সর্বশেষ আপডেট : ২ মিনিট ২২ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

শাহ আমানত দিয়ে অবৈধভাবে বিদেশযাত্রা

22নিউজ ডেস্ক ::
চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এ বিমানবন্দর দিয়েই ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করে অবৈধভাবে বিদেশ যাচ্ছে মানুষ। কর্মী হওয়া সত্ত্বেও প্রতিদিন অন্তত ১০ জন যাত্রী ভিজিট ভিসা নিয়ে ইমিগ্রেশন অতিক্রম করছে। নিয়ম বহির্ভূতভাবে উচ্চ অভিবাসন ব্যয়ে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো কর্মী পাঠাচ্ছে হরহামেশায়। অনেকে স্মার্টকার্ড ছাড়াই এক দেশের নাম করে অন্য দেশে কর্মী পাঠাচ্ছে। আবার কারও কারও ক্ষেত্রে পাওয়া যাচ্ছে না বিস্তারিত কোনো তথ্য। এমনকি ওই কর্মী কোন দেশে গেছেন তারও উল্লেখ নেই। অন্যদিকে এই বিমানবন্দর দিয়ে বিদেশ যাওয়া কর্মীদের কাছ থেকে ফিঙ্গার প্রিন্ট বা রেজিস্ট্রেশন বাবদ অতিরিক্ত টাকা নেয়ারও অভিযোগ রয়েছে। যার অধিকাংশই লেনদেন হয়েছে রসিদ ছাড়া। অনেক ট্রাভেল এজেন্সি বিভিন্ন কৌশলে অবৈধভাবে বিদেশে কর্মী পাঠাচ্ছে। মহিলা কর্মীদের প্রাক-ব্রিফিং না করেই বিএমইটির ছাড়পত্র দেয়া হচ্ছে। গত ২০ এবং ২১শে ফেব্রুয়ারি বিমানবন্দরটিতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ভিজিলেন্স টাস্কফোর্সের অভিযানে এসব অনিয়ম ধরা পড়ে। অভিযান পরিচালনা করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (মনিটরিং) মো. মোশাররফ হোসেন, উপসচিব (এনফোর্সমেন্ট) খলিল আহমেদ, বিমানবন্দরের এনএসআইয়ের সহকারী পরিচালক সফিকুর রহমান, ইমিগ্রেশন শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী এনায়েত কবির এবং প্রবাসীকল্যাণ ডেস্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং শিফট ইনচার্জ মো. নুরুল আবছার। এছাড়া অভিযান পরিচালনাকালে প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বেগম আনারকলি, মো. জহিরুল ইসলাম এবং মো. মোশাররফ হোসেন শিকদার সঙ্গে ছিলেন। এই অভিযান শেষে গত ৬ই মার্চ একটি উপসচিব (এনফোর্সমেন্ট) ও ভিজিলেন্স টাস্কফোর্সের সদস্য সচিব একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। এতে বিমানবন্দরে বিদেশ গমনেচ্ছু কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে যেসব অনিয়ম পান তা তুলে ধরেন। ওইসব অনিয়মের আলোকে বেশ কিছু সুপারিশও করা হয় প্রতিবেদনে।

শাহ আমানত বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশ বিমান, ওমান এয়ার, এয়ার এরাবিয়ান, ফ্লাই দুবাই এবং মালিন্দা এয়ার নামে ৫টি বিমান সংস্থা ফ্লাইট পরিচালনা করে। এসব ফ্লাইটের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে নারী ও পুরুষ কর্মীরা যাচ্ছে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, এই বিমানবন্দর দিয়ে ২০১৪ সালে ৩৭ হাজার ১৫১ জন, ২০১৫ সালে ৪৯ হাজার ৪১৯ জন এবং এ বছরের ২১শে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৯ হাজার ৩৭৭ জন কর্মী বিদেশ গেছে। এই হিসেবে প্রতিবছর ১০-১৫ শতাংশ নতুন কর্মী শাহ আমানত বিমানবন্দর হয়ে বিদেশ যাচ্ছে। নারীকর্মীরা প্রাক ব্রিফিংয়ে অংশগ্রহণ না করেই বিএমইইট’র ছাড়পত্র নিয়ে সৌদি আরব যাচ্ছে বলে ভিজিলেন্স টাস্কফোর্সের অভিযানে ধরা পড়েছে। টাস্কফোর্স এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিদেশ গমন ঠেকাতে অভিযানের হার বৃদ্ধিরও সুপারিশ করে। অভিযান পরিচালনাকারীদের কাছে বিমানবন্দরের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের দেয়া তথ্যমতে প্রতিদিন অন্তত: ১০ জন যাত্রী কর্মী হওয়া সত্ত্বেও ভিজিট ভিসা নিয়ে বিদেশ যাচ্ছেন।

গত ২০ ও ২১শে ফেব্রুয়ারি এই বিমানবন্দর দিয়ে ৫ জন যাত্রীর বিদেশ গমনের প্রাক্কালে যাত্রাবিরতি করা হয়। এরা ভিজিট ভিসায় বিদেশ যাচ্ছিলেন। এরমধ্যে বরিশালের বাবুবাজার এলাকার নূর ইসলাম। তিনি বেকার, স্বল্প শিক্ষিত এবং আয়কর প্রদানকারী না হওয়া সত্ত্বেও এক্সপ্রেস ভিসায় প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হিসেবে ওমান যাচ্ছিলেন। চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার সুইপুর গ্রামের মোহাম্মদ সাবের আহমেদ স্বীকার করেন তিনি ভিজিট ভিসা নিয়ে দুবাই যাচ্ছিলেন এবং কাজের ভিসা পেলে সেখানে থেকে যাবেন। ভিজিট ভিসায় শারজায় ভাইয়ের দোকানে কাজ করতে যওয়ার কথা স্বীকার করেন একই উপজেলার তুলাতুলী গ্রামের মোহাম্মদ শাহেদুল আলম। তার ভিসায় কোনো পেশার কথা উল্লেখ ছিল না। ভিজিট ভিসায় কাজের উদ্দেশে যাওয়ার কথা বলেন সাতকানিয়ার দক্ষিণ চরাতি গ্রামের মোহাম্মদ আমানত উল্লাহ। একই উপজেলার উত্তর কাষ্ণন গ্রামের আবছার আলীকে ভিজিট ভিসায় সংযুক্ত আবর আমিরাত গমনের প্রাক্কালে যাত্রাবিরতি করানো হয়। তার ভিসায় পেশা হিসেবে কর্মীর কথা উল্লেখ ছিল। এই ৫ যাত্রীর কারোর কাছেই বিএমইটির নির্ধারিত স্মার্ট কার্ড ছিল না। ২১শে ফেব্রুয়ারী ১৯ জন কর্মী কর্মীর জিজ্ঞাসাবাদে কিছু এজেন্সির বিরুদ্ধে মাত্রারিক্ত টাকা নেয়ার অভিযোগ পায় অভিযান পরিচালনাকারী দল। যাদের অনেকের কাছ থেকে ৬ লাখের বেশি টাকা নিয়েছে এজেন্সিগুলো। ঢাকার মেসার্স দি উইনার নামে একটি এজেন্সি কাতার গমনকারী ফরিদুল আলমের কাছ থেকে নিয়েছে ৬ লাখ ২০ হাজার টাকা। মেসার্স টেরেড ইন্টারন্যাশনাল একই দেশে গমনকারী হেলাল উদ্দিনের কাছ থেকে নিয়ে ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা। আবার এই এজেন্সিই হেলাল উদ্দিন নামে আরেক ব্যক্তির কাছ থেকে একই দেশে পাঠানোর উদ্দেশ্যে নিয়েছে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা। বিপ্লব ওভারসীজ আবদুল আজিজ নামের একজনের কাছ থেকে নিয়েছে ৫ লাখ ৬০ হাজার।

ভিজিলেন্স টাস্কফোর্স কাতারসহ বিভিন্ন দেশের এই উচ্চ অভিবাসন ব্যয়ের কারণ অনুসন্ধানের সুপারিশ করে। গত বছরের ১৪ই জানুয়ারি ইরাকের বাংলাদেশী দূতাবাসের পাঠানো এক চিঠিতে বলা হয়, এই শাহ আমানত বিমানবন্দর দিয়ে ইরাক গমনকারী বেশ কয়েকজন অভিযোগ করেছেন তাদের ৪ থেকে সাড়ে ৪ লাখ টাকার বিনিময়ে ফকিরাপুলের গিয়াস উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি বিমানবন্দরে কনট্রাক্ট করে ম্যানপাওয়ার ছাড়াই বিদেশে পাঠিয়েছে। অভিযোগকারীরা আবেদনে জানান, ইরাকে বাংলাদেশী ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীরের ৫০০ গ্রুপের ভিসায় গিয়াস উদ্দিন ফকিরাপুলের এক অফিসের মাধ্যমে তাদের ইরাকে নিয়ে আসে। কিন্তু অভিযোগকারী এই ৭ ব্যক্তির তথ্য অনুসন্ধানে ৬ জনের ক্ষেত্রে জানা যায় তারা কেউ-ই ইরাকে যাননি। ভিজিট ভিসা নিয়ে গিয়েছেন ওমানে। আর বাকি একজন কোন দেশে গেছেন তার কোনো ঠিকানাই নেই। ভিজিলেন্স টাস্কফোর্সের অভিযানে দেখা গেছে, চট্টগ্রামের জেলা জনশক্তি ও কর্মসংস্থান অফিস ফিঙ্গার প্রিন্ট/রেজিস্ট্রেশন বাবদ অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তারা রসিদ দিচ্ছে না। টাস্কফোর্স সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদে ২১ জন কর্মীর ১৬ জনই জানিয়েছে তাদের কোনো রসিদ দেয়া হয়নি। অভিযান পরিচালনা কমিটি তাদের প্রতিবেদনে বিদেশে কর্মী পাঠানোর অবৈধ কার্যকলাপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি এজেন্সির নামও তুলে ধরেন। এগুলো হলো টেরাড ইনফরমেশন লিমিটেড, টিপিএস ৩৬০ বাংলাদেশ, বিপ্লব ওভারসিজ, ইজতেমা ইন্টারন্যাশনাল। এ ব্যাপারে ভিজিলেন্স টাস্কফোর্সের সদস্য সচিব ও উপসচিব (এনফোর্সমেন্ট) খলিল আহমেদ বলেন, অভিযানে যে ত্রুটিগুলো ধরা পড়েছে এবং যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে সংশ্লিষ্ট সকলকে চিঠি দেয়া হয়েছে। খুব তাড়াতাড়িই এ ব্যাপারে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেয়া যাবে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: