সর্বশেষ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে
বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ডেটলাইন বৃহস্পতিবার ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অপসারণে নামছে সিসিক

16স্টাফ রিপোর্টার ::
সিলেট মহানগরে গড়ে ওঠছে একেরপর এক বহুতল ভবন। যে ভবনগুলো নির্মাণের সময় বাংলাদেশ বিল্ডিং কোডের শতভাগ আইন মানা হয়নি একটিতেও। ২০০৫ সালের দিকে সিলেট সিটি কর্পোরেশন ৩০টি ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে। এরপর আরো ২টি ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। চিহ্নিত করেই সিসিকের যেন দায়িত্ব শেষ ছিল। সিসিক কর্তৃপক্ষ ঝুঁকিপূর্ণ ভবন মালিকদের নোটিশ দিলেও ভবন অপসারণের ব্যাপারে কোনোই প্রদক্ষেপ নেননি। সম্প্রতি কয়েক দফা ভূমিকম্প হওয়ায় টনক নড়ে তাদের। অবশেষে আগামী বৃহস্পতিবার থেকে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অপসারণে নামবেন সিসিক কর্মকর্তারা। এ লক্ষ্যে চূড়ান্ত নোটিশও দেয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট ভবনের মালিকদের।

সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীব বলেন, তাঁতিপাড়ায় একটি ভবন বেশ ঝুঁকিপূর্ণ আমরা তাদেরকে নোটিশ করে জানিয়েছি ভবন খালি করতে। এই ভবন অপসারণ করা হবে। তাঁতিপাড়ার এইডেড স্কুলের সামনের একটি ভবন অপসারণ করা হবে।
এদিকে, কাছাকাছি কয়েকটি বিচ্যুতি (ফল্ট লাইন) থাকায় ভূমিকম্প ঝুঁকিতে রয়েছে সিলেট। সাম্প্রতিক ঘনঘন কয়েকটি ভূমিকম্পের কারণে বেড়েছে আতঙ্কও। ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে নগরীর ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর বিরুদ্ধে অভিযানে নামছে সিসিক।

সিসিক সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে বিশেষজ্ঞ টিমের মাধ্যমে নগরীর ৩২ টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণভবনগুলো ভেঙে ফেলার জন্য সংশ্লিষ্টদের নোটিশও দেওয়া হয়েছে। বুধবারের মধ্যে নগরীর তাঁতিপাড়ার একটি ভবন সংশ্লিষ্টরা না ভাঙলে আগামী বৃহস্পতিবার সিটি করপোরেশন অভিযান চালিয়ে এ ভবনটি ভেঙে ফেলবে।

সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুল ইসলাম বলেন, আমরা ঝুঁকিপূর্ণ ভবন মালিকদের ৭ দিনের সময় দিয়েছি। এরপরই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সিলেট সিটি করপোরেশনের মালিকানাধীন ঝুঁকিপূর্ণ ভবন সিটি সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ীদেরও এক সপ্তাহের মধ্যে মার্কেট খালি করে দেওয়ার জন্য বলা হয়েছেন।

গত এক দশকে সিলেট নগরীতে গড়ে ওঠেছে অসংখ্য বহুতল ভবন। শপিং মল, আ্যাপার্টমেন্ট, হোটেল গড়ে উঠেছে এসব বহুতল ভবনে। তবে এসব ভবনের বেশিরভাগেরই নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন। সিটি করপোরেশন ও ফায়ায় সার্ভিসের কাছ থেকে নকশা অনুমোদন না করিয়ে ও সয়েল টেস্ট ছাড়াই অপরিকল্পিতভাবে নির্মান করা হয়েছে এসব বহুতল ভবন। এছাড়া প্রায় শতাধিক ভবন দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ হয়ে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অনেক স্থানে ফাটল ধরা এসব ভবনে ঝুঁকি নিয়েই চলছে বসবাস।

শাহাজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ টিম দিয়ে সম্প্রতি নগরীতে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা তৈরি করে সিসিক। এতে ৩২ টি ভবনকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এই ভবনগুলো ভেঙে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয় সিসিক। তবে বেশিরভাগ ভবন মালিকই সিলেট সিটি করপোরেশনের কাছে সময় চেয়েছেন বলে জানা গেছে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সিলেট অফিসের সহকারী পরিচালক মো. শহিদুর রহমান বলেন, সিটি করপোরেশন থেকে নকশা অনুমোদনের আগে ভবন মালিককে ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র নিতে হয়। কিন্তু তা অনুসরণ করা হয়নি। সিলেট ফায়ার সার্ভিসের কাছে নগরীর প্রায় ২শ’ বহুতল ভবনের তালিকা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব ভবনের প্রায় অর্ধেকই নির্মাণ হয়েছে ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক অনুমোদন না নিয়ে।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও পুরো প্রকৌশল বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. জহির বিন আলম বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে, রিকটার স্কেলে পাঁচ মাত্রার ভূমিকম্প হলে সিলেটের আশি ভাগ ভবনই ধসে পড়বে। সাত মাত্রার ভূমিকম্প হলে এ অঞ্চলের প্রায় ৯৫ ভাগ স্থাপনা ধ্বংস হয়ে যাবে। প্রাণ হারাবে ১২ লাখ মানুষ এবং টাকার অঙ্কে ক্ষতি হবে ১৭ হাজার কোটি। তাই এখন থেকেই সচেতন হতে হবে। ভূমিকম্প সহনশীল করে ভবন নির্মাণ করতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: