সর্বশেষ আপডেট : ৪ মিনিট ৪৯ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

কন্যা সন্তানের মা হয়েছেন রানা প্লাজার ‘বিস্ময় কন্যা’ রেশমা

31নিউজ ডেস্ক :: সাভারের রানা প্লাজার ধ্বংসস্তুপে ১৭ দিন আটকে থাকার পর উদ্ধার হওয়া ‘বিস্ময় কন্যা’ রেশমা কন্যা সন্তানের মা হয়েছেন। বর্তমানে রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে কর্মরত রেশমাকে সন্তানসহ দেখে যাওয়ার পর এ খবর নিশ্চিত করেছেন তার সৎ বাবা আরজন আলী বাবু।
সাংবাদিকদের তিনি জানিয়েছেন, নিজের পছন্দে বিয়ে করলেও পরিবারের সদস্যদের কাছে এ খবর গোপন রেখেছিলেন তিনি। তবে সন্তান জন্মের ৪০ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর রেশমার মা জোবেদা খাতুনকে এই খবর জানানো হয়। যদিও মাস ছয়েক আগে প্রেমিক রাব্বিকে নিয়ে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট বেড়িয়ে গেছেন রেশমা।
রেশমার সৎ বাবা জানান, সন্তান জন্মের খবর পেয়ে ২২ মার্চ তার স্ত্রী জোবেদা খাতুনসহ তিনি রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে গিয়েছিলেন রেশমা ও তার কন্যা সন্তানকে দেখতে। রেশমার স্বামী রাব্বি একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকুরি করেন। তার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ। আগামী মঙ্গলবার রেশমা দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে মায়ের বাড়ি আসবেন। সেখানেই নাম রাখা হবে সদ্য জন্ম নেওয়া তার কন্যা সন্তানের।
সাভারের রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় আটকে পড়ার প্রায় ১৭ দিন পর ধ্বংসস্তুপের নিচ থেকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছিল পোশাক শ্রমিক রেশমা আক্তারকে। টানা ১৭ দিন অন্ধকারের ভেতর খাবার ও পানি ছাড়াই বেঁচে থাকার পর সুস্থভাবে ধ্বংসস্তূপ থেকে রেশমার বেরিয়ে আসার ঘটনা পৃথিবীর বুকে জন্ম দিয়েছিল আরেকটি অলৌকিক ঘটনার। রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় দেশ-বিদেশের সংবাদমাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছিল।
এ দুর্ঘটনায় এক হাজার ১’শ ৩৮ জন নিহত এবং দুই হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এমন মৃত্যুকূপ থেকে দুর্ঘটনার ১৭ দিন পরে খাবার ও পানি ছাড়া অন্ধকারের মধ্যে থেকেও বেঁচে ফেরাটা সম্ভব নয় কিছুতেই, অন্তত আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান তো তাই বলে। তাই সেদিন রেশমা পেয়েছিলেন ‘বিস্ময় কন্যা’র আখ্যা।
আর সেই ‘অলৌকিক’ ঘটনার পর পাল্টে গেছে রেশমার জীবনও। এক দরিদ্র পোশাক শ্রমিক জীবন থেকে রেশমা উঠে এসেছেন স্বচ্ছল মধ্যবিত্তদের কাতারে। সারা দিন হাড়ভাঙা খাটুনির পর একজন জীর্ণ, বিধ্বস্ত পোশাক শ্রমিক থেকে রেশমা উঠে এসেছেন সংবাদপত্রের প্রথম পাতার শিরোনামে।
তবে ধ্বংসস্তুপ থেকে বেঁচে ফেরা বাকি হাজারও শ্রমিকের মতোই সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনার স্মৃতি আজও রেশমাকেও কাঁপিয়ে তোলে, নিদ্রাহীনতা আর শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গে ব্যথার যন্ত্রণায় তিনিও এখনও ভুগছেন বলে তার বাবা জানান।
তার মতে, এতোকিছুর পরও তার জীবনে এসেছে ইতিবাচক বেশকিছু পরিবর্তন। রাজধানীতে অবস্থিত আন্তর্জাতিক মানের পাঁচ তারকা হোটেল ওয়েস্টিনে নিজের নতুন কাজও দারুণ উপভোগ করছেন তিনি। রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর ‘বিস্ময় কন্যা’ এই কাজটি পেয়ে এখন আর সেই হাড়ভাঙা খাটুনির জীবনে নেই, বরং বেশ স্বাচ্ছন্দ্যকর জীবনযাপন করছেন।
আর কখনো পোশাক কারখানায় ফিরে যাবেন না উল্লেখ করে রেশমা তার বাবাকে বলেন, ‘আমার এখনকার কাজটা আমার অনেক ভালো লাগে। গার্মেন্টস কারখানায় যে কাজ করতাম আমি, তার ঠিক উল্টো কাজ করি এখন। আমার এখনকার কাজ অনেক আরামের আর সম্মানের।’
দুর্ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা প্রদান ও পুনর্বাসনের জন্য তহবিল থেকে কোনো ক্ষতিপূরণ নেননি রেশমা। তবে শুধু প্রধানমন্ত্রী এবং কিছু বেসরকারি উৎস থেকে কিছু টাকা পেয়েছেন তিনি।
রানা প্লাজা দুর্ঘটনার মাধ্যমে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন তারপর থেকে অনেকটাই ধার্মিক জীবনযাপন করছেন রেশমা। প্রত্যাহিক জীবনে নামাজ পড়ার সময় পোশাক খাতে কর্মরত মানুষ এবং তার নিহত সহকর্মীদের জন্য নিয়মিত প্রার্থনাও করেন।
এদিকে ইট ভাঙছেন রেশমা’র মা জোবেদা খাতুন। ভাটা থেকে টুকরো ইট কিনে এনে তা ভেঙ্গে খোয়া বানিয়ে বিক্রি করেন তিনি। রেশমার গ্রামের বাড়ী দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটের কোশিগাড়ীতে এখন ব্যস্ত রেশমার মা। ইতোমধ্যে পাল্টে গেছে, তাদের বাড়ির চিত্র। তিনটি পাকা ঘর তুলেছেন। আরও দু’টি পাকা ঘর তৈরির প্রস্তুতি চলছে।
সরকারিভাবে প্রাপ্ত ৫০ হাজার, রানা প্লাজার ৫০ হাজার এবং বাড়ির জমি সংক্রান্ত বিরোধের সমঝোতায় এক ব্যক্তির কাছে প্রাপ্ত ৫০ হাজার এই মোট দেড় লাখ টাকায় ৩টি পাকা ঘর তুলেছেন রেশমার মা।
রেশমার বাড়ির সামনের মহাসড়কের ধারে স্থান পেয়েছে মৃতুঞ্জয়ী রেশমার ছবি সম্মিলিত বিশাল সাইন বোর্ড।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: