাংলায় ফিরে আসতে চেয়েছিলেন।

শুধু কবিই যে ফিরে আসতে চেয়েছেন তা নয়। তার কবিতা হাজারো মানুষকে বাংলায় ফিরে আসার প্রেরণা জুগিয়েছে। তার এই কবিতা যুগে যুগে কোটি বাঙালির মনে বাংলার প্রতি আলাদা একটা ভালোবাসার বীজ বুনে যায়। জীবনানন্দের কবিতা পড়েছেন আর বাংলার রূপে মুগ্ধ হননি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। জীবনানন্দের কবিতা মানেই হাজার মাইল দূরে থাকলেও আপনাকে বাংলার প্রতি আলাদা একটা টান অনুভব করাবে।

মৃত্যুর পর বিংশ শতাব্দীর শেষ ধাপে জীবনানন্দ জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করেন। ১৯৫৪ সালে মৃত্যুর আগে তিনি নিভৃতে ১৪টি উপন্যাস এবং ১০৮টি ছোটগল্প রচনা গ্রন্থ করেছেন যার একটিও তিনি জীবদ্দশায় প্রকাশ করেননি। তার জীবন কেটেছে চরম দারিদ্রের মধ্যে। জীবনানন্দ দাশকে বলা হয় বাংলা ভাষার শুদ্ধতম কবি। অর্থিক দৈন্যতায় জীবন পার করলেও কবি বাংলা সাহিত্যকে তার বলিষ্ঠ লেখনীর মাধ্যমে প্রাচুর্যে সমৃদ্ধ করেছেন। তার লেখায় কোথাও বাংলার রূপের বর্ণনায় কার্প্যণ করেননি। কবির জীবদশায় সুখ ছিল না বলেই অনেকে মনে করেন। জীবনের অনেকটা সময় আর্থিক অভাব অনটনে কেটে গেছে। কর্মের নিরাপত্তাহীনতা আর অর্থের অভাব কবিকে সুখ দেয়নি।

আমরা গিয়েছিলাম, জীবনানন্দের বাড়ি গিয়েছিলাম। পড়ন্ত বিকেলে জীবনানন্দের বাড়ির আঙ্গিনায় যে এক ঝাঁক শালিকের বিচরণ দেখেছি তার মাঝে জীবনানন্দকে খুঁজে পাওয়া খুব কঠিন নয়। প্রতিটি শালিকের চোখে মনে হচ্ছিল এই বুঝি জীবনানন্দ। কত বছর আগে এই মানুষটি আমার মনে ধরিয়ে দিয়েছে সে ফিরে আসবে শাকিলের ভেসে।

জীবদ্দশায় কবির কোনো মূল্যায়ন করতে পারিনি আমরা। আর তার মৃত্যুর পর কতটা অবহেলা করছি তা দেখতে বরিশালের ধানসিঁড়ি বাড়িতে যেতে হবে।

কবির প্রতি আমাদের দৈনতা যে কতটা তা প্রকট হয়ে উঠে জীবনানন্দের বাড়িতে গেলে। কবির বাড়ির স্মৃতি তেমন কোনো চিহ্ন নেই। বরিশালের স্থানীয় সাংবাদিক সাথে কথা বলে জানতে পারলাম কিছু মানুষ স্রোতের বিপরীতে লড়াই করে একটা পাঠাগার স্থাপন করতে পেরেছে। কিন্তু এখন জীবনানন্দের বাড়ির ধানসিড়ির প্রবেশ পথে তৈরি করে রাখা হয়েছে বিশাল ডাস্টবিন। ধানসিঁড়ির প্রবেশ পথে কেন এই ডাস্টবিন? স্থানীয়দের উত্তর সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষকে বহুবার বলেও কাজ হয়নি। আমি ফিরে এসে ব্যক্তিগত ভাবে চিঠি লিখেছি কর্তৃপক্ষকে।

কিন্তু এই বাড়িটি হয়ে উঠতে পারত বাংলার অপরূপ বর্ণনার হাজার কবি ও কবিতার তীর্থস্থান। যে লোকটা বাংলা সাহিত্যের দিয়ে গেলে অঢেল তার স্মৃতির রক্ষার্থে তার বাড়ির সামনে থেকে একটা ডাস্টবিন সরিয়ে নেয়া খুব কঠিন নয়। প্রয়োজন শুধুই পদক্ষেপের।

দিন কয়েক বরিশালের নানা জায়গায় ঘুরে একটা অপরাধবোধ নিয়ে ঢাকায় ফিরেছি আমি। জীবনানন্দের প্রেম ভালবাসার নদী ধানসিঁড়ি ভালো নেই। এককালে নদীটির প্রশস্ততা এমন ছিল যে, এক ডোঙা ধান সিদ্ধ করতে যতটা সময় লাগত, নদী পার হতেও ততটা সময় লেগে যেত। এক সময়ের এ প্রমত্তা নদী এখন জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে।

কত রাত আমার প্রশান্তি মিলেছে জীবনানন্দের কবিতায়। তার দায়তো আমারও আছে কিছুটা। হয়তো কবির ধানসিঁড়ি নদী ফিরিয়ে দিতে পারবো না। কিন্তু কবির বাড়ির ধানসিঁড়ি সামনে থেকে ডাস্টবিনটা সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা কি করতে পারি না? ধানসিঁড়ি সামনে থেকে ডাস্টবিনটা সরিয়ে দেয়া হোক। হাজারো শালিক, লক্ষী প্যাঁচার আবাস হোক কবির ধানসিঁড়ি বাড়ি। কিশোরীর রঙিন পায়ের ঘুঙুরের শব্দে প্রাণবন্ত রবে ধানসিঁড়ি। যতই সীমাবদ্ধতার দোহাই দেই আমরা আমাদের এ চেষ্টা না করলে বড্ড অবিচারই হয়ে যাবে।
লেখক : সায়েম সাইফুল আলম

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: