সর্বশেষ আপডেট : ৪ মিনিট ২৪ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

তাহিরপুরে ডুবছে শনি হাওর,ঝড়ছে কৃষকের চোখের পানি

10জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া ::
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় আজ দুপুরে শনি হাওরের জালখালি বাঁধ বৃষ্টির পানির চাপে ভেঙ্গে তীব্র গতিতে হাওরে প্রবেশ করছে। খবর পেয়ে ছুঠে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান,তাহিরপুর থানার ওসি,উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও হাওর পাড়ের কৃষকগন। বাঁধ রক্ষার জন্য লোকজন সবোর্চ্ছ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সবাই।
শনি হাওরটি উপজেলা প্রধান বোরো উৎপাদন সমৃদ্ধ এ হাওরে সাড়ে ৬হাজার হেক্টর বোরো ধান চাষাবাদ করেছে কৃষকগন। তাই কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পরেছে। আর কষ্টের ফলানো সোনার ফসল পানিতে ডুবে যাওয়া দেখে ঝড়ছে কৃষকের চোখের পানি। এছাড়াও উপজেলার এ পর্যন্ত ১২টি হাওরের কাচাঁ,আধা পাকা ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। এর পরও হাজার হাজার কৃষকের একমাত্র বোরো ফসল রক্ষায় বাঁেধ এ পর্যন্ত পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাউকে দেখা যায় নি। বাঁধ রক্ষায় ফাঠল ও দেবে যাওয়া অংশে সংস্কারের কাজ করেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সহ হাওর পাড়ে কৃষকগন দিন-রাত।
উপজেলার ছোট বড় ২৩টি হাওরে উৎপাদিত ২শ কোটি টাকার ফসলের উপর নির্ভর করেই জীবন জীবিকা চলে হাজার হাজার কৃষকের। এ বছর একের পর এক হাওরের বাঁধ ভেঙ্গে হাজার হাজার কৃষকের সোনার ফসল ডুবে যায়। এই ফসল ফলাতে কৃষকরা এনজিও,ব্যাংক ও মহাজনের কাছ থেকে ছড়া সুদে নেওয়া ঋন নেওয়ায় পরিশোধ নিয়ে হতাশায় দিন পার করছে হাওর পাড়ের কৃষকরা।
অভিযোগ রয়েছে-গত ২৮শে ফেব্রুয়ারীর মধ্যে এই উপজেলার ২৩টি হাওরের ১৬টি বেরী বাঁধ নির্মাণ কাজ শেষ করার সরকারি নির্দেশ থাকলেও ৪০ভাগ কাজও শেষ করে নি সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঠিকাদার ও পিআইসিগন নিজেদের খেয়াল খুশি মত,দায় সারা ভাবে বাঁধ নির্মান করার কারনে গত কয়েক দিনের বৃষ্টির পানিতে বাঁধ গুলো ভেঙ্গে যাচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানাযায়-তাহিরপুর উপজেলার এ বছর উপজেলায় ১৮,৩০০হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের ধান চাষবাদ করা হয়েছে। শিলা বৃষ্টি ও ঝড়ে সাড়ে ১২হাজার হেক্টর অক্রান্ত হয়েছে। হাওরের প্রায় ৮শত হেক্টর কাঁচা,আধা পাকা বোরো জমির ধান বাধঁ ভেঙ্গে পানিতে তলিয়ে গেছে। শনি হাওর ডুবলে অঅরো যোগ হবে সাড়ে ৬হাজার হেক্টর বোরো ধান। পানিতে তলিয়ে যাওয়া হাওরের কাচাঁ,আধা পাকা ধান কাটছে এখন কৃষকগন। উপজেলার বিভিন্ন হাওরের বাঁধ দেবে গেছে ও ফাঠল দেখা দিয়েছে আর সেই ফাটল দিয়ে অল্প অল্প করে পানি হাওরে প্রবেশ করছে।
হাওর পাড়ের কৃষকগন জানান,পানি উন্নয়ন বোর্ডের তৈরি বালির বাঁধ বাঁধ ভেঙ্গে পানি হাওরে প্রবেশ করে কোটি কোটি টাকার কষ্টের সোনার ফসল পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। এই ফসল ফলাতে আমরা বিভিন্ন এনজিও,ব্যাংক ও মহাজনের কাছ থেকে ঋন নিয়েছি কিভাবে ঋন পরিশোধ করব ভেবে পাচ্ছি না।
তাহিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুস ছালাম জানান-হাওরের বাঁধ গুলো খুবেই যুকিপূর্ন অবস্থায় ছিল এবং এখনও আছে। আজ দুপুরে শনি হাওরের বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায় সবাই বাঁেধ কাজ করছি। হাওরের আগামী ২১,২২,২৩ বন্যা হতে পারে তাই কৃষকদের বোরো ধান ৮০ভাগ পাকলেই সেই ধান কাটার পরামর্শ দিচ্ছি বিভিন্ন এনজিও,শিক্ষক ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সহযোগীতায় ।

তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল বলেন-সঠিক ভাবে বাঁধ নির্মাণ না করার কারণে একের পর এক হাওর ডুবছে। শনি হাওরের বাঁধটি রক্ষায় আমি সহ সবাই অবস্থান করছি। আল্লাহ সহায় হলে বাঁধ রক্ষা করতে সক্ষম হব আমরা। তবে বাঁধ নির্মান অনিয়মকারীদের কোন ভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন জানান-শনি হাওরের বাঁধ রক্ষায় চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষকে জানিয়েছি।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: