সর্বশেষ আপডেট : ৪১ মিনিট ১৮ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

আদালতে গিয়েও আত্মপক্ষ সমর্থন করলেন না খালেদা

75নিউজ ডেস্ক : দিন ধার্য ছিল আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য। আগের তারিখে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরাও এমন-ই কথা দিয়েছিলেন আদালতকে। খালেদা জিয়া এদিন আদালতেও আসলেন কিন্ত আত্মপক্ষ সমর্থন করলেন না।

জিয়া চেরিট্যাবল ট্রাস্টে দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় প্রধান আসামি বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া আজ রোববার পৃথক দুই আবেদনের অজুহাতে আত্মপক্ষ সমর্থন না করে আবারও সময়ের আবেদন করেন।

বিচারক আবু আহমেদ জমাদার সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য আগামী ২৫ এপ্রিল দিন ধার্য করেন। মামলার অপর আসামিরা ইতিমধ্যে আত্মপক্ষ সমর্থন করেছেন।

এ দিন আদালতে খালেদা জিয়া তদন্ত কর্মকর্তা হারুণ অর রশিদের জবানবন্দি বাতিল করার জন্য দুইটি পৃথক আবেদন করেন। কিন্ত বিচারক দুইটি আবেদন-ই খারিজ করে দেন এবং খালেদা জিয়াকে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য আহ্বান জানান।

কিন্ত খালেদা জিয়া সময় আবেদন করলে আগামী ২৫ এপ্রিল আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য দিন রাখা হয়। আইন মোতাবেক খালেদা নিজের দোষ স্বীকার করলে বিচারক ওই বৈঠকে-ই তার বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করবেন। আর নির্দোষ দাবী করলে যুক্তি-তর্কের জন্য দিন ঠিক করা হবে।

মামলায় এ যাবৎ ৩২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সমাপ্ত হয়েছে। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির দুই মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ বকশিবাজারে অস্থায়ী একটি আদালতে শেষ হয়েছে। আগামী ধার্য তারিখে খালেদা জিয়ার আদালতে হাজির হওয়ার কথা রয়েছে।

গত বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি আদালতের বিচারক খালেদা জিয়াসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারে পরোয়ানা জারি করেছিলেন। এরপর গত ৫ এপ্রিল খালেদা জিয়া আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন।

জামিনপ্রাপ্ত বাকি দুই আসামি হলেন, মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ও ব্যাবসায়ী শরীফ উদ্দিন আহমেদ। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে হত্যার দায়ে মাস দুয়েক আগে ৩টি চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। এ মামলাগুলোতেও শীঘ্রই বিচার শুরু হবে।

বেশ কয়েকটি ধার্য তারিখে খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে মামলার বাদি দুদকের সাক্ষী হারুন অর রশীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। মামলার বাদি দুদকের উপ পরিচালক মো. হারুন অর রশিদ আদালতে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য প্রদান করেন।

জবানবন্দিতে তিনি বলেন, গত ১২ জুন ২০০৬ তারিখে আসামি কাজী সলিমুল হকের নামে ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা এফ ডি আর করে এবং তার নামে নতুন হিসাব নম্বর খুলে সেখানে জমা করা হয়। আর এই টাকাগুলো জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের টাকা।

এর আগে মোট ১৭ বার এ মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণের সময় পেছানো হয়। প্রতিবারই উচ্চ আদালতের অজুহাতে মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ পিছিয়ে দেয়া হয়। সবগুলো তারিখই মামলার রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী দুদকের সহকারী পরিচালক হারুন অর রশীদ আদালতে সাক্ষী না দিয়ে ফিরে যান। জবানবন্দিতে আরও বলা হয়‘‘সোনালী ব্যাংক রমনা শাখা থেকে চলতি হিসাব নং-৫৪১৬ থেকে দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা উত্তোলণ করেন খালেদা জিয়া। যা সৌদি আরবের ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের একটি ডিডির মাধ্যমে সোনালী ব্যাংকে আসে।’

২০১৪ সালের ১৯ মার্চ খালেদা জিয়াসহ মোট ১০ আসামির বিরুদ্ধে দুদকের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চেরিট্যাবল ট্রাস্ট দুর্নীতির দুই মামলায় অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত।

যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হল তারা হলেন, জিয়া চেরিট্যাবল ট্রাস্ট মামলার আসামি বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিস চৌধুরী, নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না, ঢাকা
সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা ও খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার আসামি খালেদা জিয়া এবং তার বড় পুত্র তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যাবসায়ী শরীফ উদ্দিন আহমেদ, ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মামুনুর রহমান।

অভিযোগ গঠনের সময় আসামি শরফুদ্দিন আহমেদ অনুপস্থিত থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। বাকি আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তবে আসামি তারেক রহমান সরকারের অনুমতি নিয়ে দেশের বাইরে আছেন। তাই আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে হাজিরা দেয়ায় তার বিরুদ্ধে কোনো গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়নি বলে সাংবাদিকদের জানান দুদকের আইনজীবী মোশাররাফ হোসেন কাজল।

চার্জ গঠনের পরপরই আসামিপক্ষ চার্জ গঠনকে চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে একটি রিভিশন মামলা দায়ের করেন। উচ্চ আদালত শুনানি শেষে রিভিশন খারিজ করে দেন।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাওঁ থানায় একটি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি খালেদা জিয়াসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পত্র দেয় দুদক। মামলাটির অভিযোগপত্র ওই বছরের ১৫ জানুয়ারি আমলে নিয়েছেন ঢাকার জ্যৈষ্ঠ বিশেষ জজ আদালত।

এ মামলার অপর আসামিরা হলেন, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিস চৌধুরী, নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না, ঢাকা সিটি কর্পেরেমনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা ও খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।

এ মামলায় হারিস চৌধুরী পলাতক রয়েছেন এবং বাকি আসামিরা জামিনে আছেন। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় এ মামলাটি করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এ মামলায় খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ ছয়জনকে আসামি করে ২০১০ সালের ৫ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র দেয় দুদক। এ মামলার অপর আসামিরা হলেন খালেদা জিয়ার বড় পুত্র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল,ব্যাবসায়ী শরীফ উদ্দিন আহমেদ,ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মামুনুর রহমান। উল্লেখ্য শেষের দুইজন বরাবর পলাতক আছেন।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: