সর্বশেষ আপডেট : ৩৪ মিনিট ১৪ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

যে কারণে পাকিস্তানে ফৌজি ক্ষমতা আজও বহাল

140414_1আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তানের সামরিক ও বেসামরিক এলিটরা চিরদিনের জন্য দুবাইয়ে পাড়ি জমাচ্ছে। বিলাসবহুল আমিরাত এয়ারলাইনসের বিমানগুলো এই সমস্ত এলিটদেরকে পাকিস্তান থেকে দুবাইয়ে উড়িয়ে নিয়ে যায়।

তবে গত মাসে করাচি থেকে উড়ে যাওয়া আমিরাত এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট ছিল বেশ লক্ষনীয়। কারণ ঐ ফ্লাইটটির সামনের দিককার একটি সুসজ্জিত আসনে বসেছিলেন পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফ। তিন বছর ধরে কোনো ধরণের বিদেশ ভ্রমণ তার জন্য নিষিদ্ধ ছিল।

২০১৩ সালে স্বেচ্ছা নির্বাসন থেকে ফিরে আসার পর তার বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা রুজু করা হয়েছিল। এর মধ্যে ছিল সরকারের দায়ের করা বড় ধরণের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ।

কিন্তু অবশেষে সরকার চিকিৎসার জন্য তার বিদেশ ভ্রমণে অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছে। এটা এখন চূড়ান্ত যে, ১৯৯৯ সালে পারভেজ মোশাররফের অভ্যুত্থানের শিকার প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ অবশেষে পাকিস্তানের সাবেক এই সেনাপ্রধানকে ‘প্রস্থান নিয়ন্ত্রণ তালিকা’ থেকে সরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে। এই ঘটনা পাকিস্তান সরকারের জন্য বেশ মর্যাদাহানিকর। কারণ সরকার সর্বশক্তিমান সেনাবাহিনীর কব্জা থেকে ক্ষমতা ছিনিয়ে নিতে ব্যর্থ হয়েছে।

২০১৩ সালের মে মাসে তৃতীয় বারের জন্য নওয়াজ শরীফ যখন ক্ষমতায় আসলেন, অনেকেরই মনে হয়েছিল এবার তিনি সফল হলেন বলে। কারণ তিনি নির্বাচনে ব্যাপক ভোটে বিজয়ী হয়েছিলেন। সেনাবাহিনীর খ্যাতি মোশাররফের শাসন ও পীড়নের দ্বারা তখনো কলঙ্কিত ছিল। এর মধ্যে আবার আবিস্কৃত হলো যে সাবেক আল-কায়েদা প্রধান ওসামা বিন লাদেন সেনাবহিনীর অফিসার প্রশিক্ষণ একাডেমীর অনতিদূরেই বহুদিন ধরে লুকিয়ে ছিলেন। একটি বিশেষ আদালতে মোশাররফের বিচারের সিদ্ধান্তকে একটা বড় পদক্ষেপই বলতে হবে। তবে এই বিচার ১৯৯৯ সালের অভ্যুত্থানের কারণে নয়, এটা ২০০৭ সালে স্বল্প সময়ের একটি জরুরি অবস্থা ঘোষণার কারণে। বড় কোনো অপরাধে অভিযুক্ত হওয়া দূরে থাক, সাবেক একজন সেনাপ্রধানের জন্য আদালতে হাজির হওয়া বেসামরিক ক্ষমতার একটি ঐতিহাসিক বিবৃতি হয়ে থাকত।

মোশাররফকে আদালতে আনার চেষ্টাকে নস্যাৎ করে দিতে সেনাবাহিনী নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সমস্যাকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করাতে থাকে- যদিও শেষ পর্যন্ত ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি আদালতে হাজিরা দেন। এর পরপরই সরকারপন্থী টিভি চ্যানেল বলে পরিচিত জিও টিভি এবং সেনাবাহিনীর মধ্যকার এক দ্বন্দ্বের সাথে ক্ষমতাশীন দলও জড়িয়ে যায়। টিভি চ্যানেলটি প্রকাশ্যেই অভিযোগ করে যে, সামরিক বাহিনীর এক গুপ্তচর চ্যানেলটির একজন শীর্ষ সাংবাদিককে (হামিদ মীরকে) হত্যা করার ষড়যন্ত্র করেছিল।

আরো গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি তা হলো ২০১৩ সালের নভেম্বরে নতুন সেনাপ্রধান নিয়োগ। জেনারেল রাহিল শরীফ মোশাররফের সময়ে যেমন নিষ্কলুস ছিলেন একইভাবে প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের সময়েও দেশের মধ্যকার জঙ্গিদের বিরুদ্ধে বড় ধরণের সামরিক অভিযানের চালিয়ে আস্তে আস্তে প্রধানমন্ত্রীর উপর প্রভাব বিস্তার করে ফেলেন। এমনকি ২০১৪ সালে রাজধানী ইসলামাবাদের রাজপথে বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর ডাকা গণবিক্ষোভকে পৃষ্ঠপোষকতা করতে অস্বীকার করে নওয়াজ শরীফের সরকারকে রক্ষা কৃতিত্বও তাকে দেওয়া হয়।

সেনাবাহিনীর সহযোগিতা ছাড়া সরকার চালাতে পারবেন না-এই উপলব্ধিতেই প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ তার মিতা রাহিল শরীফের সাথে একটি যৌথ শাসন প্রক্রিয়া গ্রহণ করেছেন। যদিও দুই শরীফ নিয়মিত বৈঠক করছেন এবং প্রায়ই বিভিন্ন অনুষ্ঠানে একসাথে হাজির হচ্ছেন, তাদের মধ্যেকার অব্যাহত দ্বন্দ্ব অনিবার্য। গত মাসেই লাহোর পার্কে তালেবানের বোমাবর্ষণের পর তাদের সম্পর্কে নতুন রূপ নেয়। জেনারেল শরীফ সুযোগ বুঝে প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের নিজ এলাকা পাঞ্জাব প্রদেশের নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে তুলে নিয়েছে।

তবে প্রধানমন্ত্রী এখন এটা প্রতিহত করার চেষ্টা করছেন।

সূত্র: দ্য ইকোনমিস্ট

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: