সর্বশেষ আপডেট : ১ মিনিট ১ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বিশ্বনাথে রাজনীতিতে কঠিন অগ্নিপরীক্ষায় শফিক চৌধুরী ও ইলিয়াসপত্নী লুনা

31বিশ্বনাথ প্রতিনিধি :: বিশ্বনাথে গত প্রায় দুশক ধরে লেগে থাকা শনির দশা কাটাতে পারেনি আওয়ামীলীগ কিংবা বিএনপি। অনেকেই ভেবেছিলেন আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হয়ত প্রাচীন এবং ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশের রাজনীতির সর্ববৃহৎ এই দল দুটির আভ্যন্তরীণ বিরোধ কিছুটা হলেও মিটে যাবে। দলীয় নমিনেশনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিবেশও মনে হয়েছিল সে দিকে এগোচ্ছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের নমিনেশনকে কেন্দ্র করে সরকারী দল ও সাবেক বিরোধী দল কেউই নিজ ঘরের গৃহবিবাদ দূর করতে পারেনি। বরং কঠিন এক অগ্নিপরীক্ষায় পড়েছেন দলটির স্থানীয় দুই শীর্ষ নেতা শফিকুর রহমান চৌধুরী ও ইলয়াসপত্নী তাহসিনা রুশদি লুনা। যারা ভবিষ্যতে জাতীয় নির্বাচনে এই আসন থেকে বিনা বাধায় নিজ নিজ দলের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন ।

প্রবাসী অধ্যুষিত বিশ্বনাথে জাতীয় ও সিলেটের রাজনীতির আলোচিত ও অনেক নন্দিত নেতার জন্মস্থান হওয়ায় এই জনপদের উপর মিডিয়াসহ সবার দৃষ্টি একটু বেশীই লক্ষ্য করা যায়। আর বিশেষ করে গত প্রায় ২ দশকে রাজনীতির কারণে ৮ টি তাজা প্রাণ ঝরে যাওয়ায় জাতীয় রাজনীতিতে বিশ্বনাথের গুরুত্ব অনেকাংশে বেড়ে যায় । এর পাশাপাশি আভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিরোধ ও ছিল লক্ষ্যনীয়।

আওয়ামীলীগ : গত বছরের ৮জুন অত্যন্ত জাকজমক ও উৎসবমুখর পরিবেশে বিশ্বনাথ উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলনে আলহাজ পংকি খান সভাপতি ও বাবুল আখতার পূণরায় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তবে এখন পর্যন্ত কেন্দ্র থেকে অনুমোদন পায়নি সেই কমিটি। গোপন ব্যালেটে নির্বাচন হয়নি এই অজুহাতে পরাজিত প্রার্থীরা নানান কুটকৌশলে আটকে দিয়েছেন সেই কমিটি এমটাই দাবি তাদের । অথচ তারাই আবার আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে গোপন ব্যালট ছাড়া পদ্ধতিতেও নির্বাচনে অংশ নেন এবং চরম ভরাডুবিতে পতিত হন। কিন্তু পর্দার অন্তরালে থাকা যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী আর্শিবাদ নিয়ে পুরাতন কমিটির উল্লেখযোগ্য পরিমাণ নেতা আলাদা প্লাটফর্ম সৃষ্টি করেন ও নানান কর্মসূচি চালিয়ে যেতে থাকেন। এতে কেন্দ্র বা জেলা নেতৃবৃন্দ সময়োপযোগী কোন পদক্ষেপ না নেওয়ায় বিরোধ যেমন ছিল তেমনী থেকে যায়। বরং ইউপি নির্বাচনের প্রাক্কালে সাবেক কমিটির সভাপতি মজম্মিল আলী পুরাতন কমিটির একাধিক নেতা ও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানদের নিয়ে সভা করে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষনা করেন উপজেলা আওয়ামীলীগ মনোনীত ৭ ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী । আর তাদের পক্ষ থেকে কেন্দ্রে পাঠানো হয় সে তালিকাও।

অন্যদিকে উপজেলা আওয়ামীলীগের নবগঠিত কমিটি সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরীসহ জেলা নেতৃবৃন্দ নিয়ে সভা করে প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়ার কাজ চলে। যদিত্ত সে সভায় সাবেক কমিটির উল্লেখযোগ্য কোন নেতা এমনকি কিছু হেভিওয়েট প্রার্থীরাও আসেননি। সে সভায় অন্য কোন প্রার্থী না থাকায় রামপাশা ইউনিয়নে মোহাম্মদ আলমগীর ও দেওকলসে আবুল কালাম জুয়েলকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করা হয় । বাকী কয়েকটি ইউনিয়নে দলীয় মনোনীত কাউন্সিলররা নিজ ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থী নির্ধারণের লক্ষ্যে ভোট প্রদান করেন। তৃণমূল থেকে ভোট গ্রহনের ফলাফল প্রকাশের দাবি জানানো হলেও জেলা নেতৃবৃন্দ তাতে সায় না দিয়ে কেন্দ্রের অপেক্ষা করার জন্য সবাইকে নির্দেশ দেন। আর এতে তৃণমূল আওয়ামীলীগের নেতা কর্মী আশায় বুক বাধেন হয়ত আলাপ, আলোচনা ও সমাঝোতার ভিত্তিতে বাকী ৫ ইউনিয়নে দল থেকে একক প্রার্থী দেওয়া হবে এবং সে সাথে মিটে যাবে দলীয় বিবাদ। সেই ৫ ইউনিয়নে প্রার্থী দিতে গত এক সপ্তাহ কিছুটা বিলম্ব হওয়ায় মনে হয়েছিল পরিবেশ বোধ হয় সে দিকে এগোচ্ছে । কিন্তু সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘঠিয়ে দলীয় হেভিওয়েট প্রার্থীদের টেক্কা দিয়ে শফিকুর রহমান চৌধুরীর বলয়ের ১জন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও ৬ জন নবীন প্রার্থী নৌকা প্রতিক পেতে সক্ষম হয়েছেন। এর প্রেক্ষিতে আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর বলয়ের ৫ প্রার্থী খাজাঞ্জী, রামপাশা, দৌলতপুর, বিশ্বনাথ ও দেওকলস ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে লড়ছেন। আনোয়ারুজ্জামান বলয়ের ৫ প্রার্থীর মধ্যে ৪ জনই দুবার করে চেয়ারম্যান ছিলেন আর অপরজন নির্বাচন করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে ।

বিএনপি : ২০১১ সালের ইউপি নির্বাচনে খাজাঞ্চী ইউনিয়ন ব্যতিত বাকী ৬টি ইউনিয়নে বিজয়ী হয় বিএনপির সমর্থিত প্রার্থীরা। তখন ক্ষমতায় ছিল আওয়ামীলীগ । ২০০৮ সালে ১০ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রবাসী প্রার্থী শফিকুর রহমান চৌধুরীর কাছে হারের চরম প্রতিশোধ নেন বাংলাদেশের রাজনীতির আলোচিত মুখ নিখোঁজ ইলিয়াস আলী । খাজাঞ্জী ইউনিয়নে বিজয়ী হয় জোটের শরীক জামায়াত। বাকী ৭টি ইউনিয়নে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা জয়ী হন।

সে নির্বাচনে সাবেক ৩ ইউপি চেয়ারম্যানের সাথে বিএনপির নবাগত তিন আনকোরা প্রার্থী বিজয়ী হন কেবল ইলিয়াস আলীর রাজনৈতিক কারিশমাটিক গুণে। এবার ইলিয়াস আলীর অবর্তমানে বিএনপির প্রার্থী নির্ধারণে সর্বময় ক্ষমতা ছিল ইলিয়াস পত্নী তাহসিনা রুশদী লুনার উপর । তথাপি তিনি উপজেলা বিএনপির সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন নেতাকে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষমতা দিলেও তারা শত চেষ্টা করেও পারেননি বর্তমান ও সাবেক চেয়ারম্যানদের প্রার্থী করতে যার কারণে ৫টি নতুন মুখ নিয়ে নির্বাচনী যুদ্ধে নেমেছে বিএনপি। নতুন মুখ বাছাইয় করতে বিতর্কের উর্ধ্বে উঠতে পারেননি বাছাই প্রক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্টরা। যার কারণে আখেরে সব সফলতা ও ব্যর্থতা কিন্তু এখানকার বিএনপির অভিভাবক হিসেবে তাহসিনার উপরই বর্তাবে।
শেষ কথা বাংলাদেশের রাজনীতির আলোচিত এ জনপদে যে শফিকুর রহমান চৌধুরী ও যে তাহসিনা রুশদী লুনা আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিনা বাধায় দলীয় নমিনেশন পেয়ে এমপি হওয়ার প্রত্যাশা করছেন, তাদেরকে চলতি ইউপি নির্বাচনে কঠিন এক অগ্নিপরীক্ষার মুখোমুখি দাড়িয়ে আছেন তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: