সর্বশেষ আপডেট : ৪ মিনিট ২৩ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

জাতীয় শিক্ষা নীতি প্রসঙ্গে কিছু কথা

53ইসলামী শিক্ষাকে বির্সজন দিয়ে-বিশেষ পদ্ধতির একমুখি, ধর্মনীরপেক্ষ কোন শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে আর যাইহোক অন্তত জাতীর কল্যাণ ও সফলতা আসতে পারেনা। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, সংখ্যাগরিষ্ট মুসলমান এই দেশে সেই ধর্মনীরপেক্ষ (যা ইসলামী স্কলারদের ভাষায় নাস্তিক্যবাদী) শিক্ষানীতিই চূড়ান্ত হতে যাচ্ছে।

যে শিক্ষাধারায় প্রয়োজনীয় নৈতিক-ধর্মীয় শিক্ষার অভাবে প্রতিনিয়ত দুর্নীতিবাজ,নারীধর্ষণকারী সৃষ্টি হচ্ছে কিন্তু সেই ধারাকে আরো ধর্মহীনকরে আগামী প্রজন্মকে প্রগতি ও মুক্তচিন্তার নামে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে সচেতনমহলের ধারণা। সুশিক্ষা মনুষ্যত্ব বিকাশের অন্যতম মাধ্যম ও আতেœা উপলব্ধি অজর্নের চাবিকাঠি। শিক্ষা আত্মবিকাশ ও ব্যক্তিত্বের পরিস্ফুটন ঘটাতে সাহায্য করে এবং মানব জীবনের সকল সমস্যা সমাধানের দিক-দর্শন প্রদান করে।

ইতিহাস পর্যালোচনা করলে একথা স্পষ্ট হয়ে উঠে যে, বর্তমান দ্বন্ধ মুখর বিশ্বে ইসলাম তথা ওহী ভিত্তিক শিক্ষাই একমাত্র মুক্তির পথ হতে পারে। একথা সত্য যে, বস্তুুবাদী শিক্ষার প্রভাব এবং ইসলামী শিক্ষার অনুপস্থিতিতে পৃথিবীতে শান্তি আজ সুদূর পরাহত । পৃথিবীর সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট মহামানব হযরত মোহাম্মাদ (সাঃ) এর প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রথম ওহী নাযীল হয় “পড়–ন” অর্থাৎ জ্ঞান অন্বেষন করুন। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কে দুনিয়াতে সমগ্র মানুষের জন্য শিক্ষক রুপে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন প্রেরণ করেছেন। তিনি বলেছেন, “বিদ্যা অর্জনকরা প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীদের জন্য ফরজ বা বাধ্যতামূলক”। মহানবী (সাঃ) এমনও বলেছেন, “বিদ্যা শিক্ষার জন্য প্রয়োজনে সুদূর চীন দেশ হলে ও যাও”।

এই শিক্ষার গুরুত্ব ও তাৎপর্য উপলব্দি করে মহানবী (সাঃ) নিজেই শিক্ষকতার দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই দৃষ্টিকোন থেকে আজকের এই পৃথিবীতে-সুশিক্ষার আলোয় হৃদয়ালোক উজ্জল-উদ্ভাসিত ও জ্ঞান সমৃদ্ধ করে তুলাই সর্বাধীক প্রয়োজন। মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) বিশ্বমানবতার সর্বশ্রেষ্ট শিক্ষক। হাদীস শরীফে উল্লেখ আছে “উন্নত চরিত্রের পরিপূর্ণতা বিধানের লক্ষ্যেই আমি প্রেরিত হয়েছি”। অপর এক হাদীসে আছে, “সুস্থ ও নৈতিকতার উন্নতমান পরির্পূণ করার নিমিত্ত আমি প্রেরীত হয়েছি” (মুয়াত্তা)।

বিশ্বমানবতার মুক্তিদূত মোহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সাঃ) ওহী ভিত্তিক যে শিক্ষা ব্যবস্থা প্রচলন করেছিলেন, সে শিক্ষার পূণ্য পরশে সাহাবীগন তাঁদের কাংখিত জীবনে শান্তি ও প্রগতির সন্ধান পেয়েছিলেন। তাঁরা আদর্শবান ও অনুসরনীয় ব্যক্তিত্বের অধিকারী হিসেবে ইতিহাসে এক অমর সোনালী অধ্যায় রচনা করেগেছেন। পবিত্র কোরআন-সুন্নাহর সমন্বিত শিক্ষানীতির অনুসরনের মাধ্যমেই-অজ্ঞানতা ও বর্বরতায় নিমজ্জিত আরব জাতিকে নৈতিক শিক্ষার পবিত্র স্পর্শে সু-সভ্য জাতিতে পরিনত করেছিলেন। তিনি মানব জাতিকে সভ্যতার শীর্ষতম আলোকময় সোপানে উন্নীত করার লক্ষ্যে ওহী ভিত্তিক শিক্ষা গ্র্রহনে উজ্জীবিত করেছিলেন এবং শিক্ষা ও মনন চর্চার ক্ষেত্রে বন্ধাত্বের যে অন্ধকার ছিল তা থেকে মুক্ত করেছিলেন।
‘বাংলাদেশ পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম দেশ’ এই ঘোষণা এই দেশের স্থপতি মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানের। সুতরাং এই দেশের শিক্ষা-সংস্কৃতির বুনিয়াদ নির্ভেজাল ইসলামী বোধ-বিশ্বাসের উপরই গড়ে উঠবে, এটাই কাঙ্খিত। বর্তমানে বাস্তবায়নাধীন জাতীয় শিক্ষানীতি সম্পর্কে এদেশের সিংহভাগ আলেম উলামা,বৃদ্ধিজীবি মহলের আপত্তি ও কিছু পরার্মশ উপস্থাপন করা হয়েছিলো। সরকার কর্তৃক ঘোষিত শিক্ষানীতি পর্যালোচনা করে এদেশের দীনদার জনগণের মনে এরূপ একটি ভয়ানক আশঙ্কা দেখা দিয়েছে যে, বিগত ষোড়শ শতাব্দির ‘মোগলে আজমের’ ঘোষিত দীনে-ইলাহীর-ই প্রতিচ্ছবি যেন নতুন করে তাদের সামনে দেদীপ্যমান!
ঘোষিত শিক্ষা নীতি দেশের গণমানুষের চিন্তা-চেতনা, আবেগ, অনুভূতি ও মূল্যবোধের পরিপন্থীই নয় বরং মানুষের হৃদয়ে আঘাত বলে গণ্য হবে। গণমানুষের চেতনাবিরোধী কোনো শিক্ষানীতি জাতির কাঁধে চাপিয়ে দিলে একটি চরম অরাজকতাপূর্ণ পরিবেশের সৃষ্টি হতে পারে। এরূপ প্রেক্ষাপটে গণসচেতনা সৃষ্টি এবং সংশ্লিষ্ট সকল মহলের নিকট বিষয়টি সুস্পষ্ট করার জন্য গত ৫ অক্টোবর ২০০৯ ঈসায়ী তারিখে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের তৎকালীন নির্বাহী সভাপতি, মাসিক মদীনা সম্পাদক মাওলানা মুহিউদ্দীন খানের নেতৃত্বে ৭৭ সদস্য বিশিষ্ট ‘ইসলামী শিক্ষা রক্ষা জাতীয় কমিটি’ গঠিত হয়। কমিটি বিগত ০৮/১১/২০০৯ তারিখে শিক্ষামন্ত্রী সমীপে ষোল দফা সুপারিশমালা পেশ করে।

এ ছাড়া ২২ ডিসেম্বর’০৯ ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে ‘জাতীয় কনভেনশন’ করে ‘ইসলামীশিক্ষা রক্ষা জাতীয় কমিটি’ কিছু প্রম্তাব ও নিম্ন লিখিত সুপারিশ সমূহ ঘোষনা করেছিলো: সুপারিশ সমুহঃ (ক) অধ্যায়-১, শিক্ষার উদ্যেশ্য ও লক্ষ্য-এর ৮ম লাইনে “সেক্যুলার ও গণমুখী” শব্দটি দু’টি বাদ দিয়ে তার পরিবর্তে ‘ধর্মীয় মূল্যবোধ ও কর্মমূখী’ প্রতিস্থাপন করতে হবে। (খ) ৩ নম্বর লক্ষ্যে ‘ধর্মনিরপেক্ষতাবোধ’ এর পরিবর্তে “ধার্মিকতা ও নৈতিকতাবোধ” পরিভাষা প্রতিস্থাপন করতে হবে। (গ) ১২ নম্বর উদ্দেশ্যে ইংরেজীর পরে আরব বিশ্বে কর্মসংস্থানের সুবিধার্থে আরবী ভাষা শিক্ষা, সংযোজন করতে হবে।

সুপারিশ-২ঃ (ক) অধ্যায়-২. প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা এর ৪ নম্বরে শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বিষয়ে’ ৮ম লাইনে “তৃতীয় শ্রেণী থেকে মূলতঃ জীবনী ও গল্পভিত্তিক বিভিন্ন ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষার ব্যবস্থা থাকবে”- এর পরিবর্তে ‘১ম শ্রেণী থেকে মূলতঃ প্রত্যেক ধর্মাবলম্বীদের জন্য নিজ নিজ ধর্মের মৌলিক বিষয়সমূহ শিক্ষার ব্যবস্থা থাকবে’- প্রতিস্থাপন করতে হবে। (খ) প্রাথমিক শিক্ষার মেয়াদ ৫ বছর থেকে বৃদ্ধি করে ৮ বছর করা সংগত হবে না।

এটিকে ৫ বছরই রাখা সমীচিন হবে। (গ) রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ন্যায় স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষকগণকে বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা প্রদানের প্রস্তাব করছি। সুপারিশ-৩ঃ বয়স্ক ও উপানুষ্ঠানিক অধ্যায়ে কৌশল-৬ এ “বিভিন্ন মহল কর্তৃক পরিচালিত/উদ্ভাবিত বয়স্ক শিক্ষা দান পদ্ধতির মধ্যে (বিশেষ করে নূরানী/নাদিয়াতুল কোরআন ও মসজিদ ভিত্তিক গণশিক্ষাকে অন্তর্ভূক্ত করার আহবান করছি। সুপারিশ-৪ঃ (ক) মাদ্রাসা শিক্ষার কৌশল ১ এ মাদ্রাসা শিক্ষার স্বকীয়তা বজায় রাখার কথা বলা হয়েছে। এটি প্রশংসার দাবীদার।

এতে আমাদের সুপারিশ হচ্ছে, মাদ্রাসা শিক্ষাধারায় বাংলা, ইংরেজী, গণিত, সামাজিক পরিবেশ পরিচিতি, বাংলাদেশ স্টাডিজসহ অন্যান্য অভিন্ন বিষয়ের শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচীতে যাতে পবিত্র কুরআন, হাদীস ও ধর্মীয় মূল্যবোধের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকে তা সুনিশ্চিত করতে হবে এবং এ ব্যাপারে দেশের শীর্ষস্থানীয় সর্বজনমান্য ওলামায়ে কেরাম ও ইসলামী শিক্ষাবিদগণের সমন্বয়ে একটি ‘রিভিউ কমিটি’ গঠন করার প্রস্তাব করছি। (খ) কৌশল ৮ সংশোধন করে মাদ্রাসা শিক্ষাধারার সকল বিষয়ের পরীক্ষা গ্রহণ ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার যাবতীয় দায়িত্ব মাদ্রাসা বোর্ড-এর ওপর ন্যস্তকরার প্রস্তাব করছি। (গ) মাদ্রাসা শিক্ষার উচ্ছ অর্থাৎ ফাজিল ও কামিল পর্যায়ের শিক্ষাক্রম/পাঠ্যপুস্তক অনুমোদন ও শিক্ষাঙ্গনগুলোর তদারকি ও পরীবিন এবং পরীক্ষা পরিচালনাসহ সার্বিক তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব পালনের জন্য ঢাকায় একটি এফিলিয়েটিং ক্ষমতা সম্পন্ন ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করার আহবান জানাচ্ছি। (ঘ) কৌশল-১১. সম্পূর্ণ বাতিল করতে হয়।

কেননা মাদ্রাসা শিক্ষার উচ্চ পর্যায় এবং সাধারণ শিক্ষার উচ্চ পর্যায়ের মধ্যে ডিগ্রীর সমতার বিষয়টি ইতোমধ্যে চূড়ান্ত ভাবে মীমাংসিত হয়ে গেছে। সুপারিশ-৫, অধ্যায়-৭ঃ ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য শিরোণামে ‘বাংলাদেশের মূল চারটি ধর্ম সম্পর্কে পরিচিতি’ এর পরিবর্তে ‘নিজ নিজ ধর্ম সম্পর্কে পরিচিতি’ প্রতিস্থাপন করার প্রস্তাব করছি। সুপারিশ-৬,অধ্যায়-১৬ঃ (ক) নারী শিক্ষার কৌশল-৭ জেন্ডার স্টাডিজ ও প্রজনন স্বাস্থ্য, অপরিণত বয়সের কারণে বিষয়টি মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয়। কাজেই বিষয়টি মাধ্যমিক স্তর থেকে বাতিল করে স্নাতক পর্যায়ে রাখা যেতে পারে। (খ) এ অধ্যায়ে নিম্নোক্ত কৌশলটি সংযোজন করার প্রস্তাব করছি। “ সাধারন শিক্ষার ন্যায় মাদ্রাসা শিক্ষা ধারায়ও নারী শিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। নারী শিক্ষার উন্নয়নের জন্য মহিলা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে হবে এবং মহিলা মাদ্রাসা সমূহের অনুমোদন, স্বীকৃতি ও এম.পি.ও- ভূক্তির শর্তাদি শিথিল ও সহজ করা হবে।

সুপারিশ-৭, অধ্যায়-১৭ঃ ললিতকলা শিক্ষার উদ্দেশ্য, লক্ষ্য ও কৌশল-এ যা বলা হয়েছে তা এদেশের সংবিধান ও সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় মূল্যবোধের পরিপন্থী। সুতরাং এ অধ্যায়টি নীতি থেকে সম্পূর্ণরূপে বাদ দেয়ার আহবান করছি।
সুপারিশ-৮, অধ্যায়-১৮ঃ এ ব্রতচারী শিক্ষার উদ্দেশ্য লক্ষ্য ও কৌশল এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ঈমান আক্বীদা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের পরিপন্থী। কাজেই এ বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে বাতিল করার প্রস্তাব করছি।

সুপারিশ-৯, অধ্যায়-২১ঃ (ক) পরীক্ষা ও মূল্যায়ন কৌশল (৯) এ ১০ম শ্রেণী শেষে বিদ্যমান পাবলিক পরীক্ষা বাদ দেয়া ঠিক হবে না বরং তা বহাল রাখাই জনস্বার্থে যুক্তিযুক্ত। (খ) কৌশল (১০)এ মাধ্যমিক পরীক্ষা কেন্দ্র ঢালাওভাবে উপজেলা সদরে নিয়ে আসা যুক্তিযুক্ত নয়। প্রয়োজনে উপজেলা সদরের বাইরেও পরীক্ষা কেন্দ্র রাখা যেতে পারে।

সুপারিশ-১০,অধ্যায়-২৪ঃ মাদ্রাসা শিক্ষকদের জন্য প্রাথমিক (ইবতেদায়ী) পর্যায়ে ই,টি,টি,আই এবং মাধ্যমিক (দাখিল) পর্যায়ের শিক্ষকদের জন্য বি, এম, এড, ও এম, এম, এড ট্রেনিং এর ব্যবস্থা করতঃ প

সুপারিশ-১১, সংযোজনী-২ঃ (ক) প্রাথমিক শিক্ষা স্তরের জন্য প্রস্তাবিত শিক্ষাক্রম কাঠামোতে সাধারণ শিক্ষায় ১ম ও ২য় শ্রেণীর অতিরিক্ত বিষয় ‘৪নং ললিতকলা’ এর পরিবর্তে ‘ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা’ প্রতিস্থাপন করার প্রস্তাব করছি। (খ) তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণীতে অতিরিক্ত বিষয় ‘ললিতকলা’ এর পরিবর্তে ‘স্বাস্থ্য বিজ্ঞান’ প্রতিস্থাপন করার প্রস্তাব করছি। (গ) ৬ষ্ঠ- ৮ম শ্রেণীর অতিরিক্ত বিষয় ‘ললিতকলা’ এর পরিবর্তে ‘স্বাস্থ্যবিজ্ঞান’ প্রতিস্থাপন করার প্রস্তাব করছি।

সুপারিশ- ১২, সংযোজনী-৩ঃ (১) ক. মাধ্যমিক স্তরের ৯ম ও ১০ম শ্রেণীতে কক্ষ আবশ্যিক বিষয় (সকল শাখার জন্য) ৬ নম্বরে ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা সংযোজন করার প্রস্তাব করছি। (২) খ. মাধ্যমিক স্তরের একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীতে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখায়, ক. আবশ্যিক বিষয় ৫ নম্বরে ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা অন্তর্ভূক্ত করার প্রস্তাব করছি। (৩) একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীতে বিজ্ঞান বিভাগের ঐচ্ছিক বিষয়ের ১১ নম্বরে ‘ইসলামী শিক্ষা’ বিষয়টি সংযোজন করার প্রস্তাব করছি। (৪) একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীতে মানবিক বিভাগের নৈর্বাচনিক বিষয় ১ নম্বরে ‘অর্থনীতি’ এর পরিবর্তে ‘অর্থনীতি/ইসলামী অর্থনীতি’ প্রতিস্থাপন করতে হবে এবং ২ নম্বরে ‘সমাজবিজ্ঞান’ এর পরিবর্তে ‘সমাজবিজ্ঞান/সমাজকল্যাণ’ প্রতিস্থাপন করার প্রস্তাব করছি। (৫) একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীতে মানবিক বিভাগে নৈর্বাচনিক-১ ও ঐচিছক-১ বিষয় থেকে ৬. অর্থনীতি, ১০. সমাজকল্যাণ ও ১১. সমাজবিজ্ঞান বিষয়টি বাদ দেয়ার প্রস্তাব করছি। (যেহেতু এগুলো নৈর্বাচনিক বিষয় এর মধ্যে আছে। (৬) ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় নৈর্বাচনিক-১ ও ঐচ্ছিক-১ বিষয়ের তালিকায় ১০ নম্বরে ‘ইসলামী শিক্ষা’ ও ১১. নম্বরে ‘ইসলামী অর্থনীতি ও ইসলামী ব্যাংকিং’ বিষয় দুটি অন্তর্ভূক্ত করার প্রস্তাব করছি। (৭) ভোকেশনাল শিক্ষার নবম ও দশম শ্রেণীতে ক. আবশ্যিক বিষয় ৬ নম্বরে ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা অন্তর্ভূক্ত করতে হবে এবং একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীতে আবশ্যিক বিষয় ৫ নম্বরে ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা অন্তর্ভূক্ত করতে হবে।

সুপারিশ-১৩ঃ মাদ্রাসা শিক্ষাধারায় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবিষয় নির্ধারণের ক্ষেত্রে কুরআন-সুন্নাহর পারদর্শী দেশপ্রেমিক যোগ্য আলেম তৈরি করার জন্য অবশ্যই কুরআন, হাদীস, আকাইদ, ফিক্বহ, আরবী সাহিত্য, ইসলামের ইতিহাস, ইসলামী দর্শন, ইসলামী অর্থনীতি ও নীতিবিজ্ঞানের প্রতি অধিকতর গুরুত্ব দিতে হবে। এ লক্ষ্যে মাদ্রাসা শিক্ষার পাঠ্যক্রম সম্পর্কে আমাদের প্রস্তাবনা নিম্নরূপ।

সুপারিশ-১৪ঃ মাদ্রাসা শিক্ষা যেহেতু ধর্মীয় শিক্ষার বাহন। তাই এ শিক্ষা ধারার দ্বীনি পরিবেশ ঠিক রাখার জন্য শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে পুরুষ মাদ্রাসায় মহিলা কোটা বাধ্যতামূলক করার শর্ত রহিত করতে হবে।

সুপারিশ-১৫ঃ কওমী মাদ্রাসা শিক্ষাধারার ব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রদত্ত প্রতিশ্র“তি অনুযায়ী এ শিক্ষাধারার সাথে সংশ্লিষ্ট শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরামের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করে তাদের মতামত ও সুপারিশ অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে হবে।

সুপারিশ-১৬ঃ খসড়া শিক্ষানীতির ১নং অধ্যায়ে ‘শিক্ষার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য’ শিরোনামে ১নং পয়েন্টে বলা হয়েছে, “শিক্ষার সর্বস্তরে সাংবিধানিক নিশ্চয়তার প্রতিফলন ঘটানো এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অখন্ডতার প্রতি শিক্ষার্থীদের সচেতন করা।” ৪ নং পয়েন্টে বলা হয়েছে “জাতীয় ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ধারা বিকশিত করে প্রজন্ম পরম্পরায় সঞ্চালনের ব্যবস্থা করা”। ৫নং পয়েন্টে বলা হয়েছে “দেশজ আবহ ও উপাদান সম্পৃক্ততার মাধ্যমে শিক্ষাকে শিক্ষার্থীর চিন্তা-চেতনা ও সৃজনশীলতার উজ্জীবন এবং তার জীবন ঘনিষ্ট বিকাশে সহায়তা করা। অপর দিকে ৪ নং অধ্যায়ে মাধ্যমিক শিক্ষা শিরোনামে ১৫ নং পয়েন্টে বলা হয়েছে “ও” লেভের এবং ‘এ’ লেভেন শিক্ষা ব্যবস্থার পাঠ্যক্রম, পরীক্ষা ও মূল্যায়ন যেহেতু একটি বিদেশী ধারায় হয় সেহেতু ‘ও’ এবং ‘এ’ লেভেলকে বিশেষ ব্যবস্থা হিসেবে গণ্য করা হবে। সরকারী অনুমোদন সাপেক্ষে এই শিক্ষা পরিচালিত হবে এবং ‘ও’ লেভেলকে দশম শ্রেণী এবং ‘এ’ লেভেলকে দ্বাদশ শ্রেণীর সমকক্ষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।” কমিটি মনে করে ‘শিক্ষার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য’ শিরোনামে বর্ণিত উক্ত ধারাগুলোর সাথে ৪নং অধ্যায়ের ১৫নং পয়েন্টটি সম্পূর্ণ সংঘর্ষিক বিধায় তা তুলে দিয়ে বর্ণিত শিক্ষার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যে সাথে সামঞ্জস্য রেখে ‘ও’ লেভেল এবং ‘এ’ লেভেল শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা সংগত হবে। পরিশেষে দেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য ও বেশির ভাগ মানুষের ঈমান আকীদার সাথে সামঞ্জস্যশীল একটি জাতীয় শিক্ষানীতি চূড়ান্ত করণে মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে আমরা দৃঢ়ভাবে আশাবাদী।’
কিন্তু আমরা এযাবত কী দেখলাম ? বিশাল জনমত উপেক্ষা করে ধর্ম ও মাদ্রাসাবিরোধী শিক্ষানীতি কার্যকর করার উদ্যোগ নিয়ে জনগণের মনোভাব ও ক্ষোভের মাত্রা পরীক্ষা করার ধৃষ্টতা দেখানো কারো জন্যই কল্যাণ বয়ে আনবে না বলে আমাদের বিশ্বাস। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, বৃটিশ ঔপনিবেশিক শাসকরা আমাদের দেশে যে শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করেছিল তার উদ্দেশ্য ছিল এদেশে তাদের বশংবদ একটি শ্রেণী সৃষ্টি করা। যারা জন্মগত ভাবে বাঙ্গালী বা ভারতীয় হলেও মানসিক ভাবে বৃটিশদের অনুগত শ্রেনীতে পরিনত হবে। আমাদের হাজার বছরের কৃষ্টি, ঐতিহ্য ও ধর্মীয় মূল্যবোধ থেকে বিচ্ছিন্ন করার পাশাপাশি অগ্রসর মান বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে চলার জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা কারিকুলাম প্রণয়ন ও বাস্তবানে তাদের কোন আগ্রহ ছিলনা। ঔপনিবেশিক শাসনাধীনে থাকা, কোন স্বাধীনতা কামী জাতির জাতীয় লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজনীয় শিক্ষা কারিকুলাম এবং শিক্ষানীতির প্রত্যাশা করা অবান্তর।
এদেশের সংখ্যা গরিষ্ট নাগরীক মুসলমান।

আমাদের রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম। ইসলাম বিশ্বমানবতার কল্যাণকামী একটি ধর্ম। একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। নতুন বিশ্ব বাস্তবতার নিরিখে একটি উন্নত মূল্যবোধ ও নৈতিক মান সম্পন্ন শিক্ষা ব্যবস্থা, বাস্তবায়নই হচ্ছে এ সময়ে আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। গুরুত্বপূর্ণ এই মৌলিক রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন খুব সহজ সাধ্য বিষয় নয়। এজন্য দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা এবং সকলের সমন্বিত মতামতের ভিত্তিতেই জাতীয় শিক্ষা নীতি প্রনয়ণ হোক এটাই জাতির প্রত্যাশা।

লেখক : মাওলানা মুহাম্মদ রুহুল আমীন নগরী
পরিচালক : জামিয়া মাদানীয়া নগর চারপাড়া মাদরাসা

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: