সর্বশেষ আপডেট : ৩৩ মিনিট ৩৭ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ১৮ অগাস্ট, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৩ ভাদ্র ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বিশ্বনাথে সমালোচনার মুখে আ’লীগ-বিএনপির প্রার্থীরা, সুবিধাজনক অবস্থানে স্বতন্ত্র-বিদ্রোহীরা

daily sylhet UP nirbachon newsএমদাদুর রহমান মিলাদ::
আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে বিশ্বনাথ উপজেলার সর্বত্র বইছে নির্বাচনী হাওয়া। প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হওয়ায় এবারের নির্বাচন যতোটা উৎসব মুখর হওয়ার কথা ছিলো, দিন-ক্ষণ ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে নানা আশংকায় ভূগছেন সাধারণ ভোটার ও তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। রাত-দিন উপেক্ষা করে ভেটারদের মন জয় করতে বিরামহীন প্রচারণা চালালেও দলীয় প্রার্থী নির্বাচনে বিতর্ক থাকায় অনেকটা সমালোচনার মুখে বিব্রতকর অবস্থায় রয়েছেন স্থানীয় আ’লীগ-বিএনপির দলীয় প্রার্থী ও নেতারা। এতে করে সুবিধাজনক অবস্থানে থেকে বিরামহীন প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন উভয় দলের বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।

এদিকে, নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা ভোট চাইতে ইলিয়াস ‘নিখোঁজ’ ইস্যুকে সামনে রেখে ভোটারদের আকৃষ্ট করতে প্রাণপন চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছেন।
আ’লীগ, বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে প্রার্থী নির্বাচনের অভিযোগ তুলছেন দলীয় অনেক নেতাকর্মীরা। তারা বলছেন, কোন দিন দলীয় কর্মকান্ডে অংশ না নিলেও টাকার জোরে উড়ে এসে জুড়ে বসেছেন আ’লীগ, বিএনপির একাধিক প্রার্থী। অভিযোগ রয়েছে তৃণমূলের মতামত উপেক্ষা করে স্থানীয় সিনিয়র নেতারা মোটা অংকের টাকা নিয়ে জন-বিচ্ছিন্ন ও বিভিন্ন কারণে বিতর্কিত প্রার্থীদের মনোনয়ন দিয়েছেন। এতে বঞ্চিত হয়েছেন দীর্ঘদিনের রাজপথের পরীক্ষিত ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতারা। মনোনয়ন বঞ্চিত নেতাদের কর্মী সমর্থকদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ আর অসন্তুষ বিরাজ করছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে অনেক প্রার্থীকে নিয়ে উঠেছে বিতর্কের ঝড়। ইলিয়াস আলীর অনুপস্থিতে বিএনপির দূর্বল নেতৃত্বের কারণে সুবিধাভোগী একটি মহল তৃণমূলের মতামতকে উপেক্ষা করে একাধিক ইউনিয়নে জন-বিচ্ছিন্ন ও আওয়ামী ঘরাণার প্রার্থীকে কৌশলে দলীয় মনোনয়ন প্রদান করার অভিযোগ রয়েছে। যার ফলে নির্বাচনী মাঠে ইলিয়াসপতœী তাহসিনা রুশদীর লুনাও নানা প্রশ্নের সম্মুখিন হচ্ছেন।

এসব বিতর্কের ফলে নির্বাচনী মাঠে অনেকটা হিমশিম খাচ্ছেন উভয় দলের মনোনীত প্রার্থীরা। এদিক থেকে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। তাদের কারো ব্যক্তি ইমেজ, পারিবারিক ঐতিহ্য এবং নিজ নিজ ইউনিয়নে ব্যাপক পরিচিতি ও দীর্ঘদিন দলীয় রাজনীতির অগ্রভাগে থেকে নেতৃত্ব দেয়ার পাশাপাশি সামাজিক কর্মকান্ডে জড়িত থাকায় নির্বাচনী মাঠে সহজেই সাধারণ মানুষের আস্তা অর্জন করতে সক্ষম হচ্ছেন।

এই নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা ভোট চাইতে ইলিয়াস নিখোঁজের ইস্যুকে সামনে রেখে ভোটারদের আকৃষ্ট করতে প্রাণপন চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়াও ইলিয়াসপতœী তাহসিনা রুশদীর লুনাও দলীয় প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করতে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। বিগত উপজেলা পরিষদ ও ইউপি নির্বাচনে সবক’টি ইউনিয়ন ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান-ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিএনপি প্রার্থীরা নির্বাচিত হন। এতে বিএনপির ঘাটি হিসেবে পরিচিতি পায় বিশ্বনাথ উপজেলা। ইলিয়াস আলীর অনুপস্থিতিতেও এ বিজয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চান বিএনপি কর্মীরা। কিন্তু ইলিয়াস নিখোঁজের পর স্থানীয় বিএনপিতে দেখা দেয় দ্বিদা বিভক্তি। এই দ্বন্দের জের ধরে একাধিকবার হামলা, সংঘর্ষ ও মামলার ঘটনা ঘটেছে। ফলে সাংগঠনিকভাবে দূর্বল হয়ে পড়ে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন। এ সুযোগে রাজপথের দখল নেয় ক্ষমতাসীনদল আওয়ামীলীগ। এবারের ইউপি নির্বাচনেও বিএনপির দলীয় প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ইলিয়াস আলীর নিজ ইউনিয়ন অলংকারী ও রামপাশা ইউনিয়নে বিএনপির বিদ্রোহী দুই প্রার্থী স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। বিএনপি নেতাকর্মীরা মনে করেন ইলিয়াস নিখোঁজের পর যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে বিএনপিতে প্রকাশ্যে কোন্দল সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপির রাজপথের পরীক্ষিত কর্মীদের মনোনয়ন না দিয়ে দুই ইউনিয়নে জন-বিচ্ছিন্ন দুই প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়ায় স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। এসকল নেতাকর্মীও সমর্থকরা ত্যাগী নেতা হিসেবে বিদ্রোহীদের পক্ষেই নিরলসভাবে মাঠে কাজ করছেন।

এদিকে আ’লীগ-বিএনপি সাধারণ ভোটারদের চাহিদার বিপরীতে কতিপয় বিতর্কিত প্রার্থীদের দলীয় মনোনয়ন দেয়ায় নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে শংক্ষিত রয়েছেন অনেকেই। আবার সরকারী দলের প্রার্থীরা মনোনয়ন দাখিলের দিন থেকে শুরু করে প্রকাশ্যে একের পর এক নির্বাচনী আচরণ বিধি লংঘন করলেও কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে জনমনে।

সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে সাধারণ ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তাদের কাছে স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের চেয়ে উপযুক্ত প্রার্থী নির্বাচিত করা অত্যাধিক গুরুত্বপূর্ণ। তাই জনগনের কাছের মানুষ হিসেবে পরিচিত, সৎ ও যোগ্য, সুখ-দুঃখের সাথী ছিলেন- এমন প্রার্থীকেই নির্বাচিত করতে চান তারা। তাছাড়া উভয় দলের তৃণমূলের অনেক কর্মী সমর্থকরা প্রকাশ্যে দলীয় প্রার্থীদের বিরোধীতা না করলেও ভেতরে ভেতরে বিদ্রোহী প্রার্থীদের নানাভাবে উৎসাহ, সহযোগিতা ও সমর্থন যোগান দিয়ে চলেছেন নিরন্তর।

জানা গেছে, আগামী ৭ই মে অনুষ্ঠিতব্য উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৪১জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। বাছাই ও প্রত্যাহার শেষে ৩৩জন প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্ধ দেওয়া হয়।

চেয়ারম্যান পদে যারা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন- ‘লামাকাজী ইউনিয়নে’ বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান কবির হোসেন ধলা মিয়া (ধানের শীষ), আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ডাঃ শাহনুর হোসাইন (নৌকা), জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী এ কে এম দুলাল (লাঙ্গল), স্বতন্ত্র প্রার্থী জামায়াত নেতা মঈন উদ্দিন (আনারস) প্রতিক পেয়েছেন। ‘খাজাঞ্চী ইউনিয়নে’ স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান জামায়াত নেতা নিজাম উদ্দিন সিদ্দিকী (চশমা),আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী শংকর চন্দ্র ধর (নৌকা), বিএনপির মনোনীত প্রার্থী তালুকদার গিয়াস উদ্দিন (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী রুবেল আহমদ আফজল (লাঙ্গল), স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা পীর লিয়াকত হোসেন (আনারাস), শিব্বির আহমদ (টেবিল ফ্যান), আবদুস ছত্তার (মোটর সাইকেল) প্রতিক পেয়েছেন। ‘অলংকারী ইউনিয়নে’ আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী রফিক মিয়া (নৌকা), বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আবদুল হক (ধানের শীষ) জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী ছালেহ আহমদ তোতা (লাঙ্গল), স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা নাজমুল ইসলাম রুহেল (চশমা) প্রতিক পেয়েছেন। ‘রামাপাশা ইউনিয়নে’ আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলমগীর (নৌকা), বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জয়নাল আবেদীন (ধানের শীষ, স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা আজিজুর রহমান (আনারস), বিএনপি নেতা বশির আহমদ (চশমা) প্রতিক পেয়েছেন। ‘বিশ্বনাথ সদর ইউনিয়নে’ বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন (ধানের শীষ), আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী আবদুল জলিল জালাল (নৌকা), স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা ছয়ফুল হক (আনারস), খেলাফত মজলিস নেতা মাওলানা আবদুল মতিন (চশমা) প্রতিক পেয়েছেন। ‘দৌলতপুর ইউনিয়নে’ আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী আমির আলী (নৌকা), বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আরব খান (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী সাইদুর রহমান (লাঙ্গল), স্বতন্ত্র আওয়ামী লীগ নেতা আছাব উদ্দিন (আনারস), জামায়াত নেতা বাবুল মিয়া (চশমা), কবি খালেদ মিয়া (রজনীগন্ধা) প্রতিক পেয়েছেন। ‘দেওকলস ইউনিয়নে’ আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী আবুল কালাম জুয়েল (নৌকা), বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আলাল আহমদ (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী সহল আল রাজী (লাঙ্গল), স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা ফখরুল আহমদ মতছিন (আনারস প্রতিক) প্রতিক পেয়েছেন।

Biswanath-Pic-19.04.16

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: