সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
শুক্রবার, ২ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ভূমিকম্পের পূর্বাভাস সম্ভব! গবেষণায় বাংলাদেশও

42নিউজ ডেস্ক :: ভূমিকম্পের পূর্বাভাস পাওয়া যাবে এমন সম্ভাবনা নিয়ে যেসব গবেষণা চলছে তার সঙ্গে রয়েছে বাংলাদেশ। এশিয়া প্যাসিফিক স্পেস কো-অপারেশেনের (অ্যাপসকো) সক্রিয় সদস্য হিসেবে গবেষণার প্রতিটি অগ্রগতির ওপর নজর রাখছে বাংলাদেশের আবহাওয়া দফতর।

দফতরের আবহাওয়াবিদ মোমিনুল ইসলাম ভূমিকম্পের দিকটি দেখছেন।ওই আন্তর্জাতিক সংস্থার ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে তিনি এরই মধ্যে এ সংক্রান্ত কর্মশালা, প্রশিক্ষণ ও পর্যালোচনা সভাগুলোতে অংশ নিয়েছেন। বিশেষ করে আয়নোস্ফেরিক গবেষণা থেকে যে অগ্রগতিগুলো হচ্ছে তাতে গবেষক-বিজ্ঞানীরা দেখতে পাচ্ছেন ভূমিকম্পের আগে আয়নমণ্ডলে কিছু পরিবর্তন দেখা যায়, যা থেকে অনুমান করা যেতে পারে ভূমিকম্প আসছে।
তবে, এখনি জোর দিয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না, বিষয়টি এখনো গবেষণা পর্যায়ে রয়েছে। বড় বড় ভূমিকম্প যেগুলো হচ্ছে সেগুলোর ক্ষেত্রে আয়নমণ্ডলে পূর্বাপর অবস্থার ওপর গবেষণা করা হচ্ছে। সুনির্দিষ্ট করে বলা না গেলেও, ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দেওয়া যাবে এমন একটা আশার আলো বিজ্ঞানীরা দেখতে পাচ্ছেন, বললেন মোমিনুল ইসলাম।

অ্যাপসকো জানাচ্ছে, গ্লোবাল নেভিগেশন স্যাটেলাইট সিস্টেম (জিএনএসএস) এর অগ্রগতির কারণেই এই সম্ভাবনার দ্বারটি উন্মোচিত হয়েছে। এই স্যাটেলাইটের সহযোগিতায় গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম বা জিপিএস বসিয়ে আয়নমণ্ডলে মোট ইলেক্ট্রনের পরিমাপ (টিইসি) করা যায়। আর এই ইলেক্ট্রনের অস্বাভাবিকতা থেকে আন্দাজ করা যায় ভূমিকম্প আসছে।
গবেষণা আরও পাকাপোক্তভাবে শেষ হলে ভূমিকম্পের অন্তত ৭২ ঘণ্টা আগেই তারা আভাস দেওয়া সম্ভব হবে, এই ধারণা অমূলক নয়, বলেন মোমিনুল ইসলাম।

গবেষকরা এরই মধ্যে দেখেছেন যেসব স্থানে ভূমিকম্প হচ্ছে, সেখানে অনেক আগে থেকেই আয়নমণ্ডলের সবচেয়ে নীচের স্তরে ইলেকট্রনের সংখ্যা অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে যায়। এই পরিবর্তন ভূ-কম্পনের কয়েকদিন আগে থেকেই লক্ষ্য করা যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বায়ুমণ্ডলের আয়ন স্তরে যে সব গ্যাস রয়েছে, সেগুলি আয়নীয় অবস্থায় থাকে, কারণ প্রচণ্ড তাপের কারণে অণুগুলি থেকে ইলেকট্রন ছিটকে বেরিয়ে যায়।

সূর্যরশ্মিতে যে অতিবেগুনি রশ্মি এবং অবলোহিত রশ্মি থাকে, তা আয়নোস্ফিয়ারের তাপ অনেকটা বাড়িয়ে দেয়। তার জেরেই গ্যাসের অণু থেকে ইলেকট্রন ছিটকে বেরিয়ে প্রচুর আয়ন তৈরি হয়। পাশাপাশি প্রচুর ইলেকট্রন সেখানে মুক্ত অবস্থায় ঘুরতে থাকে।

স্বাভাবিক অবস্থায় পৃথিবীর যে অংশে যখন দিন, সেই অংশের উপরের আয়নমণ্ডলে তখন মুক্ত ইলেকট্রনের সংখ্যা বেশি হয়। যে অংশে রাত, সেখানে মুক্ত ইলেকট্রনের সংখ্যা কম হয়। এছাড়াও আয়নমণ্ডলের উপরের অংশ বেশি তপ্ত হওয়ায় সেখানে মুক্ত ইলেকট্রন যে সংখ্যায় থাকে, তলার দিকের স্তরে তার চেয়ে ওই সংখ্যা অনেক কম থাকে।

এই তলার স্তরেই যখন বেশি ইলেক্ট্রন ধরা পরে তখন বিজ্ঞানীরা এর কারণ বোঝার চেষ্টা করেন। আর অনেকাংশেই নিশ্চিত হয়ে যান ভূগর্ভে এমন কিছু হচ্ছে যার ফলে এই অস্বাভাবিক ইলেক্ট্রন।

কারণ তারা আগে থেকেই জানেন ভূগর্ভ থেকে নির্গত র‌্যাডন গ্যাসের কারণে এটা হয়।

এই র‌্যাডন গ্যাস আসলে ভূগর্ভের বিভিন্ন খাঁজে জমে থাকে। টেকটনিক প্লেট নড়াচড়া করলে ওই গ্যাস বাইরে বেরিয়ে আসে। আর সোজা আয়নোস্ফিয়ারে পৌঁছে তার নিজের স্তরে অবস্থান নেই। ওই গ্যাসের অণু থেকে ইলেকট্রন মুক্ত হতে থাকে আর তা মুক্ত ইলেকট্রনের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে তোলে।

আয়নোস্ফিয়ারের যে অংশে এই অস্বাভাবিকতা দেখা যায়, সেই অংশের নীচে পৃথিবীর কোন দেশ রয়েছে তা চিহ্নিত করেন বিজ্ঞানীরা। সেই দেশে বা তার আশেপাশে অবস্থিত টেকটনিক প্লেটেই যে নড়াচড়া হচ্ছে, তা অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে যান তারা। এবং বলে দিতে পারেন, ভূমিকম্প আসছে।

মোমিনুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে শেষ কথা কিন্তু এখনো গবেষকরা বলতে পারেন নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে এই পথে ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব হবে।

জিপিএস বসিয়ে টোটাল ইলেক্ট্রন কাউন্ট (টিইসি)’র গবেষণাটি ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে বলে জানান তিনি। চীন এরই মধ্যে এমন ২০০ জিপিএস বসিয়েছে। পাকিস্তানেও তিনটি জিপিএস বসানো হয়েছে। এছাড়া পেরু ও মঙ্গোলিয়াতেও এমন সিস্টেম বসেছে। তবে এগুলো পুরোই গবেষণার অংশ।

বাংলাদেশে এখনো এমন কোনও জিপিএস বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, ভূমিকম্প মনিটরিংয়ে ব্রডব্যান্ড সিস্টেম আরও বাড়ানোর উদ্যোগ রয়েছে। এরই মধ্যে দেশের ঢাকা চট্টগ্রাম, সিলেট ও রংপুরে এই সিস্টেম বসানো হয়েছে যা আরও অন্তত ছয়টি অঞ্চলে বসানো হবে।

তবে এই প্রক্রিয়ায় কেবল ভুমিকম্পের সময়ে এর কম্পনের মাত্রা, কেন্দ্রস্থল পরিমাপ করা সম্ভব। পূর্বাভাস সম্ভব নয়।
মোমিনুল বলেন, ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দেওয়ার জন্য জিপিএস বসিয়ে ইলেক্ট্রনের পরিমাপ করার উদ্যোগ এখনও নেওয়া হয়নি। তবে অ্যাপসকোর সক্রিয় সদস্য হিসেবে এই গবেষণার সঙ্গে বাংলাদেশ রয়েছে। এসব গবেষণা থেকে কোনও ফল এলে তার সুবিধা ও সেবা বাংলাদেশও নিতে পারবে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: