সর্বশেষ আপডেট : ৩৮ মিনিট ২২ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বড়লেখায় ১ মাস ধরে পানিবন্দি ৪০ পরিবার, উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশও উপেক্ষিত

01.-daily-sylhet-Barlekha-news1বড়লেখা প্রতিনিধি::
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় রাস্তার পাশের পানি নিষ্কাশনের নালা বন্ধ করে দেয়ায় প্রায় ১ মাস ধরে পানিবন্ধী হয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন ৪০ পরিবারের মানুষ। এলাকাবাসীর এ জনদুর্ভোগের অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্তর মাধ্যমে উপজেলা প্রশাসন তিন কর্মদিবসের মধ্যে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা সুগম করার নির্দেশ দিলেও প্রভাবশালীরা এর তোয়াক্কা-ই করেনি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে এলাকাবাসীর লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউপি’র ঘোলসা-রাজারগুল গ্রামের সোনাহর আলী, মহব্বত আলী, এখলাছ আলী প্রমুখের বাড়ি সংলগ্ন রাস্তার পাশের নালা দিয়ে এলাকার পানি নিষ্কাশিত হয়ে আসছে। কিন্তু অভিযুক্তরা গত বছর নালাটি বন্ধ করে দিলে রাস্তা তলিয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে জনসাধারণের রাস্তা দিয়ে চলাচল ও স্বাভাবিক জীবনযাপনেও বিঘœতার সৃষ্টি হয়। পরে এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইউএনও’র হস্তক্ষেপে বাঁধ কেটে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করা হয়।

এদিকে প্রায় তিন মাস আগে ওই প্রভাবশালীরা পুনরায় নালায় বাঁধ দেওয়ায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হলে এলাকাবাসী ফের ইউএনও বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেন। সরেজমিন গত ২২ মার্চ উপজেলা ভারপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তা আবু ইউসুফ বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে উপজেলা প্রকৌশলী বিদ্যুৎ ভূষণ পাল গত ১৭ এপ্রিল অভিযুক্ত সোনাহর আলী গংদের তিন কর্মদিবসের মধ্যে নালার পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা সুগম করে এরূপ কর্মকা-ের কারণ লিখিতভাবে ব্যাখ্যাসহ দাখিলের নির্দেশ দেন। কিন্তু জলাবদ্ধতা নিরসনের লিখিত নোটিশ প্রাপ্তির পরও এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পানি নিষ্কাশন করা হয়নি। ফলে পানিবন্ধী হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন এলাকাবাসী।

সরেজমিনে এলাকায় গেলে গ্রামের কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম মাওলানা ফারুক আহমদ, অভিযোগকারী নূর উদ্দিন, জইন উদ্দিন, দীপক রঞ্জন দাস প্রমুখ জানান, চারজন ব্যক্তির কারণে গ্রামের প্রায় ৪০ পরিবারের কয়েকশ’ মানুষ ১ মাস ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। ছাত্রছাত্রীরা স্কুল-কলেজে যেতে পারছে না। রাস্তা তলিয়ে যাওয়ায় সনাতন (হিন্দু) সম্প্রদায়ের কালাচাঁদ বাড়ির পূজা-পার্বনও বন্ধ রয়েছে।

অভিযুক্ত সোনাহর আলীর ভাই মহব্বত আলী জানান, অনেক দিন আগে এখানে গোপাট (নালা) ছিল। পরে এটা ভরাট হয়ে রাস্তার সৃষ্টি হয়। আমরা এখানে জায়গা ক্রয় করে এসেছি। রাস্তাটি আমাদের মালিকানা জায়গায় পড়েছে। রাস্তা হিসেবে এটার কোনো রেকর্ডও নেই। এটা নিয়ে সমাধানের জন্য অনেকবার সালিশ-বৈঠকও হয়েছে। কিন্তু সমাধান হয়নি। এ বিষয়ে তদন্তের মাধ্যমে রেকর্ড অনুয়ায়ী সঠিক রাস্তা নির্ণয় করার দাবি জানাচ্ছি।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী বিদ্যুৎ ভূষণ পাল জানান, ইউএনও’র নির্দেশে মৎস্য কর্মকর্তা সরেজমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেন। অভিযোগের সত্যতা পেয়ে গত ১৭ এপ্রিল অভিযুক্তদের ৩ দিনের মধ্যে নালার পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা সুগম করার নির্দেশও দেওয়া হয়। এরপর অভিযুক্ত সুনাহর আলী লিখিতভাবে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। ব্যাখ্যায় তিনি আবেদনকারী নূর উদ্দিনকে অভিযুক্ত করেছেন। তার অভিযোগ আবেদনকারী নিজেই মাটি দিয়ে রাস্তা বন্ধ করেছেন। রাস্তার জায়গাটি সুনাহর আলী তাদের নিজের বলেও উল্লেখ করেছেন। তবে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করার বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: