সর্বশেষ আপডেট : ১১ মিনিট ৫৪ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সুরমা ও কংস নদীর পানি বইছে বিপদসীমার ৮০ সে.মি. ওপর দিয়ে

daily sylhet surma nodi newsধর্মপাশা প্রতিনিধি::
পাহাড়ি ঢল, শিলা ও টানা বর্ষনে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা ও মধ্যনগর, তাহিরপুর, দিরাই, বিশ্বম্ভরপুর, শাল্লা, জামালগঞ্জ, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ, দোয়ারাবাজার-সহ প্রায় ১১টি উপজেলায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে সুনামগঞ্জ ১ আসনের এমপি ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন ধর্মপাশা, মধ্যনগর, তাহিরপুর, জামালগঞ্জের বিভিন্ন হাওর পরিদর্শন করেন।

হাওর পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের উপর কারও হাত নেই, আল্লাহুর রহমতে কৃষকদের সহযোগীতা করার জন্য বঙবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমার নির্বাচনী এলাকার সমস্যাগুলো তুলে ধরব। প্রধানমন্ত্রী কৃষকদের সহযোগীতা করবেন বলে আশা করি।

এ দিকে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি এবং উজান থেকে নেমে আসা ঢলে বিভিন্ন স্থানে বোর ফসল পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে নষ্ট হয়েছে। সুরমা ও কংস নদীর পানি বিপদসীমার ৮০ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলার সিমান্ত নদীগুলোতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে। এ নিয়ে দুশ্চিতায় রয়েছেন কৃষকরা।

জেলার ১১টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ঢলের পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ বিঘœ ঘটছে বলে জানা গেছে। সুনমগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, পাহাড়ি ঢল, উজান থেকে নেমে আসা এবং টানা বর্ষণে ও আকস্মিক বন্যায় কৃষকের পাকা ধান ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

ধর্মপাশা বঙবন্ধু মহিলা কল্যাণের সভানেত্রী ইয়াসমিন আক্তার জানান, আমাদের উপজেলার প্রায় ৫০টি হাওরের পাকা ধান পানিতে ডুবে গেছে। মধ্যনগর ইউনিয়নের যুবলীগ নেতা বিদুৎ কান্তি সরকার বলেন, আমরা মধনগরবাসী নিচু জায়গায় বাস করি। জমিগুলো একে বারে নিচু এলাকায়। একবার ধানের ক্ষতি করলো শিলে, এরপর হঠাৎ পানি এসে তলিয় নিল কৃষকের পাকা ধান। তিনি জানান, বোরো ধান চাষ করতে বেশ কিছু টাকা খরচ হয়েছে কিন্তু হঠাৎ পাহাড়ি ঢল ও বর্ষণে কারণে কৃষকের জমি তলিয়ে গেছে এতে আমরা কৃষকরা বিপাকে। এসব এলাকার নি¤œাঞ্চলে পানি ঢুকে পড়ে বিভিন্ন এলাকার ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাটে পানি প্রবেশের খবর পাওয়া গেছে।

তাহিরপুরে কৃষক এরশাদ জানান, হাওর পাড়ের বাসিন্দা আমরা হাওরপাড়ে থাকি শিলা ঢলে নিল আমাদের নয়ন মনি। এ ছাড়া যোগাযোগ বিচিন্ন হয়েছে। উপজেলার গ্রামীণ রাস্তা-ঘাট , কাঁচা ঘরবাড়ি, বোর ফসলের ক্ষতি হয়েছে।

জামালগঞ্জ উপজেলার আবু কাশেম বলেন, হালির হাওর সহ উপজেলার প্রায় সব কয়টি হাওরে শিলা বৃষ্টি ও বন্যায় ক্ষতি হয়েছে পানির নিচে ধান তলিয়ে গেছে। দিরাই উপজেলার আবু ফজল কৃষক বলেন, আমাদের এক ফসলী এলাকা বোর বা বৈশাখী ফসল বলে থাকি, হঠাৎ বাঁধ ভেঙে হাওরগুলো তলিয়ে গেছে। পাউবো’র দু:নীতি করেছে বলে জানান।

তাহিরপুর উপজেলার আজগর আলী বলেন, পাউবো’র কারণে বাঁধ ভেঙে ফসলী জমি থলিয়ে গেছে। কৃষক রমিজ আলী জানান, তিন দিন আগে দিন মুজুররা ২ শত ৫০ টাকায় পাওয়া যেত হঠাৎ পানি আসায় মুজুরী হয়ে গেছে ৮শত টাকা। কৃষকের মাথায় হাত ওই দিকে শুশিকের জিন্দাবাদ।

ধর্মপাশা জয়নাল আবেদীন জানান, পানি খেত ডুবে গেছে খেতের তীরে বসে কাঁদি আর শ্রমিকরা হাঁসে। বিপদ আসলে কৃষকের চোখের জল আর শ্রমিকের হাসি এ কি রীতি। সাধারন কৃষকারা দাবী জানান পাউবো’র বাঁধ নিয়ে দু:নীতি করার কারণে ফসলী জমি তলিয়ে গেছে আবার অনেকেই মনে করেন পলি মাটি বা বালু দিয়ে কম খরচে বাঁধ নির্মঠু করায় সাধারন বৃষ্টিতে বাঁধ ভেঙে গেছে। ধর্মপাশা উপজেলার জয়শ্রী উইনিয়নের দিন মুজুর আফজল হোসেন (৩৪) বলেন, পানি আসলে আমাদের লাভ, এক হয় আধি কাটা, নতুবা হাজার টাকার দিন মুজুরী। আমাদের ভাল লাভ হয় পানি আসলে প্রতিদিন ৮শত থেকে হাজার টাকা রোজগার করতে পারি।

ধর্মপাশা উপজেলা যুবলীগের যুগ্ন আহবায়ক বলেন, আওয়ামীলীগের সরকার উন্নয়নের রাজনীতি করে, কৃষকের কষ্ট আর চোখের জল জননেত্রী শেখ হাসিনা অবশ্যই দেখবেন তিনি কৃষকের পাশে আছেন থাকবেন।

কৃষি অধিদপ্তর অফিস সুত্রে জানাযায়, পাহাড়ী ঢল, শিলা বৃষ্টি ও বাঁধ ভেঙে পানি আসার কারণে বোর জমি পানিতে তলিয়ে গেছে।
এদিকে সুরমা, কংস, মনাই, সুমেশ্বরী নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: