সর্বশেষ আপডেট : ৪০ মিনিট ৩৩ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

পর্ন বিদায়ে তারানাকে অভিবাদন

hh

পীর হাবিবুর রহমান::
ডাক তার ও টেলি যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমকে অভিবাদন। বাংলাদেশের সব পর্ন সাইট বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। সোমবার দুপুরে নিজের ফেসবুক পেজে এম এ আমিন খানের বক্তব্যের জবাবে এ ঘোষণা দেন। আমিন খান মন্তব্য করেছিলেন, ‘আপা পর্নগ্রাফি সাইটগুলো বন্ধ করে দেন। এ বিষয়ে আপনারা আইন করেছেন। এখন এসব সাইটগুলো বন্ধ করাটা খুব জরুরি। যুব সমাজকে পর্নগ্রাফির ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে তাদের কাছে তথ্য-প্রযুক্তির সুফল পৌঁছাবে না।’

আমিনের মন্তব্যের জবাবে তারানা হালিম লিখেন, ‘আমরা এই সপ্তাহের মধ্যে সকল পর্নগ্রাফি সাইট বন্ধ করে দেব। খুশি হয়ে জবাবে আমিন প্রতিমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, আপনার জন্য দশ রাকাত নফল নামাজ মানত করলাম। আল্লাহ আপনাকে কাজ করার আরও সামর্থ্য দিক।, তারানা জানান, দেশে ইন্টারনেট গ্রাহকের সংখ্যা এখন ৬ কোটি ১২ লাখ ৮৮ হাজার। গত ফেব্রুয়ারিতে এটি ছিল ৫ কোটি ৮৩ লাখ আর জানুয়ারিতে ৫ কোটি ৬১ লাখ। শেখ হাসিনা সরকারকেও দেশে তথ্য প্রযুক্তি বিপ্লব ঘটানোর জন্য অভিনন্দন জানাতে হয়।

কয়েকদিন আগে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমের বক্তব্যের সমালোচনা করে স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম। স্ট্যাটাস পড়ে হয়তো তিনি ব্যথিত হয়েছেন। কিন্তু স্ট্যাটাসে আমার বক্তব্য অনুযায়ী পরদিন আদালত সিম নিবন্ধ প্রক্রিয়াকে বৈধতা দেয়ায় সেটি ফেসবুক পেজ থেকে মুছে ফেলি। সেটিতে লাইক পড়েছিল সহস্র জনের। কমেন্ট ও শেয়ার দিয়েছিলেন প্রায় ৫০০ জনের মত। সবাই যে তারানা হালিমের বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে এ স্ট্যাটাসে স্বতস্ফূর্ত অংশ নিয়েছিলেন তা নয়, সরকার বিরোধী রাজনৈতিক সমর্থকদের অংশগ্রহণ যে ছিল সেটি বুঝতে অসুবিধা হয়নি।

বাংলাদেশের একটি শ্বাসরুদ্ধকর সময়ে তারানা হালিম ও আমরা পায়ে পায়ে বেড়ে উঠেছি। লেখাপড়ার বাইরে যার যার ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছি। সড়ক দুর্ঘটনায় মিশুক মুনির ও তারেক মাসুদের করুণ মৃত্যুর পর প্রতিবাদী ভূমিকা নিতে গিয়ে তিনি যে বৈরি পরিবেশের মুখোমুখি হয়েছিলেন সেখানে তাকে অখুন্ঠ সমর্থন দিয়েছি। তারানা হালিমের সততা, সাহস আর যোগ্যতা নিয়ে আমার প্রশ্ন নেই । ফেসবুক বন্ধ করে খুলে দেয়ার পর ৭১ টিভির টক শো তে তিনি আমাদের আলোচনার সঙ্গে টেলিফোন করে যুক্ত হয়েছিলেন এবং দর্শকদের জন্য উপভোগ্য আলোচনা বিতর্কের সুযোগ করে দিয়েছিলেন। তারানা হালিমের কাছে খবরের বারান্দায় হেটে বেড়ানো একজন মানুষ হিসেবে আমর অনুরোধ দুটি ১. সমাজে অনেকে মনে করেন সৎ হলেই তাকে রুক্ষ মেজাজের হতে হবে। কেউ কেউ আরও মনে করেন তারা ভুল করতে পারেন না এবং সমালোচনার ঊর্ধ্বে। তাই আপনি যেকোনো প্রশ্ন বিতর্ক মোকাবেলায় মানুষকে সঙ্গে নিয়ে হাটতে বিনয়ী থাকবেন। ২. সমালোচনা সইবার এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে আত্নবিশ্লেষণের ক্ষমতা রাখবেন।

পর্নকে বিদায়ে সাহসী সিদ্ধান্তের জন্য তাকে আমি অভিনন্দন জানাচ্ছি। একটি সুস্থ সুন্দর, সৃজনশীল ,কোমল, মেধাবী, রোমান্টিক প্রযুক্তি নির্ভর মানবিক প্রজন্ম তৈরি করা সবার দায়িত্ব। আমাদের শৈশব কৈশোর ও তারুণ্যে খেলাধুলার জন্য দিগন্ত বিসৃত মাঠ। অবাধ্য দুপুরে সাঁতার কাটার জন্য পুকুর দীঘি ও নদী ছিল। কম্পিউটার ইন্টারনেট, ইউটিউব এসব শব্দের সঙ্গে পরিচিত ছিলাম না। সাদাকালো থেকে রঙ্গিন টেলিভিশনে সর্বোচ্চ ভিসিয়ারে ছবি দেখা ছিল সর্বোচ্চ পাওনা। পারিবারিক, সামাজিক ও ধর্মীয় অনুশাসন খড়গের মত মাথার উপর ঝুলত। প্রাপ্ত বয়সের পর বন্ধুদের তোষকের নিচ থেকে কুড়িয়ে পাওয়া চটি সাহিত্য সাময়িক উত্তেজনা ও কৌতূহল ছড়াতো। লুকিয়ে চাপিয়ে নীল ছবি দেখার সুযোগ থাকলেও হাতের মুঠোয় ছিল না। আজকের তথ্যপ্রযুক্তি খোলা দুনিয়ার পর্ন সাইটগুলো শৈশব পার হতে না হতে কোমলমতি সন্তানদের যৌন বিকৃতির পথে হাতছানি দিচ্ছে। এখন আর নীল ছবি দেখতে লুকোচুরি করে বন্ধুদের সঙ্গে নির্দিষ্ট সময়ে যেখানে সেখানে যেতে হয় না। যৌথ পরিবার ভাঙ্গার মধ্য দিয়ে তথ্য প্রযুক্তির খোলা দুনিয়া দরজা বন্ধ রুমে কিশোর থেকে অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে মেয়েদের হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছে সেইসব নীল ছবি। অভিভাবকরা জানেন সন্তান ইন্টারনেট গেটে লেখাপড়ায় মগ্ন। দরজা বন্ধ করে তাই কম্পিউটার নিয়ে বসেছে। কিন্তু লেখাপড়া থেকে পর্ন সাইটগুলো কোমল ও কৌতূহলী ছেলেমেয়েদের মনগুলোকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে নরনারীর যৌন সম্পর্কের ছবিই নয়, রগরগে চটি গল্প হাতের মুঠোয় তুলে দিচ্ছে। সুস্থ সুন্দর রোমান্টিক জগত থেকে বিকৃত যৌন কামনায় তাড়িত করছে অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলেমেয়েদের। সেখান থেকে হাত বাড়িয়ে সংগ্রহ করছে ইয়াবার মত মরণ-ঘাতক ড্রাগ। বই পড়ার আনন্দ থেকে সাহিত্য , সাংস্কৃতিক ও খেলাধুলার ময়দান থেকে এক অসুস্থ জগতে প্রবেশ করছে প্রজন্ম। আড্ডার আসরে শিল্প সাহিত্য রাজনীতির বদলে পর্ন সাইটের বিষয় আসয় উঠে আসছে।

প্রেমের ফাঁদে পড়ে ছেলেমেয়েরা ব্ল্যাক মেইলিংয়ের শিকার হচ্ছে। তাই নয়, এই পর্ন সাইটগুলো কোনো কোনো ক্ষেত্র কাঁচা টাকার মালিক মধ্য বয়সী নারী পুরুষদের ও যৌন বিকার গ্রস্থ করে তুলছে। ওইসব আড্ডার আসরেও একাটি ভালো সিনেমা দৃষ্টি নন্দন শিল্পকর্ম, বই বা রাজনীতির বদলে এইসব বিষয় রগরগে ভাষায় আলোচনা হচ্ছে কোথাও কোথাও। একদা যে ভাষা ছিল অশিক্ষিত বস্তীর বাসিন্দাদের খিস্তিখেউর সেটি উঠে আসছে রুচি ও শালীনতার নেকাব খুলে ফেলা তথাকথিত কোনো কোনো ভদ্রসমাজের আড্ডার আসরে। অফিসের সময় পেলেই ভারতীয় টিভি চ্যানেল সনি টিভিতে ক্রাইম পেট্রোল মুগ্ধ হয়ে দেখি। মূল্যবোধহীন সামাজিক অস্থিরতায় পতিত পারিবারিক ঘটনাবলি নিয়ে যে খুনের ঘটনা ঘটে তার নেপথ্যে ছোট্ট বয়সে পর্ন সাইট দেখার মধ্য দিয়ে যৌন বিকার গ্রস্ত হয়ে বেড়ে ওঠা সত্যতাও মিলে। পুলিশের ডায়েরি থেকে এক একটি হত্যাকাণ্ডও তার তদন্তে উঠে আসা বাস্তব সত্যের চিত্রায়ন হচ্ছে ক্রাইম পেট্রল। কয়েকদিন আগে একটি সিরিজে দেখানো হয়েছে কিভাবে একটি ছেলে কিশোর বয়স থেকে ল্যাপটপে পর্ন সাইট দেখতে দেখেতে বন্ধুদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে যৌন বিকারগ্রস্ত হয়ে বেড়ে উঠে। পরিবার যখন ছেলেটির জন্য পাত্রী চূড়ান্ত করে তখন সে ওই মেয়েটিকে ধর্ষণই করেনি নগ্ন ভিডিও করে বন্ধুদের দেখিয়ে বিকৃত আনন্দ কুড়িয়েছে। এই ঘটনা ঘিরে সে নিজেও খুন হয় আর তিনটি পরিবার সদস্যরা সংঘটিত অপরাধ হত্যাকাণ্ডে জড়িয়ে ফাঁসিসহ নানা দণ্ড ভোগ করে।

এভাবেই আমাদের প্রজন্ম পর্ন সাইটের অভিশাপে নানাভাবে অভিশপ্ত হচ্ছে। সময় উপযোগী পর্নকে বিদায় করার জন্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমকে অভিনন্দন জানাতেই হয়। আমি জানি এই লেখায় সমালোচনা করা স্ট্যাটাসের মত মতামত আসবে না। একজন পেশাদার সংবাদকর্মী হিসেবে ভালো করলে বা ভালো বললে অভিনন্দন জানাবো, প্রশংসা করবো, তেমনি খারাপ করলে বা খারাপ বললে সমালোচনার তীরে ক্ষতবিক্ষত করব। মাননীয় প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমকে অনুরোধ করব মোবাইল কোম্পানি গুলো চটকদার টিভি বিজ্ঞাপন বানিয়ে ব্যবসাই করছে না দুহাতে মুনাফা লুটছে। তাদের সঙ্গে আলোচনা করে দেশের স্বার্থে প্রজন্মকে ইয়াবার মত ড্রাগ থেকে রক্ষা করতে কিছু বিজ্ঞাপনচিত্র নির্মাণ করার জন্য। একটি ইয়াবা একটি জীবনই নয় একটি পরিবার একটি সমাজ একটি সাহসী জাতিকে কিভাবে সর্বনাশের পথে নিয়ে যাচ্ছে সেটি তুলে ধরে জনসচেতনতা বৃদ্ধিও গনপ্রতিরোধে বিজ্ঞাপন নির্মাণের তাগিদ দিতে।

লেখক: প্রধান সম্পাদক, পূর্বপশ্চিমবিডি ডটকম

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: