সর্বশেষ আপডেট : ১০ মিনিট ২৪ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

তনুর চাচা-চাচীসহ চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ

tonu-picনিউজ ডেস্ক::
সেনানিবাসে আলোচিত কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু’র চাচা-চাচীসহ ৪জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে হত্যা মামলা তদন্তকারী সিআইডির কর্মকর্তারা।
বুধবার দুপুরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তারা হচ্ছেন চাচা আলাল হোসেন, চাচী সাজেদা বেগম, তনুর গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের পার্শ্ববর্তী গ্রাম কোদালকাটার ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম ও তনুকে উত্ত্যক্তে অভিযুক্ত সেনানিবাস এলাকার বাসিন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পিয়ারের বন্ধু জিদনি। এ পর্যন্ত ৫৬ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সিআইডি।

এদিকে কলেজ ছাত্রী সোহাগী জাহান তনুর চেহলামের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে বাবা এয়ার হোসেনের কপালের ভাঁজ তত বাড়ছে। কারণ চেহলাম করার মতো আর্থিক সঙ্গতিও নেই শোকে আচ্ছন্ন পরিবারটির। ১ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো হত্যাকাণ্ডে জড়িত কাউকে শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করতে পারেনি তদন্ত কর্মকর্তারা। দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের ২০ দিন পার হলেও আজ পর্যন্ত মেলেনি প্রতিবেদন। তদন্তে নিয়োজিত সিআইডিও মুখ খুলছে না।

এ অবস্থায় হতাশ বাবা বিচার চাইছেন আল্লাহর কাছে। তনুর বাবা এয়ার হোসেন কুমিল্লার ময়নামতি ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহকারী। তিনি বলেন, আমার তো টাকা-পয়সা নাই। চল্লিশা (চেহলাম) করতে টাকা-পয়সার দরকার আছে না বাবা? দেখি কী করা যায়। চল্লিশা তো করতে হবে।’মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে এয়ার হোসেন বলেন, ‘গত চার-পাঁচ দিনে কেউ মামলার ব্যাপারে কোনো কথা বলেনি। তদন্ত কর্মকর্তাও কথা বলেননি।

আমার আর কী করার আছে বাবা? গরিবের বিচার তো আল্লায় করে। এখন আল্লাহ যদি এর বিচার করে।’
সিআইডি ঢাকার বিশেষ পুলিশ সুপার তনু হত্যা মামলার তদন্ত সহায়ক কমিটির প্রধান আবদুল কাহ্হার আকন্দ বুধবার সাংবাদিকদের বলেন- আমরা অনেককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। তথ্য গুলো যাচাই বাছাই করছি। আশা করছি এনিয়ে দ্রুত একটা সমাধানে আসতে পারবো। ফলাফল পেলে বিস্তারিত জানাতে পারবো।

তনুর পরিবারকে কেন বার বার জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তনুর পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার, তদন্তে তথ্যের জন্য তাদের সাথে বার বার কথা বলছি। সিআইডির কুমিল্লা অঞ্চলের বিশেষ পুলিশ সুপার ড. নাজমুল করিম খান সেনানিবাসের ভিতরে হত্যার স্থানকে ইঙ্গিত করে বলেন, সেখানে ৫০ কেজি ওজনের একটি ডিনামাইট রাখা যতো সহজ, একটি ৫০ কেজি ওজনের লাশ ফেলা ততো সহজ নয়।

কেউ খুন করে লাশ নিশ্চয় থানার ভিতরে ফেলে আসবে না। তদন্তে সব পক্ষের সহযোগিতা পাচ্ছেন বলেও তিনি দাবি করেন।
প্রথম ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক শারমিন সুলতানাকে কি জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি জানান, তনুর ময়নাতদন্তের সময় কি কি দেখতে পেয়েছেন তা জানতে চেয়েছি।
জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়ে তনুর চাচা আলাল হোসেন বলেন, কিভাবে তনু মরলো তা জানতে চেয়েছে। আমরা গ্রামের বাড়িতে থেকে এটা কিভাবে বলবো। আরো বলেছেন- কথা চেপে রাখেন কেন। যা জানেন সব বলেন।

অপরদিকে তনু হত্যাকাণ্ডের পর গত ২৭ মার্চ রাত থেকে রহস্যময়ভাবে নিখোঁজ ছিল তনুর ছোট ভাইয়ের বন্ধু মিজানুর রহমান সোহাগ। ১৬ দিন পর ফিরে এলেও কারা তাকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল, কোথায় রাখা হয়েছিল এসব বিষয়ে সে কিছুই বলতে পারছে না। সিআইডির কোনো কর্মকর্তা বা তদন্ত কর্মকর্তাও সোহাগের কাছে যাননি।

সোহাগের বোন খালেদা আক্তার জানান, গত ১২ এপ্রিল সোহাগ ফিরে আসার পর দিন বুড়িচং থানার পুলিশ তাদের বাড়িতে গিয়ে কথা বলেছে। সিআইডির কেউ আসেনি, খবরও নেয়নি। তুলে নিয়ে যাওয়ার সময়ের ঘটনা ও ফিরে আসার সময়ের ঘটনা ছাড়া সোহাগ আর কিছু বলতে পারছে না। কারা নিল, কোথায় ছিল এসব বিষয়ে সে কিছুই জানে না। তার মাথায় প্রচণ্ড ব্যথা, ব্যথায় কাতরায়।

তনুর প্রথম দফা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন জমা পড়েছিল গত ৪ এপ্রিল। প্রথম প্রতিবেদন নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠায় গত ৩০ মার্চ দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্তের জন্য তনুর লাশ কবর থেকে তুলে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। তারপর পেরিয়ে গেছে ২০ দিন। এখন পর্যন্ত প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। দ্বিতীয় ময়নাতদন্তকারী দলের প্রধান কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. কামদা প্রসাদ সাহা জানান, সব বিষয়ের রিপোর্ট এলে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট দেওয়া হবে। তবে এটা কবে হবে, তা বলা যাচ্ছে না।

উল্লেখ্য-২০ মার্চ রাত সাড়ে ১০টার দিকে কুমিল্লা সেনানিবাসের বাসার নিকট থেকে তনুর মরদেহ উদ্ধার করে তার পিতা ইয়ার হোসেন। ২১ মার্চ কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানায় কোন আসামির নাম উল্লেখ না করে হত্যা মামলা দায়ের করেন তার পিতা। ২১মার্চ দুপুরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তনুর মরদেহের প্রথম ময়নাতদন্ত হয়। প্রথম ময়নাতদন্তে তনুকে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি এবং মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণও পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছিলেন চিকিৎসকরা। ২য় ময়নাতদন্তের জন্য ৩০মার্চ তনুর লাশ কবর থেকে তোলা হয়।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: