সর্বশেষ আপডেট : ৩২ মিনিট ২৯ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

এক কোটি স্মার্টফোন আমদানির টার্গেট

10883_b3তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক:
চলতি বছরে বাংলাদেশে আমদানি করা হবে প্রায় ১ কোটি স্মার্টফোন। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এ রেকর্ড গড়তে যাচ্ছে মোবাইল হ্যান্ডসেট আমদানিকারকরা। মোবাইল ফোনে ভয়েস কলের পরিবর্তে ইন্টারনেটভিত্তিক সেবা বেড়ে যাওয়ায় স্মার্টফোনের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। চলতি বছর এ সংখ্যা জ্যামিতিকহারে বাড়ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

আগামী বছর স্মার্টফোন আমদানির সংখ্যা দাঁড়াবে ১ কোটি ২০ লাখের বেশি। ২০১২ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ৪ বছরে দেশে স্মার্টফোন আমদানি করা হয়েছে ১ কোটি ৩৯ লাখ। সেখানে

২০১৬ ও ২০১৭ সালে আমদানি করা হবে ২ কোটি ১০ লাখ। ২০১২ সালে স্মার্টফোনের চাহিদা ছিল ১৪ লাখ। একইভাবে ২০১৩ সালে ২৫ লাখ, ২০১৪ সালে ৪০ লাখ ও গত বছর আমদানি করা হয় ৬০ লাখ স্মার্টফোন। সরকারি হিসাবে দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রথমবারের মতো ছয় কোটি ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত মার্চ মাস শেষে দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ১২ লাখ ৮৮ হাজার। এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে এই সংখ্যা ছিল ৫ কোটি ৮৩ লাখ ১৭ হাজার। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়েছে প্রায় পৌনে ৩০ লাখ। এদিকে বিটিআরসি যে নিয়মে সক্রিয় ইন্টারনেট ব্যবহারকারী নির্ধারণ করে সেটি হলো ৯০ দিন বা তিন মাসের মধ্যে একজন ব্যক্তি একবার ইন্টারনেট ব্যবহার করলেই তিনি ‘ইন্টারনেট ব্যবহারকারী’ হিসেবে চিহ্নিত হবেন। মূলত ইন্টারনেট চাহিদা বাড়ার কারণেই স্মার্টফোন নিয়ে বড় ধরনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করছেন আমদানিকারকরা। বিটিআরসি’র হিসাবে দেশে বর্তমানে একশ ৮টি প্রতিষ্ঠান হ্যান্ডসেট আমদানি করে থাকে। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশে মোবাইল ফোন আমদানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমপিআইএ) এর সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ানুল হক বলেন, ইন্টারনেট এখন বিলাসিতা নয় অতি প্রয়োজনীয় বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

এদিকটা বিবেচনা করে আমরা চাই গ্রাহককে কম দামে স্মার্টফোন দিতে। বাজার চাহিদার ওপর ভিত্তি করে প্রতি বছর টার্গেট নির্ধারণ করা হয়। সে হিসেবে এবার ৯০ লাখ স্মার্টফোন আমদানি করা হবে। আগামী বছর এর সঙ্গে যোগ হবে আরও ৩০ লাখ। তিনি বলেন, দেশে মোবাইল অপারেটররা গ্রাহক পর্যায়ে ইন্টারনেট সেবার দাম আরও কমালে স্মার্টফোনের চাহিদা আরও বাড়বে বলে মনে করি। এখন গ্রাহকদের হাজার রকমের প্যাকেজের ইন্টারনেট সেবা কিনতে হচ্ছে। এটা মনে করি ঠিক নয়। ইন্টারনেট সেবাকে সরল সমীকরণে আনা উচিত। তিনি বলেন, আমরা সরকারকে কর দিয়ে বৈধভাবে দেশে হ্যান্ডসেট আমদানি করছি। একটা অসাধু চক্র সরকারের টাকা ফাঁকি দিয়ে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ নকল হ্যান্ডসেট দেশের বাজারে নিয়ে আসছে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড থেকে শুরু করে নানা ধরনের অপরাধে এখন ব্যবহার করা হচ্ছে এসব নকল মোবাইল হ্যান্ডসেট।

অনিবন্ধিত সিমের পাশাপাশি এখন সন্ত্রাসীদের মোক্ষম অস্ত্র এসব হ্যান্ডসেট। সংশ্লিষ্টরা জানান, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতি বছর প্রায় ১ কোটি অবৈধ ও নকল হ্যান্ডসেট ঢুকছে বাংলাদেশের বাজারে। এর বড় একটি অংশ রয়েছে অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের হাতে। তারা জানান, একটি মোবাইল সিম দিয়ে অপরাধ করে তা ফেলে দেয়া হলে অপরাধীকে খুঁজে পাওয়া যায় না। যে হ্যান্ডসেট দিয়ে অপরাধী সিম ব্যবহার করে তা তারা ফেলে দেয় না। ওই হ্যান্ডসেটে অন্য সিম ব্যবহার করে। কিন্তু প্রতিটি হ্যান্ডসেটেরই রয়েছে ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ইক্যুপমেন্ট আইডেনটিটি (আইএমইআই) নম্বর। এটা হলো ১৫ ডিজিটের একটি স্বতন্ত্র সংখ্যা যা বৈধ মোবাইল ফোনে থাকে। একটি মোবাইল ফোনের কি-প্যাডে *#০৬# পরপর চাপলে ওই মোবাইল ফোনের বিশেষ এই শনাক্তকরণ নম্বরটি পর্দায় ভেসে উঠে। নকল হ্যান্ডসেটে ওই নম্বর থাকে না। তাই নির্বিঘ্নে অপরাধীরা নকল হ্যান্ডসেট ব্যবহার করছেন। বিষয়টি নিয়ে প্রতিনিয়ত গলদঘর্ম হতে হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: