সর্বশেষ আপডেট : ১০ মিনিট ২ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বজ্রপাতে সিলেট বিভাগে তিন দিনে ১৪ জনের মৃত্যু

25.-boj1স্টাফ রিপোর্টার:: সিলেট বিভাগে বজ্রপাতে ১৪ জনের মৃত্যু স্টাফ রিপোর্টার সিলেট বিভাগের বিভিন্ন উপজেলায় গত তিনদিনে বজ্রপাতে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। ঘন ঘন এ বজ্রপাতে সাধারণ মানুষজনের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ এপ্রিল বজ্রপাতে হবিগঞ্জে মারা যান ৩ জন। তারা হচ্ছেন জেলার সদর উপজেলার কাকিয়ারাব্দা গ্রামে কৃষক আবিদ আলী, পশ্চিম বুল্লা গ্রামের যুবলীগ নেতা রমজান আলী ও ভাদিকারা গ্রামের শফিকুল ইসলাম। একইদিন মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার সদর ইউনিয়নের কেছরিগুল গ্রামের আপ্তাব আলীর পুত্র মোস্তাক আহমদ বজ্রপাতে মারা যান। গত ১৭ এপ্রিল সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার সদর ইউনিয়নের নোয়াবন গ্রামের চান্দু মিয়ার পুত্র শের আলী বজ্রপাতে মৃত্যু হয়।

১৮ এপ্রিল বিকেল ৩টার দিকে হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলা সদরের কামালখালী গ্রামের মগা মিয়ার পুত্র জুয়েল মিয়া বজ্রপাতে মারা গেছেন। একইদিন হবিগঞ্জে হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে ৩ জন মারা গেছেন। তারা হচ্ছে- জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার কালিয়ারভাঙ্গা গ্রামের আবদুল জলিলের পুত্র আবদুল আলীম, আজমল মিয়ার পুত্র ওলি আহমদ এবং বানিয়াচং উপজেলার কামালকানির ওয়াদুদ মিয়ার পুত্র জুয়েল মিয়া বজ্রপাতে মৃত্যু হয়। সর্বশেষ গত ১৮ এপ্রিল বিকেলে বজ্রপাতে সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় দুই স্কুলছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। মৃত দুই স্কুলছাত্রী জৈন্তাপুর উপজেলার লক্ষীপ্রসাদ ইউনিয়নের লক্ষীপ্রসাদ গ্রামের লক্ষীপ্রসাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী ছিল। তারা হচ্ছে- ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী ডলি মালাকার (১০) এবং ২য় শ্রেণীর ছাত্রী ঈশিতা রহমান তারিন (৭)। ডলি পতন মালাকারের মেয়ে এবং ঈশিতা আবদুর রহমানের মেয়ে।

একইদিন সকাল ৮টার দিকে সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার বিভিন্ন হাওরে ধানকাটার সময় বজ্রপাতে আহত হয়ে ৩ যুবক মারা যান। তারা হচ্ছেন- উপজেলার বাহাড়া ইউনিয়নের বাবর আলীর পুত্র রফিকুল ইসলাম (৩০), আটগাও ইউনিয়নের উজান ইয়ারাবাদ গ্রামের জহির আলীর পুত্র রুবেল (২৫) ও শষাকান্দা গ্রামের সিরাজ মিয়ার পুত্র কামাল হোসেন (২৮)। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে দুটি মৌসুমে বজ্রপাত বেশি হয়ে থাকে। তন্মধ্যে একটি হচ্ছে ‘প্রাইমারি সামার’। এপ্রিল-মে মাসজুড়ে এ মৌসুমের বিস্তৃতি। এ সময়ে ভার্টিক্যাল ক্লাউড বা সম্ভু মেঘ থাকে বলে ঘন ঘন কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রপাত হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন বজ্রপাতে আতঙ্কিত না হয়ে ওই সময়টায় নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে হবে পাশাপাশি মানুষ যাতে বাড়ির বাহিরে কম বের হয় সেই দিকে গণসচেতনাতা বাড়াতে হবে।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, পরিবেশের ভারসাম্যহীনতা, জলবায়ুর পরিবর্তন এসব কারণে মেঘের মধ্যে তড়িত প্রবাহিতা বৃদ্ধি পায়। যে কারণে বজ্রপাতে হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। হাওর অঞ্চলে অত্যধিক বজ্রপাতের বিষয়ে তিনি বলেন, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় বিদ্যুৎ পরিবাহী অনেক উপাদান যেমন, গাছ, বাড়িঘর এসব থাকে। বজ্রপাতের সময় এসবের মধ্যে তড়িৎ প্রবাহ ছড়িয়ে যাওয়ায় জনবসতিপূর্ণ এলাকায় বজ্রপাতে মৃত্যুর ঘটনা কম হয়ে থাকে। তবে হাওর অঞ্চলে খোলা আকাশের নীচে বিদ্যুৎ পরিবাহী কোনো উপাদান থাকে না। ফলে বজ্রপাত সরাসরি মানুষকে আঘাত করে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: