সর্বশেষ আপডেট : ১০ মিনিট ৯ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

গোলাপগঞ্জে বিদ্যুত বিপর্যয়ে রেকর্ড: ডিজিএমের অপসারন দাবি

71গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি : সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায় দীর্ঘ ১৫/১৬ দিন ধরে চলছে অব্যাহত বিদ্যুত বিপর্যয়। যার ফলে পুরো উপজেলা অন্ধকারে রয়েছে। তবে এ বিদ্যুত বিপর্যয় ডিজিএম সুজিত কুমার বিশ্বাসের মৌখিক বক্তব্য। বাস্তবে বিপর্যয় ঘটলেও তার আশু কোন সমাধানের আগেই ঝড় বৃষ্টির দিনে একের পর এক বিপর্যয় ঘটেই চলছে।

জানা যায়, উপজেলার লক্ষণাবন্দ ইউপির বেশ কয়েকটি গ্রাম দীর্ঘ ১৬ দিন ধরে বিদ্যুতহীন রয়েছে। ডিজিএম কিংবা জোনাল অফিসের অভিযোগ কেন্দ্রের মোবাইল নাম্বারে যোগাযোগ করেও কোন ফায়দা হয় না । অবিরাম ঝড় বৃষ্টির ফলে একের পর এক বিদ্যুত বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটলেও টনক নড়ছে না ডিজিএমের। তবে অভিযোগ রয়েছে যে, ডিজিএম সুজিত কুমার বিশ্বাস স্বজনপ্রীতির সঙ্গে ওৱপোতভাবে জড়িত। দলীয় কিংবা প্রভাবশালী মহলকে খুশি করে চলার নীতি তার ইদানিং খুব বেড়ে চলছে। কার কী ক্ষতি হলো তাতে তার কোন মাথা ব্যাথা না থাকলেও প্রভাবশালীদের খুশি রেখেই বিদ্যুত সরবরাহ করে যাচ্ছেন।

দিনের পর দিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকা অন্ধকারে থাকলেও কোন সমস্যা দেখা দিলেই বিশেষ মহলের এলাকা তড়িৎ গতিতে বিদ্যুত সরবরাহ হয়ে যায়। অন্য সকল এলাকার মানুষজনের হাহাকার যেন তার কানে পৌছায় না। যার ফলে বিদ্যুত সরবরাহ ও ডিজিএমের অপসারণ দাবীতে সড়ক অবরোধ, প্রতিবাদ সভা করেছে এলাকাবাসী।তবুও ডিজিএমের ভাষ্য বিদ্যুত বিপর্যয় চলছে। সমাধানের কোন লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না। সচেতন এলাকাবাসীর প্রশ্ন তবে এই ডিজিএমের খুটির জোর কোথায়? কাদের খুশি রেখে তিনি জামাই আদরে থাকছেন। ভুক্তভোগী গ্রাহক যখন তার সাথে যোগাযোগ করেন তখন তিনি কর্কষভাষী। আর যখন কোন গ্রাহক সংবাদকর্মী পরিচয়ে যোগাযোগ করেন তখন তিনি অতি নম্র ভদ্র একজন দায়িত্বশীল। ডিজিএম সুজিত কুমারের বিষয়ে আরো অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি নাকি অর্থের বিনিময়ে কাজ করতে মুখিয়ে থাকেন। টাকা দিলে কাজ হয় নয়তো দিনের পর দিন অন্ধকারে থাকতে হয়। ঠিক তেমনি অভিযোগ লাইনম্যানদের প্রতি। তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে সবার মনে পল্লী বিদ্যুত গোলাপগঞ্জ জোনাল অফিস কি টাকার খেলায় মত্ত্ব?

সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গেলে অভিযোগ পাওয়া যায়,বিদ্যুতের কোন সমস্যা সমাধানে গোলাপগঞ্জ জোনাল অফিসে বারবার যোগাযোগ করেও কোন লাভ হয় না । অফিস হতে শুধু আশ্বাস দিয়ে রাখা হয় গ্রাহকদের। বিভিন্ন এলাকারর গ্রাহকেরা ডিজিএম সুজিত কুমারকে অবিলম্বে অপসারণের দাবী জানিয়েছেন। এ্যাকশন এ্যাকশন, ডাইরেক্ট এ্যাকশন, শ্লোগানে মুখরিত ছিল গোলাপগঞ্জ কদমতলী পয়েন্ট।

পল্লী বিদ্যুৎ-১গোলাপগঞ্জ জোনাল অফিসের ডিজিএম প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ হয় গত বুধবার বেলা ১২ টার দিকে গোলাপগঞ্জ উপজেলা সদরের কদমতলী পয়েন্টে।গত রবিবারও উপজেলার হেতিমগঞ্জে পল্লী বিদ্যুৎ এর বর্তমান অবস্থার প্রতিবাদ জানিয়ে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ মিছিল হয়।যার ফলে সিলেট জকিগঞ্জ রোডে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। গোলাপগঞ্জে ঘনঘন লোডশেডিং এর কারণে বিশেষ করে বিপাকে পড়তে হচ্ছে এইচ এস সি ও আলিম পরিক্ষার্থীদের। ঘন ঘন লোডশেডিং, বিদ্যুত লাইন মেরামতে অবহেলা, কোন কোন এলাকায় ৯/১০ দিন থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকা ইত্যাদির অভিযোগে গোলাপগঞ্জ পল্লী বিদুৎ এর ডিজিএমকে প্রত্যাহারের দাবীতে উপজেলার লক্ষণাবন্দ ইউপির আওতাধীন বেশ কয়েকটি গ্রামের গ্রাহকদের উপস্থিতিতে কদমতলী পয়েন্টে এ বিক্ষোভ মিছিলটি অনুষ্ঠিত হয়।

জানা যায়, প্রায় ১০ দিন থেকে লক্ষণাবন্দ ইউপির লক্ষীপাশা, লক্ষণাবন্দ,নিশ্চিন্ত সহ বেশ কয়কটি এলাকা বিদ্যুত বিহীন রয়েছে। এক এলাকার সমস্যায় অন্তত আরো ১০ এলাকা অন্ধকারে থাকতে হয়। দিনের বেলায় তো আছেই তার সঙ্গে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসতেই শুরু হয়ে যায় লোডশেডিং। যার ফলে ব্যাহত হচ্ছে জনজীবন। বিদ্যুতের অতিরিক্ত লুকোচুরিতে রাতের আঁধারে লেখাপড়ায় মারাত্নক ঝুঁকিতে পড়ছেন এবারের এইচ এস সি ও আলিম পরিক্ষার্থীরা। মোমবাতি কিংবা হারিকেনের আলোতে কোন রকম নিজেদের পরিক্ষার প্রস্তুতি গ্রহণ ছাড়া উপায় নেই তাদের।

বিদ্যুতের আসা যাওয়ার খেলায় বাড়ি,ব্যবসা, মার্কেট,শিক্ষা প্রতিষ্টানের কার্যক্রমে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা। বাড়িতে পানি সংকটে পড়ছেন মানুষজন। ফ্রিজ, টিভি,মোবাইল ফোন, চার্জার লাইট সহ ইলেকট্রিক মালামাল নিয়ে পড়ছেন বিপাকে। অনেকের ফ্রিজ টিভি বিকল হয়ে পড়েছে বিদ্যুতের মাঝে মধ্যে আসা যাওয়ার খেলায়! ফ্রিজে রাখা খাদ্য সামগ্রী পঁচে নষ্ট হচ্ছে। তবুও চলছে বিদ্যুতের আসার কোন খবর নাই।যদি কোন কারনে সামান্য প্রাকৃতিক সমস্য হয় বা বিস্টি হয় তা হলে ৮ দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ থাকেনা।

দিবারাত্রী ২৪ ঘন্টার মধ্যে ১৮ ঘন্টাই বিদ্যুতহীন থাকতে হচ্ছে গ্রাহকদের । তবে বিশেষ করে পল্লী অঞ্চলের মানুষদের ভুগান্তির শিকার হতে হচ্ছে বেশী। বিদ্যুতহীনতার কারণে প্রয়োজনে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছেন পুরো উপজেলাবাসী। পল্লী বিদ্যুতের অভিযোগ কেন্দ্রের মোবাইল নাম্বারটি ২৪ ঘন্টার ২০ ঘন্টাই থাকে ব্যস্থ। আর ডিজিএম’র যোগাযোগ করলেও ফোন রিসিভ হয় না বলে অনেকের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিদ্যুত লাইনে বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে নিরুপায় হয়ে থাকতে হয় পল্লী অঞ্চলের গ্রাহকদের। অভিযোগ কেন্দ্রে যোগাযোগ করা হলে তাদের মিথ্যে আশ্বাসেই সন্তুষ্ট থাকা ছাড়া কোন উপায় নেই গ্রাহকদের।

অভিযোগ রয়েছে পল্লী বিদ্যুতের অধিকাংশ লাইনম্যান কর্মচারী আর্থিক সুবিধা ভোগের দিকে মুখিয়ে থাকেন। কোন এলাকা থেকে টাকার বিনিময়ে কাজের আশ্বাস দিলে অধিক সময়ের কাজ অল্প সময়ে করে দেয়া হয়। আর এদিকে লোকবল সংকটের কারণে কাজে ব্যাঘাত ঘটছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ব্যাপারে কথা বলতে চাইলে গোলাপগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম সুজিত কুমার বিশ্বাস নিজের ব্যর্থতাকে এড়িয়ে কোন মতে বিদ্যুত বিপর্যয়ের কথা বলে লাইন কেটে দেন।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: