সর্বশেষ আপডেট : ২৪ মিনিট ৫১ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

জাপানে ভূমিকম্পের পর যেমন আছেন বাংলাদেশিরা

60প্রবাস ডেস্ক :: জাপানে গেল কয়েক দিনের ‘চেইন ভূমিকম্পে’ প্রাণহানি ঘটেছে বেশ কিছু মানুষের। বিধ্বস্ত হয়েছে অনেক ঘরবাড়ি। ভূমিকম্পপ্রবণ জাপানের স্থানীয়রা এতে খানিকটা অভ্যস্ত হলেও সেখানে বসবাসকারী বিদেশিরা এসব ভূমিকম্পে আতঙ্কিত। ঘটনার পর থেকে এখন পর্যন্ত জাপানে বসবাসকারী কোনো বাংলাদেশির হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের।

জাপানের নাগাসাকি বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি অধ্যয়নরত দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী আকলিমা খাতুন মৌসুমী ও মো. আব্দুল হাসিব তাদের অভিজ্ঞতা লিখেছেন পাঠকদের জন্য।

জাপানের দক্ষিণের একটি শহর নাগাসাকিতে ১৪ এপ্রিল বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাত ৯.২৬ মিনিটে প্রথম ভূমিকম্প শুরু হয়। ৬.৫ মাত্রার ভূমিকম্প প্রথম আঘাত হানে নাগাসাকি থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত কিয়ুশু দ্বীপের অন্যতম শহর কুমামতোয়। এতে হতাহত হয় বেশ কিছু মানুষ।

তারপর থেকে এখন পর্যন্ত কয়েক শতবার কুমামতো ও তার আশেপাশের শহরগুলো কেঁপে উঠেছে। তবে ১৬ এপ্রিল স্থানীয় সময় রাত ১.২৫ মিনিটে ৭.৩ মাত্রার ভূমিকম্প মানুষের হতাহতের সংখ্যা বাড়িয়ে দেয়।

এমন চেইন ভূমিকম্পের পর আরও বড় কিছু হবে কিনা তার আতঙ্কও ঘিরে রয়েছে সেখানকার অধিবাসীদের।
জাপানের সব ফোনে যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগে সতর্কতা সাইরেন বেজে ওঠে। অটোমেটিক এই সতর্কতার উচ্চ শব্দ হচ্ছে জিসিন দেস। এই জিসিন দেস (ভূমিকম্প, ভূমিকম্প) সেই ভয় আরও বাড়িয়ে দিচ্ছিল। তাছাড়া স্থানীয় সিটি অফিস থেকেও মাইকিং এ সতর্ক করে দেওয়া হয়।

কিছুক্ষণ পরপরই ভূমিকম্প হচ্ছে। রাতে হালকা ঘুমে মনে হয় এই বুঝি আবার কম্পন শুরু হলো। তাছাড়া এখানে চারদিকে সমুদ্র হওয়ায় ১৬ এপ্রিল সুনামির আশঙ্কা ছিল যদিও সে সতর্ক পরে তুলে নিলে সবাই কিছুটা দুশ্চিন্তা মুক্ত হয়। সেদিনই ৭.১১ মিনিটে আবারও বড় মাত্রার ভূমিকম্প হয়। যার উৎপত্তিস্থল হলো কুমামতোর পাশের শহর ওইতায়।

নাগাসাকিতে কোনো দৃশ্যমান ক্ষতি না হলেও, প্রথম এমন অভিজ্ঞতা মানসিকভাবে বেশ বিপর্যস্ত করে দিচ্ছিল আমাদের। আমরা মানে যারা বাইরের দেশ থেকে জাপানে এসেছি।

এখানের যে ভবনগুলো ১৫-২৫ বছরের বেশি পুরনো না, সেসব নাকি ৭ এর অধিক মাত্রার ভূমিকম্প সহ্য করতে পারে।
উৎপত্তিস্থল নতুনভাবে সরে যাবার ফলে কুমামতোর পার্শ্ববর্তী অন্যান্য শহর নাগাসাকি, সাগা, ফুকুওকা, কাগোশিমা ও মিয়াজাকির মানুষ বেশি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। এইসব শহরগুলোতে প্রথম থেকেই কম্পন অনুভূত হচ্ছিল।

কুমামতোবাসীদের অনেক দুর্ভোগ সহ্য করতে হচ্ছে। ওখানে সক্রিয় আগ্নেয়গিরি থাকায় ভূমিকম্পের সাথে রয়েছে আগ্নেয়পাতের ত্রাস। অনেক মানুষ এখনও খোলা রাস্তায় ও শেল্টার হাউসে বসবাস করছেন।

এরই মধ্যে ১৬ এপ্রিল রাতের ঝড়-বৃষ্টি মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দেয়। ভূমি ধসের ফলে অনেক মানুষ এখন নিখোঁজ রয়েছেন। বন্ধ রয়েছে পানি, গ্যাস, বিদ্যুৎ সংযোগ। দোকানপাট বন্ধ থাকায় দেখা দিয়েছে খাবার সংকট।
তবে জাপান সরকার খাবার, পানি, কম্বল দিয়ে দুর্গত মানুষদের সাহায্যে চেষ্টা করে যাচ্ছে। কুমামতোর সাথে হাইওয়ে, রেল ও আকাশ পথে সব ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ রয়েছে।

কুমামোতোয় ছিলেন ৬২ জন বাংলাদেশি। প্রথমে তারা কুমামতো বিশ্ববিদ্যালয়ের শেল্টার হাউসে আশ্রয় নিলেও পরবর্তীতে তারা আশেপাশের শহরে আশ্রয় নিয়েছেন। ছয়জন চলে এসেছেন নাগাসাকিতে। অনেকেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দেশে চলে যাবার।
বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে বলা হয়েছে, তাদের তেমন কিছু করার নেই। তবে প্রয়োজনে যেকোনো রকমের সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন।
এখনও থেকে থেকে কম্পন অব্যাহত থাকার ফলে আরও বড় ধরনের ভূমিকম্পের সম্ভাবনা থেকেই যাচ্ছে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: