সর্বশেষ আপডেট : ১০ মিনিট ৩৩ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

হাতের কাছেই আসামী, তবুও নীরব সিআইডি

7নিউজ ডেস্ক :: কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডে হঠাৎ করেই নিরব হয়ে গেছে পুলিশের তদন্ত বিভাগ সিআইডি। শত যোগাযোগ করেও তনু হত্যার কোন অগ্রগতি সম্বন্ধে জানা যাচ্ছে না। তবে নাম না প্রকাশের শর্তে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেছেন, খুনিদের খুব কাছাকাছি চলে আসা গেছে।

খুনি কারা-এমন প্রশ্নের জবাবে তারা বলছেন, ‘বাইরে থেকে কেউ গিয়ে ওখানে হত্যাকাণ্ড ঘটায়নি। আশপাশের লোকজনই জড়িত।’
এ প্রসঙ্গে পুলিশের মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক দেশবাসীকে খুশির সংবাদ দেবার আশাবাদ ব্যাক্তকরে বলেন, ‘সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আব্দুল কাহ্হার আকন্দের নেতৃত্বে দক্ষ একটি টিম এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করছে। শিগগিরই আমরা দেশবাসীকে ভালো খবর দিতে পারব।’

দায়িত্ব নেয়ার পর সিআইডি ঘটনা সংশ্লিষ্ট সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। ঘটনাস্থলের আশপাশের সেনা কর্মকর্তা, সেনা সদস্যসহ তনুর আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেও এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে।

এদিকে তনু হত্যা মামলা তদন্তে কুমিল্লা সিআইডির (পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ) রহস্যময় আচরণ করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গাজী মো. ইব্রাহিম গত বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত ঢাকায় অবস্থান করেন।

গতকাল তিনি কুমিল্লায় ফিরেছেন। তবে তদন্তের বিষয়ে কোনো কথা বলছেন না। গতকাল এই প্রতিবেদক কথা বলার চেষ্টা করলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়েই তিনি বলেন, ‘তনু হত্যার বিষয়ের কোনো কথা বলব না।’ এরপর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
তনু হত্যাকাণ্ডের পর গত ২৭ মার্চ রাত থেকে রহস্যময়ভাবে নিখোঁজ ছিল তনুর ছোট ভাইয়ের বন্ধু মিজানুর রহমান সোহাগ। ১৬ দিন পর ফিরে এলেও কারা তাকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল, কোথায় রাখা হয়েছিল—এসব বিষয়ে সে কিছুই বলতে পারছে না। সিআইডির কোনো কর্মকর্তা বা তদন্ত কর্মকর্তাও সোহাগের কাছে যাননি।

সোহাগের বোন খালেদা আক্তার জানান, গত ১২ এপ্রিল সোহাগ ফিরে আসার পর দিন বুড়িচং থানার পুলিশ তাদের বাড়িতে গিয়ে কথা বলেছে। সিআইডির কেউ আসেনি, খবরও নেয়নি। তুলে নিয়ে যাওয়ার সময়ের ঘটনা ও ফিরে আসার সময়ের ঘটনা ছাড়া সোহাগ আর কিছু বলতে পারছে না। কারা নিল, কোথায় ছিল—এসব বিষয়ে সে কিছুই জানে না। তার মাথায় প্রচণ্ড ব্যথা, ব্যথায় কাতরায়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, হত্যাকারীদের খুব কাছাকাছি পৌঁছলেও হত্যার মোটিভ নিয়ে এখনো তারা পরিষ্কার নয়। এক্ষেত্রে দ্বিতীয় ময়না তদন্তের রিপোর্ট তাদের হাতে না আসায় তদন্ত শেষ করতে সমস্যা হচ্ছে। রিপোর্ট পেলেই একটা উপসংহারে পৌঁছানো যাবে বলে আশা করছেন তারা। তারা বলছেন, দু’টি কারণে এই হত্যাকাণ্ড হতে পারে।

দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্তের ১৭ দিন পরও প্রতিবেদন দেয়নি কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগ। মামলার তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে তনুর পরিবার।

গত ২০ মার্চ কুমিল্লার সেনানিবাসের ভেতর ও বাসার অদূরে একটি জঙ্গলে পাওয়া যায় তনুর মরদেহ। পুলিশ ও ডিবির পর ৩য় পর্যায়ে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় সিআইডিকে। পাশাপাশি র‌্যাব, পিবিআইসহ অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থাও মামলার তদন্তে সহায়তা করে যাচ্ছে। সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আবদুল কাহ্হার আকন্দকে প্রধান করে গঠন করা হয় মামলার তদন্ত সহায়ক কমিটি।
দীর্ঘ প্রায় এক মাসেও মামলার অগ্রগতি না হওয়ায় গতকাল বিকালে তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বলেন, ‘সিআইডির কর্মকর্তারা আমার মেয়ে তনুর হত্যাকারীদের গ্রেফতারে অনেক আশ্বাস দিয়েছিলেন, কিন্তু আমরা তাদের আশ্বাসের কোনো ফল দেখতে পাচ্ছি না, আশা করি প্রধানমন্ত্রী আমার নিরপরাধ মেয়ের হত্যাকারীদের গ্রেফতারে সহায়তা করবেন।’

তনুর বাবা এয়ার হোসেন কুমিল্লার ময়নামতি ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহকারী। গতকাল রবিবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘আমার তো টাকা-পয়সা নাই। চল্লিশা (চেহলাম) করতে টাকা-পয়সার দরকার আছে না বাবা? দেখি কী করা যায়। চল্লিশা তো করতে হবে।’

মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে এয়ার হোসেন বলেন, ‘গত চার-পাঁচ দিনে কেউ মামলার ব্যাপারে কোনো কথা বলেনি। তদন্ত কর্মকর্তাও কথা বলেননি। আমার আর কী করার আছে বাবা? গরিবের বিচার তো আল্লায় করে। এখন আল্লাহ যদি এর বিচার করে।’

প্রসঙ্গত, গত ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনুর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নামতি সেনানিবাসের পাওয়ার হাউস রোডের পাশের একটি জঙ্গলের মধ্যে মেয়ের লাশ পান এয়ার হোসেন। পরদিন দুপুরে তনুর প্রথম দফা ময়নাতদন্ত করা হয়।

ওই দিন সন্ধ্যার পর কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার মির্জাপুরে গ্রামের বাড়িতে লাশ দাফন করা হয়। এ ঘটনায় রাতে তনুর বাবা কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: